Patuli Firing: মধ্যরাতে পাটুলিতে চলল গুলি, বাড়ির ছাদে উঠে হামলা দুষ্কৃতীদের, খুন তৃণমূল সমর্থক
মৃত রাহুলের ভাই বলেন, "আমার কাছে রাত ১টায় ফোন আসে। ওই পার্টিতে যারা ছিল তাঁদের মধ্যে একজনের দাদা আমায় ফোন করেন। আমি মাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ছাদে পুলিশ ছিল। দেখলাম দুজনের দেহ পড়ে আছে। ওইখানে জিৎ-এর স্ত্রীও ছিলেন। আমার দাদা রাহুল ছিলেন। পুলিশ আগে জিৎকে নামাল। দাদাকে যখন দেখেছি তখন আর নেই। জিৎ-ই দাদাকে এত বছর পর ডেকেছিল। কেন হঠাৎ এমন হল?"

কলকাতা: ভোটের বঙ্গে কলকাতায় খুন তৃণমূল সমর্থক (TMC)। ছাদের উপরে বসে মদ্যপানের সময় দুই দলের মধ্যে চলে গোলাগুলি,বোমাবাজি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একজনের। এলাকায় কার্তুজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃতের নাম রাহুল দে (৩৬)। আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে একজন।
জানা যাচ্ছে, রাহুল এবং জিৎ পূর্ব পরিচিত। তবে, দীর্ঘদিন তাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। বুধবার রাতে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাহুল। এরপর জিৎ-এর বাড়ির ছাদে বসেছিলেন সকলে। মদ্যপান করছিলেন বলে অভিযোগ। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদা গুলির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। প্রায় তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। ছাদের উপর বাকি যাঁরা ছিলেন তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে থেকেই রাহুলের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।
রাহুলের ভাই এবং মা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন রাহুল। পাশেই পড়ে ছিলেন জিৎ। দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সাল থেকে জিৎ পাটুলি ছাড়া ছিলেন। একাধিকবার পাটুলি থানার হাতে গ্রেফতার হয়েছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ। তিনি এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের অনুগত সৈনিক হয়ে কাজ শুরু করলেও, পরবর্তীতে কাউন্সিলরের নাম করে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয় এলাকা জুড়ে। এরপর খোদ কাউন্সিলরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। একবার-দু’বার নয়, অন্তত বেশ কয়েকবার থানার হাতে গ্রেফতার হয়েছে এই জিৎ।
এরপরই এলাকার তৃণমূল শিবির থেকে তাঁকে বের করে এলাকা ছাড়া করা হয়। পার্শ্ববর্তী ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে শুরু করে এই জিৎ। তবে সেখানে গিয়েও একই অপরাধে উপযুক্ত হয়ে পড়ে এই যুবক বলে অভিযোগ। নেতাজি নগর থানার হাতেও তাঁকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হতে হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পাটুলির ফুলবাগানে আবার বাবা মায়ের ফ্ল্যাটে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। দাবি ছিল,বাবা এবং মাকে দেখতে আসছে। এলাকায় থাকার জন্য আসছে না।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের আবাসনের ছাদে মদ্যপানের আসর বসানোর জন্য রাহুলকে নিমন্ত্রণ করেন তিনি বলে অভিযোগ। সেই মতোই আসর চলছিল। তখনই জিৎ-রাহুলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা ওই আবাসনে ঢুকে পড়ে ছাদে চলে যায়। সেখানেই পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রাহুলের প্রাণ যায়। জিৎ জখম হয়ে ইএম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, সিন্ডিকেট এবং টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ। তাতেই এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে যায়। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি গোষ্ঠী তৃণমূলের আশ্রিত। এমনকি সাম্প্রতিক কালের ভোট প্রচারের মিছিলেও রাহুল এবং জিৎকে তৃণমূলের পতাকা বহন করতে দেখা গিয়েছে।
