বিশ্লেষণ: আজ নীল রঙে মিশে গেছে ভেজাল…কারা চড়েন জেনে নিন

সুমন মহাপাত্র | Edited By: ঋদ্ধীশ দত্ত

Jul 02, 2021 | 6:37 PM

TV9 Explained: একনজরে দেখে নেওয়া যাক, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স, দমকল ছাড়া কারা এই বাড়তি সুবিধা পান?

বিশ্লেষণ: আজ নীল রঙে মিশে গেছে ভেজাল...কারা চড়েন জেনে নিন
অলংকরণ-অভীক দেবনাথ

Follow Us

কলকাতা: গাড়ির মাথায় লাল বা নীলবাতি। কোনওটা ফ্ল্যাশার ছাড়া আবার কোনওটা ফ্ল্যাশার দিয়ে। সব মিলিয়ে গাড়ির মাথায় বাতি মানেই ক্ষমতা। ভিড় রাস্তায় আগে ছেড়ে দিতে হবে বাতি লাগানো গাড়িকে। জরুরি ক্ষেত্রে ছাড়াও অনেক সময়ই পারিবারিক ক্ষেত্রে শহরের রাস্তায় নীলবাতি-লালবাতি নিয়ে ঘুরে বেড়ান বহু পদজাদা আমলা, মন্ত্রীরা। সেখান থেকে ট্রাফিক জ্যামেরও অভিযোগ ওঠে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, লালবাতি বা নীলবাতি মানেই বিপুল ক্ষমতা। গাড়িতে নীলবাতি লাগিয়ে নিজেকে ক্ষমতাশীল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেব। ভুয়ো আইএএস অফিসার সেজে একাধিক প্রতারণা, জালিয়াতি করেছেন তিনি। অন্তত তাঁর বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ।

মামলা হাইকোর্টে যেতে বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছিলেন আদৌ কি নীলবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ানোর অধিকার আছে আইএএস অফিসারদের? তারপর থেকেই সক্রিয় লালবাজার। লালবাতি, নীলবাতিদের ওপর নজরদারি বেড়েছে। ধরাও পড়েছে আরও একটি ভুয়ো নীলবাতির গাড়ি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল রাজ্যকে কড়া ভাষায় ধমক দিয়ে বলেছেন, “যদি ধরেও নিই যে আইএএস ছিলেন দেবাঞ্জন। তাহলেও নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে কী ভাবে ঘুরলেন তিনি? কী করছিল পুলিশ?”

স্বভাবতই এই মন্তব্যের পর কার কারা লালবাতি বা নীলবাতি গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন? সেই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স, দমকল ছাড়া কারা এই বাড়তি সুবিধা পান? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০১৪ সালের ১৯ জুনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ ধরনের বাতি লাগানো গাড়ি রাজ্য জুড়ে ঘুরে বেড়ায়।

১. ফ্ল্যাশার-যুক্ত লালবাতির গাড়ি: এই গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, বিধানসভার স্পিকার. রাজ্য সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বিচারপতিরা।

২. ফ্ল্যাশার-বিহীন লালবাতির গাড়ি: এই গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রীরা, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার, কলকাতা পুরসভার মেয়র, রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব।

৩. ফ্ল্যাশার-যুক্ত নীলবাতির গাড়ি: এই গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন সংসদ বিষয়ক সচিব, পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেল, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল, রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার, রাজ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান, সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান, অনগ্রসর সম্প্রদায় কমিশনের চেয়ারম্যান, জনপরিষেবা কমিশনের চেয়ারম্যান।

৪. ফ্ল্যাশার-বিহীন নীলবাতির গাড়ি: এই গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, অন্যান্য সচিবরা, কমার্সিয়াল ট্যাক্স অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্করণ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল, মানবধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা, পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ও অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিভিশনাল কমিশনাররা, নিজের এলাকায় ইনসপেক্টর জেনারেল ও ডেপুটি ইনসপেক্টর জেনারেল, জেলায় জেলাশাসক ও এসপি, হাওড়া, শিলিগুড়ি ও আসানসোলের মেয়ররা, বিধাননগর পুরসভার মেয়র, কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র, রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান, আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, রাজ্যের তথ্য কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, ভিজিল্যান্স কমিশনার, রাজ্যের লোকায়ুক্ত, জেলা পরিষদের সভাপতিরা, জেলা আদালতের বিচারপতিরা, কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, সিটি সেশন কোর্টের প্রধান বিচারক, কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপাল কমিশনার, ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান, উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন: বিশ্লেষণ: ১০ লক্ষ টাকার ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ কারা পাবেন? কী ভাবে করবেন আবেদন?

আরও পড়ুন: বিশ্লেষণ: ডায়েরির পাতার ভাঁজে আডবাণী, যশবন্তদের নাম, কী সেই ‘হাওয়ালা-জৈন’ মামলা?

 

TV9 EXCLUSIVE

 

Next Article