Jadavpur University: ‘কিষেণজি দীর্ঘজীবী হোন’, ঠিক কোন কোন লেখা ঢাকা হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে?
JU: অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা নানা ধরনের দেওয়াল লিখন দেখে থাকি। সেটা বাইরে থেকে লিখছে নাকি অন্য কেউ বাইরে থেকে এসে লিখছে তা বলে উঠতে পারছি না। তবে মনে করি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়।"

কলকাতা: কোথাও কালো কালি, কোথাও বা লাল…বড় বড় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা ছিল ‘বিতর্কিত স্লোগান’।বিজেপি সরকারের দাবি, দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ দেওয়ালের কোনায়-কোনায়। তবে রাষ্ট্রবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকতে এমন কোনও কাজকর্ম করা যাবে না। শুক্রবার এই মর্মে যাদবপুর ৮ বি-তে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর শনিবার রাতেই দেখা গেল কয়েকটি বিতর্কিত লেখার উপর সাদা চুনকাম করা হল।
কোন-কোন লেখা মুলত ঢেকে দেওয়া হয়েছে?
যাদবপুরের ওপেন এয়ার থিয়েটারের (OAT) দেওয়ালে আগে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র স্বৈরাচারীদের জন্য কখনওই নয়, তাদের জন্য মাথায় বন্দুকের গুলিই যথার্থ’ (Fascists do not deserve democracy, they deserve a bullet in the head), ‘সিপিআই মাওবাদী শহিদরা দীর্ঘজীবী হোন’ (Long Live the Martyrs of CPI maoist), আবার একটি দেওয়ালে লেখা ‘Long Live Kisenji’ (কিষেণজি দীর্ঘজীবী হন)।
মূলত, ABVP ছাত্র সংগঠনের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরেই নকশালপন্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের দেশবিরোধী স্লোগান লিখে রাখে। ক্যাম্পাসের একাধিক জায়গায় এমন লেখা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবিভিপির মুখপাত্র শুভজিৎ সাহা একটি দেওয়াল দেখিয়ে বলেন, এখানে লং লিভ কমরেড কিষাণজি লেখা ছিল। আরও বাকি জায়গা থেকে এই লেখাগুলি মুছে ফেলা হয়েছে কি না, দেখতে হবে। এরপর শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘জঞ্জাল সাফ করবেন’। এরপর দেখা গেল রাতারাতি বিতর্কিত স্লোগানগুলি সাদা কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা নানা ধরনের দেওয়াল লিখন দেখে থাকি। সেটা বাইরে থেকে লিখছে নাকি অন্য কেউ বাইরে থেকে এসে লিখছে তা বলে উঠতে পারছি না। তবে মনে করি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ২০১১ সালের আগে তৎকালীন রেজিস্ট্রার, মাস্টারমশাইরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে কিছু লেখা থাকবে না, যদি ছাত্রদের কিছু লিখতে হয় তাহলে চাটাই আর নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া ছিল সেখানে লেখা হবে। পড়ুয়ারাও সেটা মেনে চলত। ২০১১ সালের পর দেখলাম নিয়ম শৃঙ্খলায় একত্রিত করতে পারলেন না।”
