Indian Raiways: অজমের–শিয়ালদহ এক্সপ্রেসে চুরি যাওয়া ৪৩.২০ লক্ষ টাকার রুবি উদ্ধার
Kolkata: এরপর ১৩ থেকে ১৬ অক্টোবর দিল্লির বাইরের সুলতানপুরী এলাকায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযুক্তদের সন্ধান মেলেনি। পরে গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হরিয়ানায় অভিযানে উদ্ধার রুবি।

কলকাতা: অজমের–শিয়ালদহ এক্সপ্রেসে যাত্রীদের লাগেজ থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের রুবি পাথর উদ্ধার করল পূর্ব রেল। রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং জিআরপি-র যৌথ তদন্তে উদ্ধার হয়েছে মোট ৫.৪৪৮ কেজি রুবি পাথর। তবে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ওরফে রোদ্দা-সহ চারজন সন্দেহভাজন এখনও অধরা। তাঁদের খোঁজে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
পূর্ব রেলের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২৯৮৮ নম্বর অজমের–শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের এ-২ কামরায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। অজমের থেকে শিয়ালদহ আসার পথে ওই ট্রেনে চড়ে যাচ্ছিলেন বছর ৫৮-র অলকা বাইদ এবং তাঁর স্বামী ৫৯ বছরের রাকেশ বাইদ।
অভিযোগ, রাকেশবাবু অসুস্থ হয়ে পড়লে এক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং সাহায্যের প্রস্তাব দেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত তাঁদের লাগেজের চেন খুলে দু’টি থলি থেকে মূল্যবান রুবি পাথর চুরি করে। এরপর কাঁকুড়গাছি সিগন্যালের কাছে সঙ্গীদের নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।
৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে রেলমদদে অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্তে নামে শিয়ালদহ জিআরপি। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫(সি) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্তে নামে শিয়ালদহের সিআইবি এবং আরপিএফের যৌথ দল।
তদন্তকারীরা কাঁকুড়গাছি রেলওয়ে কেবিনের কাছে বাগমারি এলাকা এবং বর্ধমান রেল স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। ৯ অক্টোবর সংগৃহীত ফুটেজে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়। পরে অভিযোগকারীরা ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেন। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা ৫ থেকে ৮ অক্টোবর বর্ধমানের একটি গেস্টহাউসে ছিলেন বলে সন্দেহ।
এরপর ১৩ থেকে ১৬ অক্টোবর দিল্লির বাইরের সুলতানপুরী এলাকায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযুক্তদের সন্ধান মেলেনি। পরে গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হরিয়ানায় অভিযানে উদ্ধার রুবি।
পূর্ব রেল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম রেলের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর হরিয়ানার হিসার জেলার হাঁসি এলাকার বাথোল গ্রামে সন্দেহভাজন সন্দীপ ওরফে রোদ্দার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম রেলের ম্যাঙ্গালুরুর আরপিএফ আধিকারিক মনোজ যাদব তদন্তকারী দলকে এই অভিযানে সহযোগিতা করেন।
সেখান থেকেই চুরি যাওয়া সমস্ত রুবি পাথর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া পাথরগুলির মোট ওজন ৫.৪৪৮ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৩.২০ লক্ষ টাকা। স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তদন্তকারী আধিকারিক উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেন।
সাঁসি গ্যাংয়ের যোগের সন্দেহ
এই চুরির ঘটনায় হরিয়ানার সাঁসি গ্যাংয়ের যোগ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। অভিযোগ, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা যাত্রীদের লাগেজের চেন খুলে মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে। তবে, এই ঘটনায় গ্যাংয়ের যোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ। মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ওরফে রোদ্দা-সহ চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ গোয়েন্দাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
