ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি বাড়ান এভাবে
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত মানসিক চ্যালেঞ্জ মস্তিষ্কের স্নায়ু সংযোগকে মজবুত করে। ধাঁধা সমাধান, নতুন কিছু শেখা, এমনকি নিয়মিত বই পড়াও স্নায়ুর নতুন সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে। একে বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’—অর্থাৎ মস্তিষ্কের নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। বয়স বাড়লেও এই ক্ষমতা একেবারেই চলে যায়না।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চশমা খুঁজতে গিয়ে যদি ফ্রিজের উপর পান, কিংবা পরিচিত কারও নাম হঠাৎ মনে না পড়ে—তখনই কি মনে হয়, “বয়স বাড়ছে”? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবটাই বয়সের দোষ নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনই অনেক সময় মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। আবার সেই জীবনযাপনই তাকে ফের চাঙ্গাও করতে পারে।তবে তার জন্য মেনে চলতে হবে বেশ কিছু অভ্যাস।
কীভাবে ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়াবেন?
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত মানসিক চ্যালেঞ্জ মস্তিষ্কের স্নায়ু সংযোগকে মজবুত করে। ধাঁধা সমাধান, নতুন কিছু শেখা, এমনকি নিয়মিত বই পড়াও স্নায়ুর নতুন সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে। একে বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’—অর্থাৎ মস্তিষ্কের নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। বয়স বাড়লেও এই ক্ষমতা একেবারেই চলে যায়না।
শুধু মানসিক চর্চা নয়, শরীরচর্চার সঙ্গেও মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক আছে। আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজির রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা দৌড় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। এতে স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত হয়। নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম হিপোক্যাম্পাসের আকারও বাড়াতে পারে—যার ফলে স্মৃতি শক্তি হবে আরও মজবুত।
খাবারের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।
মাছ, অলিভ অয়েল, বাদাম, শাকসবজি খান। ২০২৩ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে। এক খাবারে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা স্নায়ুকোষের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, দীর্ঘদিন মদ্যপানে স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কা বাড়ে। ধূমপান রক্তনালিকে সংকুচিত করে, ফলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না।
ঘুম নিয়েও রয়েছে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছেন গবেষকরা। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। গভীর ঘুমোলে ব্রেন দিনের অপ্রয়োজনীয় তথ্য ছেঁকে ফেলে, গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি সংরক্ষণ করে। আর মন ভালো রাখতে পরিবার বন্ধু বান্ধবদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিন। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে আলাদা কোনও জাদুমন্ত্র নেই। নিয়মিত শরীর চর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম আর আনন্দে ভরা জীবন থাকলেই আপনার স্মৃতি শক্তি ভালো থাকবে।
