West Bengal Election 2026: আপনি ভোটে দাঁড়াতে চান? কত টাকা খরচ করতে হবে জানেন?
West Bengal Assembly Elections: গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও সাধারণ নাগরিকেরই নির্বাচনে লড়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে, ব্যালট পেপার বা ইভিএম-এ নিজের নাম তোলার আগে প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমানত হিসেবে জমা রাখতে হয়।

ভোটের আঁচে একেবারে টগবগিয়ে ফুটছে বাংলা। বাস হোক ট্রেন পাড়ার ঠেক হোক বা চায়ের আড্ড, সব আলোচনাই এখন গিয়ে মিশছে ভোটের অঙ্কে। কমবেশি সব রাজনৈতিক দলই তাঁদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছি। যদিও তারপরেও ক্ষোভ-বিক্ষোভ, মান-অভিমান চলছেই। টিকিট না পেয়ে দল ছেড়ে নির্দল হয়েও দাঁড়াতে চাইছেন কেউ কেউ। এদিকে আবার প্রতি ভোটেই দেখা যায় দল চর্চায় থাকা বাম-ডান দলগুলি বাদ দিয়েও ইভিএমে থাকে লম্বা লিস্ট। কারও দল আছে, কেউ আবার নির্দল। এই নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে অনেকেই হয়তো ভাবেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ভোটে দাঁড়াতে গেলে ঠিক কী কী নিয়মকানুন মানতে হয়? কত টাকাই বা জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনের কাছে?
গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও সাধারণ নাগরিকেরই নির্বাচনে লড়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে, ব্যালট পেপার বা ইভিএম-এ নিজের নাম তোলার আগে প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমানত হিসেবে জমা রাখতে হয়।
বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে গেলে একজন ব্যক্তিকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে। বিধানসভা ভোটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে রাজ্যের যে কোনও একটি কেন্দ্রের ভোটার হতেই হবে। একইসঙ্গে ক্রিমিন্যাল রেকর্ডের তথ্য জমা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনার বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হোক বা না হোক আপনাকে সেই তথ্য দিতে হবে। কোনও অভিযোগ না থাকলে সেটাও জানাতে হবে। দিতে হবে আয় ব্যয়ের হিসেব। পাশাপাশি জমা দিতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতাও।
একইসঙ্গে নির্বাচনে লড়তে গেলে নমিনেশন বা মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাও জমা রাখতে হয়। বিধানসভা নির্বাচনের সময় কোনও প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জমানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনের সময় যে কোনও দলের প্রার্থীকেই ২৫ হাজার টাকা কমিশনের কাছে জমা রাখতে হয়। তবে তফশিলি জাতি ও উপজাতি প্রার্থীদের জন্য এই অর্থের পরিমাণ অনেকটাই কম হয়।
কখন ‘জমানত জব্দ’ হয়?
নির্বাচনের পর ভোট গণনার সময় প্রায়শই শোনা যায়, অমুক প্রার্থীর “জমানত জব্দ” হয়েছে। এর একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক নিয়ম রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী যে কেন্দ্রে লড়ছেন সেই কেন্দ্রে যত বৈধ ভোট পড়েছে তার ১/৬ অংশ (অর্থাৎ ছয় ভাগের এক ভাগ বা প্রায় ১৬.৬৭ শতাংশ) ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর জমা রাখা ওই ১০ হাজার বা ২৫ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশন বাজেয়াপ্ত করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় কোনও কেন্দ্রে যদি ১ হাজার ভোটার থাকেন তাহলে প্রার্থীকে ১৬০ ভোট পেতেই হবে। নাহলেই জমানত জব্দ। এই আইনি প্রক্রিয়াটিকেই সাধারণ ভাষায় ‘জমানত জব্দ’ হওয়া বলা হয়। মূলত নির্বাচনে যাতে অকারণে প্রার্থীর সংখ্যা না বাড়ে এবং শুধুমাত্র যোগ্য ও জনসমর্থন থাকা প্রার্থীরাই লড়েন, তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম চালু রয়েছে।
