AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

কাটা নাকি আস্ত ফল, কোনটা ঠাকুরকে দেওয়া উচিত? শাস্ত্র বলছে…

সনাতন ধর্মে দেব-দেবীর পুজোয় ফল নিবেদন করা অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি আচার। কিন্তু ঘরে পূজা দেওয়ার সময় বা প্রতিদিনের ঠাকুর দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই একটা সাধারণ বিষয়ে বড় দ্বিধায় পড়েন— ঠাকুরকে ফল কি আস্ত দেওয়া উচিত, নাকি কেটে টুকরো করে দেওয়া ভালো? অনেকেই মনে করেন আস্ত ফল দেওয়াই শুদ্ধ, আবার কেউ কেউ প্রসাদ বণ্টনের সুবিধার্থে ফল কেটেই নিবেদন করেন। তবে এই বিষয়ে হিন্দু শাস্ত্র এবং বাস্তুশাস্ত্রের কিন্তু অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। ভুল পদ্ধতিতে ফল নিবেদন করলে পূজার পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাহলে দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে কোন নিয়মটি মেনে চলা উচিত? চলুন জেনে নেওয়া যাক শাস্ত্র কী বলছে।

| Updated on: Jun 15, 2026 | 4:02 PM
Share
শাস্ত্র মতে, ঈশ্বরকে সর্বদা পূর্ণাঙ্গ বা 'অখণ্ড' (আস্ত) বস্তু উৎসর্গ করা সবচেয়ে শ্রেয়। ফল কাটার পর তা খণ্ডিত হয়ে যায়। তাই সম্ভব হলে পুজোর সময় আস্ত ফল নিবেদন করাই শাস্ত্রসম্মত ও উত্তম বলে মনে করা হয়।

শাস্ত্র মতে, ঈশ্বরকে সর্বদা পূর্ণাঙ্গ বা 'অখণ্ড' (আস্ত) বস্তু উৎসর্গ করা সবচেয়ে শ্রেয়। ফল কাটার পর তা খণ্ডিত হয়ে যায়। তাই সম্ভব হলে পুজোর সময় আস্ত ফল নিবেদন করাই শাস্ত্রসম্মত ও উত্তম বলে মনে করা হয়।

1 / 8
ফল কাটার জন্য আমরা যে ছুরি বঁটি বা পাত্র ব্যবহার করি, তা যদি সম্পূর্ণ শুদ্ধ না হয়, তবে ফল অশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কাটার সময় অসাবধানতাবশত মুখের লালা বা হাতের স্পর্শে তা উচ্ছিষ্ট হতে পারে, যা পুজোয় নিষিদ্ধ।

ফল কাটার জন্য আমরা যে ছুরি বঁটি বা পাত্র ব্যবহার করি, তা যদি সম্পূর্ণ শুদ্ধ না হয়, তবে ফল অশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কাটার সময় অসাবধানতাবশত মুখের লালা বা হাতের স্পর্শে তা উচ্ছিষ্ট হতে পারে, যা পুজোয় নিষিদ্ধ।

2 / 8
 শাস্ত্রীয় ও আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ফল কাটার পর তা বেশিক্ষণ খোলা রাখলে তাতে বাতাস ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে 'তামসিক' গুণ বৃদ্ধি পায়। ঈশ্বরকে সর্বদা 'সাত্ত্বিক' আহার উৎসর্গ করতে হয়, তাই কাটা ফল অনেক সময় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শাস্ত্রীয় ও আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ফল কাটার পর তা বেশিক্ষণ খোলা রাখলে তাতে বাতাস ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে 'তামসিক' গুণ বৃদ্ধি পায়। ঈশ্বরকে সর্বদা 'সাত্ত্বিক' আহার উৎসর্গ করতে হয়, তাই কাটা ফল অনেক সময় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

3 / 8
সনাতন ধর্মে 'ভাব' বা ভক্তি সবচেয়ে বড়। আমরা পরমেশ্বরকে আমাদের শ্রেষ্ঠ জিনিসটি দিতে চাই। কাটার পর ফলের সতেজতা কিছুটা কমে যায়। তাই মনে করা হয়, ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ অক্ষত এবং সতেজ ফল দেওয়াই আমাদের ভক্তির বহিঃপ্রকাশ।

