CPIM: জোটের পাঁকে ক্রমেই আটকে যাচ্ছে সিপিএম?
CPIM in Bengal: সিপিএম জোটের পাঁকে আটকে পড়ায় কটাক্ষ করতে ছাড়ছে বিরোধীরা। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, “সিপিএমের অবস্থা রাস্তার ভিখিরির থেকেও খারাপ। আমার কোনও পেশাকে ছোট করবার অভিপ্রায় নেই, কিন্তু সিপিএমের অবস্থা রাস্তার ভিখিরির থেকেও খারাপ।”

ভোটের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে তুঙ্গে জোটের আলোচনা। যার কেন্দ্রেই অবশ্যই সেই সিপিএম। আগেই তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে জোটের জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যা নিয়ে প্রথমে দল পরে বাম শরিকদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। যা দেখেই অনেকেই বলছেন আপাতত বঙ্গ বামে হুমায়ুন পর্বের সমাপ্তি হয়েছে। কিন্তু জোটের জটিলতা তাতে কাটেনি। কারণ, ছাব্বিশের ভোটে বামেদের সঙ্গ ছেড়ে একলা চলোর ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। এই জোট হয়েও না হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে দায় ঠেলাঠেলি। সেলিম বলছেন, “নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি যাঁকে করা হয়েছিল তার চয়েস থেকেই বোঝা গিয়েছিল তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।” পাল্টা শুভঙ্কর সরকার বলছেন, “আগে জোট যখন করেছিলাম সেটাও পার্টির সমষ্ঠিগত সিদ্ধান্তে হয়েছে। আজও যা সিদ্ধান্ত সেটা সবারই সিদ্ধান্ত।”
জোটের পাঁকে সিপিএম
কংগ্রেস সঙ্গ ছাড়তেই পুরোদমে দর কষাকষি শুরু করে দিয়েছে আইএসএফ। সূত্রের খবর, আইএসএফ আগের থেকে বেশি আসনে লড়তে চাইছে। তাও আবার ৫০। আগের বার অর্থাৎ ২০২১ সালে তাঁরা লড়াই করেছিল ৩২ আসনে। কিন্তু আইএসএফের জন্য বাড়তি আসন ছাড়তে নারাজ ফরওয়ার্ড ব্লক সহ বাকি বাম শরিকরা। এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের উপর চাপ বাড়িয়ে হুমায়ুনের দলের সঙ্গে সমান্তরাল আলোচনা শুরু করেছে আইএসএফ। নওশাদ বলছেন, “আমাদের রাজ্য কমিটির মিটিংয়ে নিশ্চিতভাবে হুমায়ুনের দল নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে আলোচনা করিনি কারণ, ওই পার্টির চেয়ারম্যান বেশ কিছু অবান্তর কথা বলেছিলেন। এখন তিনি সেই কথা প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ফলে এখন আলোচনা করা যেতেই পারে।”
বড় দাবি মিমের
এখানেই শেষ নয় সিপিএমের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মিম। জোটের প্রস্তাব নিয়ে মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কিকে নাকি ফোন করেছে সিপিএম। ইমরান বলছেন, “আমার কাছে ফোন এসেছিল। আমাদের সঙ্গে ওনারা বসতে চাইছেন। নিশ্চয় বসব। আমি মতামত জানব ওনাদের। কলকাতা বা মুর্শিদাবাদ যেখানেই বসতে চান সেখানেই বসব।” সত্যিই তাহলে মিটিং করবে বামেরা? সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলছেন, “রাম শ্য়াম যদু মধু যে যা বলবে তাঁদেরই কথার উত্তর দিতে হবে নাকি! কোনও মানে আছে বলে মনে হয়। মিমের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সিপিএম লাফাচ্ছে এটা সত্য নয়।”
এদিকে আবার হুমায়ুন বলছেন, জোট হলে জোটের নেতা তিনি সেলিমকেই মানবেন। সঙ্গে আবার এও বলছেন, “জোট হলে তো আমাদের সিট শেয়ারিং কমে যাবে। তবে যতই কমুক, আমি ১৩৫ এর নিচে নামব না। যদি জোট না হয় তাহলে আমি একাই ১৮২ আসনে লড়ব।”
সিপিএম জোটের পাঁকে আটকে পড়ায় কটাক্ষ করতে ছাড়ছে বিরোধীরা। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, “সিপিএমের অবস্থা রাস্তার ভিখিরির থেকেও খারাপ। আমার কোনও পেশাকে ছোট করবার অভিপ্রায় নেই, কিন্তু সিপিএমের অবস্থা রাস্তার ভিখিরির থেকেও খারাপ। সবার দরজায় দরজায় ভিক্ষা করতে যাচ্ছে।”
