AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Saokat Molla: ‘তারিখ দিয়ে স্কুলের মেয়ে-বাড়ির বউদের তালিকা রেডি থাকত, কোন দিন কাকে লাগবে, গাড়ি পাঠিয়ে তুলে আনত শওকত’, কী চলত জীবনতলা-ক্যানিংয়ে? ভয়ঙ্কর অভিযোগ

Allegation Against Saokat Molla: সে সময়ে প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতা। কিন্তু প্রশাসনের কী ভূমিকা ছিল? নির্যাতিতা বললেন, "কনটিনিউ আমাকে ধর্ষণ করত। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। প্রশাসন বলেছিল. আপনাকে মেরে ফেলা হবে। আপনি চলে যান। থানায় গেলে ভিডিয়ো কল করে আবার ওদেরকেই দেখিতে দিত।" 

Saokat Molla: 'তারিখ দিয়ে স্কুলের মেয়ে-বাড়ির বউদের তালিকা রেডি থাকত, কোন দিন কাকে লাগবে, গাড়ি পাঠিয়ে তুলে আনত শওকত', কী চলত জীবনতলা-ক্যানিংয়ে? ভয়ঙ্কর অভিযোগ
শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগImage Credit: Meta AI
| Edited By: | Updated on: Jul 04, 2026 | 6:22 PM
Share

কলকাতা: ‘নটোরিয়াস ক্রিমিন্যাল’ শওকত মোল্লা আজ জেলে। তাঁর জামিন খারিজ করেছে আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এক গুচ্ছ অভিযোগের মধ্যেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ। কেবল একটা কেস নয়, শওকতের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ। জীবনতলা-ক্যানিং এলাকায় ঠিক কীভাবে মহিলারা তাঁর লালসার শিকার হয়েছেন, সাংবাদিকদের সামনে সেই অভিযোগ সামনে আনলেন আইনজীবী। মুখ খুললেন দুই নির্যাতিতাও।

এক নির্যাতিতার যা অভিযোগ, তা সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। নির্যাতিতার সন্তানকে অপহরণ করে এক বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। আর সন্তানের টোপ দিয়েই এক বছর ধরে সেই নির্যাতিতাকে ধর্ষণ করেছেন শওকতরা। শওকতের সঙ্গে আরও অভিযুক্ত আরও বেশ কয়েকজন। নির্যাতিতা বললেন, “২০১৯ সালের মার্চ মাসের ঘটনা। আমার ছেলেকে অপহরণ করেছিল শওকত মোল্লারা। তারপর আমাকে ধর্ষণ করে। এক বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল আমার ছেলেকে। আর এক বছর ধরেই লাগাতর চলে আমার ওপর নির্যাতন। আমি কেবল আমার ছেলের জন্য যেতাম। যখন যার ইচ্ছা হত, গাড়ি পাঠিয়ে দিত। আমাকে যেতে হত।”

সে সময়ে প্রশাসনেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতা। কিন্তু প্রশাসনের কী ভূমিকা ছিল? নির্যাতিতা বললেন, “কনটিনিউ আমাকে ধর্ষণ করত। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। প্রশাসন বলেছিল. আপনাকে মেরে ফেলা হবে। আপনি চলে যান। থানায় গেলে ভিডিয়ো কল করে আবার ওদেরকেই দেখিতে দিত।”  নির্যাতিতার অভিযোগ, তাঁর ওপর এখনও নজর রাখা হচ্ছে। শওকতের টিমের অনেকেই এখন বাইরে। তাঁরা এখনও লাগাতর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা বলেন, ” এখনও আমাদের ওপর নজর রয়েছে। বাইরে বার হতে পারি না। এখনও শওকতের পরিবার থেকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি শেষে দিদিকে (অভিযোগকারীর গ্রামের এক মহিলা বিজেপি কর্মী, যিনিও নির্যাতনের শিকার) বলেছিলাম।”

নির্যাতিতা সেই মহিলা বিজেপি কর্মী বলেন, “৭ নভেম্বর ২০১৫ সাল। সেদিন দ্রৌপদীর মতো বস্ত্রহরণ আমারও হয়েছিল। আমার ওপর যেভাবে পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে, বলার মতো নয়। আমি সে সময়ে বিজেপির সেক্রেটারি ছিলাম। একটা ছোট স্কুল চালাতাম। বাচ্চা মেয়েগুলোর সম্ভ্রম রক্ষা করতাম। সেটাই ছিল আমার অপরাধ।”

নির্যাতিতাদের আইনজীবী বলেন, “২০১৯ সালের অভিযোগ আজকে কেন? কারণ ওই সময়ে শওকত মোল্লাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জীবনতলা-ক্যানিং এলাকায় করা যেত না। অপকর্ম মেনে নিতে হত। ওরা লিস্ট করে রাখত. কোন দিনে কোন মহিলার প্রয়োজন আছে। নির্দিষ্ট দিনে সেখানে গাড়ি পাঠিয়ে দিত ওরা। তাঁদের যেতে হত। স্কুল শিক্ষিকারাও বাদ যেতেন না।”

শওকতের জমানা শেষ হয়েছে। নির্যাতনের শিকার যাঁরা হয়েছেন, তাঁরা ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল শওকত মোল্লাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যানিংয়ের জীবনতলা বাজারে ঘোরায় পুলিশ। আর শওকতকে এভাবে দেখেই জনগণ বাজিয়ে দেন ভোটবাজারে ভাইরাল হওয়া ‘শওকত তো মাছ চোর’ গানটি!

Follow Us