সনাতন ধর্মে 'ভাব' বা ভক্তি সবচেয়ে বড়। আমরা পরমেশ্বরকে আমাদের শ্রেষ্ঠ জিনিসটি দিতে চাই। কাটার পর ফলের সতেজতা কিছুটা কমে যায়। তাই মনে করা হয়, ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ অক্ষত এবং সতেজ ফল দেওয়াই আমাদের ভক্তির বহিঃপ্রকাশ।

4 / 8
কোনও বিশেষ পুজো বা যজ্ঞের বড় নৈবেদ্য সাজানোর সময় ফল কেটে দেওয়ার চল রয়েছে। তবে শাস্ত্র অনুযায়ী, ফল কাটার পর তা বেশিক্ষণ ফেলে না রেখে অবিলম্বে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ঠাকুরকে উৎসর্গ করা উচিত, যাতে তার পবিত্রতা নষ্ট না হয়।

কোনও বিশেষ পুজো বা যজ্ঞের বড় নৈবেদ্য সাজানোর সময় ফল কেটে দেওয়ার চল রয়েছে। তবে শাস্ত্র অনুযায়ী, ফল কাটার পর তা বেশিক্ষণ ফেলে না রেখে অবিলম্বে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ঠাকুরকে উৎসর্গ করা উচিত, যাতে তার পবিত্রতা নষ্ট না হয়।

5 / 8
যদি কোনও কারণে ফল কেটে দিতেই হয়, তবে শাস্ত্রে তা শুদ্ধ করার উপায়ও বলা আছে। ফল কাটার পর তাতে গঙ্গাজল ছেটানো এবং একটি তুলসী পাতা অর্পণ করা আবশ্যিক। তুলসী পাতার ছোঁয়ায় যেকোনো খাদ্যের দোষ কেটে যায় এবং তা পরমেশ্বরের গ্রহণের যোগ্য হয়।

যদি কোনও কারণে ফল কেটে দিতেই হয়, তবে শাস্ত্রে তা শুদ্ধ করার উপায়ও বলা আছে। ফল কাটার পর তাতে গঙ্গাজল ছেটানো এবং একটি তুলসী পাতা অর্পণ করা আবশ্যিক। তুলসী পাতার ছোঁয়ায় যেকোনো খাদ্যের দোষ কেটে যায় এবং তা পরমেশ্বরের গ্রহণের যোগ্য হয়।

6 / 8
সিন্নি, পঞ্চামৃত বা ফলমাখানো প্রসাদ তৈরির সময় ফল কাটার নিয়ম শাস্ত্রে স্বীকৃত। কারণ সেখানে বিভিন্ন উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি নতুন 'ভোগ' তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই কাজ করার সময় সম্পূর্ণ শুচিতা ও শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করা বাধ্যতামূলক।

সিন্নি, পঞ্চামৃত বা ফলমাখানো প্রসাদ তৈরির সময় ফল কাটার নিয়ম শাস্ত্রে স্বীকৃত। কারণ সেখানে বিভিন্ন উপাদান একসাথে মিশিয়ে একটি নতুন 'ভোগ' তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই কাজ করার সময় সম্পূর্ণ শুচিতা ও শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করা বাধ্যতামূলক।

7 / 8
শাস্ত্রের কঠিন নিয়মের পাশাপাশি বলা হয়েছে, "পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি"। অর্থাৎ, নিয়ম যাই হোক না কেন, কোনো ভক্ত যদি অত্যন্ত শুদ্ধ মনে এবং গভীর ভালোবাসায় ফল কেটেও ভগবানকে নিবেদন করেন, ঈশ্বর তাঁর সেই আন্তরিক ভক্তিই গ্রহণ করেন।

শাস্ত্রের কঠিন নিয়মের পাশাপাশি বলা হয়েছে, "পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি"। অর্থাৎ, নিয়ম যাই হোক না কেন, কোনো ভক্ত যদি অত্যন্ত শুদ্ধ মনে এবং গভীর ভালোবাসায় ফল কেটেও ভগবানকে নিবেদন করেন, ঈশ্বর তাঁর সেই আন্তরিক ভক্তিই গ্রহণ করেন।

8 / 8
Follow Us