AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Surendranath Law College: ‘বাথরুমে ছিটকিনি নেই, মেয়েদের কম্প্রোমাইজ করতে বলা হত’, বিস্ফোরক অভিযোগ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্রীদের, ফের বিতর্কে কানকাটা দেবু

Surendranath Law College Protest: কলেজের এক ছাত্রীর অভিযোগ, "দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্রীদের হেনস্থা করত। তৃণমূল আমলে ছাত্রীদের বারবার কম্প্রোমাইজড করার কথা বলে গিয়েছেন শিবাশিস ও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ল কলেজে মেয়েরা এতটাই আনসেফ (অসুরক্ষিত)?গার্লস বাথরুমে ছিটকিনি পর্যন্ত নেই। বাথরুমে যেতে গেলে সঙ্গে একজনকে নিয়ে যেতে হয়। পরিকাঠামোর নামে যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলি কোথায় যাচ্ছে?"

Surendranath Law College: 'বাথরুমে ছিটকিনি নেই, মেয়েদের কম্প্রোমাইজ করতে বলা হত’, বিস্ফোরক অভিযোগ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্রীদের, ফের বিতর্কে কানকাটা দেবু
কলেজের ছাত্রীImage Credit: Tv9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Sep 14, 2026 | 12:13 PM
Share

কলকাতা: মাস তিনেক আগে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের (Surendranath Law College) ইউনিয়ন রুম থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, কলেজের মধ্যেই বিলাসবহুল দুটি ঘরের হদিস মিলেছিল। সেখানে দামি খাট, বিছানা, অ্যাটাচড বাথরুম…কী কী-ই না পাওয়া গিয়েছিল। সেইসময় উঠে এসেছিল দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Debasish Banerjee) তথা কানকাটা দেবুর নাম। এবার আরও একবার তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পড়ুয়ারা। সম্প্রতি, সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে উপস্থিতির হার নিয়ে বিক্ষোভ, ভাইস প্রিন্সিপালকে ঘেরাও, তাঁর পদত্যাগ…গোটা বিষয়ে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই আবহেই আবারও উঠে এসেছে কানকাটা দেবুর নাম। রাজনীতির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সুরেন্দ্রনাথ কলেজকে গাজোয়ারির ডেরা বানিয়েছিলেন কানকাটা দেবু ও তার শাগরেদরা। ছাত্রীদের কম্প্রোমাইজড করতে বলা হত। টিভি ৯ বাংলায় এমনি বিস্ফোরক অভিযোগ কলেজের ছাত্রীদের।

কলেজের এক ছাত্রীর অভিযোগ, “দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্রীদের হেনস্থা করত। তৃণমূল আমলে ছাত্রীদের বারবার কম্প্রোমাইজড করার কথা বলে গিয়েছেন শিবাশিস ও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি ল কলেজে মেয়েরা এতটাই আনসেফ (অসুরক্ষিত)?গার্লস বাথরুমে ছিটকিনি পর্যন্ত নেই। বাথরুমে যেতে গেলে সঙ্গে একজনকে নিয়ে যেতে হয়। পরিকাঠামোর নামে যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেগুলি কোথায় যাচ্ছে?”

কী ধরনের কম্প্রোমাইজড করতে হত?

অভিযোগ, ছাত্রীদের বলা হত কম্প্রোমাইজড না করলে অ্যাটেনডেন্স পাবে না।এরকম থ্রেট দিতেন দেবাশিস ও শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কলেজের গেটের সামনেই বসে থাকতেন। কোনও ছাত্রী আসলে নাম জিজ্ঞেস করা হতো। ভাইস প্রিন্সিপাল বলতেন, ওদের বিরুদ্ধে গেলে চলবে না। ওরাই যা সিদ্ধান্ত নেবেন।

কী বলছেন ভাইস প্রিন্সিপ্যাল?

এদিকে, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম। সেক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশ্ন, কেন আগে পদক্ষেপ করা হয়নি? তাঁরা বলেন, “ভাইস প্রিন্সিপাল ম্যাডাম যে বলেছেন, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কলেজে হস্তক্ষেপ করতেন। তাহলে কেন পুলিশে অভিযোগ করেননি। দেবাশিস, শিবাশিসের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হয়নি। আমরা ছাত্র, কোনও দুষ্কৃতী নই। নিয়মের সঠিক স্বচ্ছ প্রয়োগ চাই। আমাদের দাবি স্পষ্ট।”

সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুমকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্তত এমনই দাবি উপাধ্যক্ষের। তাঁকে জোর করে ইস্তফাপত্রে সই করানো হয়, তবে তিনি অফিশিয়ালি পদত্যাগ করেননি। তিনি আবারও কলেজে যাবেন। এ দিকে, পড়ুয়ারা এখনও অনড় উপাধক্ষ্যের ইস্তফা নিয়ে। সোমবার পড়ুয়াদের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানে তাঁরা বলেন, “চারিদিকে বলা হচ্ছে আমরা নাকি ক্লাস ফাঁকি দিতে চাই। বার কাউন্সিলের ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির নিয়মের জন্য ভয় পেয়ে আমরা ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগ চাইছি। সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। এই প্রতিবাদ নিয়ম বাতিলের বিরুদ্ধে নয়। এই প্রতিবাদ কলেজের চরম প্রশাসনিক অযোগ্যতা, আর্থিক শোষণ, পরিকাঠামোগত দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমাদের কলেজে ৭০০-র বেশি ছাত্র। খুব বেশি হলে ১০ থেকে ১৫ জন কলিজিয়েট হয়েছে। বাকিরা ডিস কলিজিয়েট। এটা কি সম্ভব হতে পারে? ইআরপি মডিউল যেটা বলা হচ্ছে, তার অ্যাক্সেস রয়েছে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে। কারচুপি সে নিজেই করেছে। আমাদের কোনও দায়বদ্ধতা নই। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ক্লাস থাকে। কিন্তু ৭টার আগে গেটই খোলে না। সেখানে একটা ক্লাসের অ্যাটেনডেন্স কমে যায়। তৃণমূলের আমলে তাঁর দর্শনও পাওয়া যেত না।”

নিজেদের দাবিগুলিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, “অযোগ্যতা ও দুর্নীতির দায়ে ভাইস প্রিন্সিপালকে অবিলম্বে পদত্যাগের ব্যবস্থা করা ডিজিট্যাল এন্ট্রির কারচুপি মানা হবে না। অ্যাটেনডেন্স ফিজিক্যাল রেকর্ড জনসমক্ষে আনতে হবে। ফি কাঠামো অন্যান্য সরকারি ল কলেজের সমতুল্য করতে হবে। অ্যাকাডেমিক ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেললে চলবে না।”

Follow Us