রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, গান্ধীজি, আম্বেদকরের ‘কর্তব্য’ পথে সত্যিই কি আমরা হাঁটছি?
স্বামী বিবেকানন্দ ভারতকে শক্তিশালী মানুষের দেশ হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্য না পাওয়া পর্যন্ত থেম না।” এই কথা শুধু তরুণদের উদ্দেশে নয়, বলে গিয়েছেন গোটা সমাজের জন্য। না থেমে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কি সত্যিই এগিয়ে চলতে পারছেন সকলে? অনেকে চাইলেও সমাজের বাধার ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

ভারতের ইতিহাসে এক গর্বের দিন ২৬ জানুয়ারি। এই দিনেই দেশ পেয়েছিল তার নিজস্ব সংবিধান, আর আমরা পেয়েছিলাম সাধারণ নাগরিক হিসেবে মর্যাদার স্বীকৃতি। কিন্তু আজ সাধারণতন্ত্র দিবসে দাঁড়িয়ে শুধু কুচকাওয়াজ বা পতাকা উত্তোলনই কি যথেষ্ট? সাধারণ মানুষের জন্য বিখ্যাত মণীষিরা অনেক কিছুই বলে গেছেন। বাস্তব জীবনে সেই মতাদর্শ কি এখনও মেনে চলেন সকলে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একসময় যে ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেখানে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ ছিল না। তিনি লিখেছিলেন,“সংকীর্ণতার প্রাচীর ভেঙে যেখানে মানবতা মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারে সেই দেশই আমার দেশ।” আবার কবিগুরু বলেছিলেন, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”। আজ বাস্তব জীবনে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই কথা বলতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ছেন। সামাজিক মাধ্যমে মত দিলেই আক্রমণ, কারোর মতের বিরুদ্ধে কথা বললেই ট্রোল। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করেন চুপ থাকাই শ্রেয় । এটা আইনের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু কিছু সময় প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের মনের বিরুদ্ধে। যেখানে সংবিধান অনুযায়ী প্রশ্ন করা, নিজের মত দেওয়াই নাগরিকের শক্তি।
স্বামী বিবেকানন্দ ভারতকে শক্তিশালী মানুষের দেশ হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্য না পাওয়া পর্যন্ত থেম না।” এই কথা শুধু তরুণদের উদ্দেশে নয়, বলে গিয়েছেন গোটা সমাজের জন্য। না থেমে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কি সত্যিই এগিয়ে চলতে পারছেন সকলে? অনেকে চাইলেও সমাজের বাধার ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
সংবিধান রচয়িতা ড: বি. আর. আম্বেদকর খুব বাস্তববাদী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন “সংবিধান যত ভালোই হোক না কেন, যাঁরা তা প্রয়োগ করবেন তাঁরা যদি ভালো না হয়, তবে সংবিধান ব্যর্থ হবে।” আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আম্বেদকরের কথা কি আমরা সত্যিই মন থেকে মেনে চলছি?
মহাত্মা গান্ধী দেশকে বিচার করার জন্য কঠিন মানদণ্ড দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন “কোনো সমাজের সভ্যতা বোঝা যায় সেই সমাজ তার দুর্বল মানুষদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে।” আজ সমাজের প্রান্তে থাকা মানুষদের দিকে তাকালেই অনেকেরই মনে হয় আমরা কি মহাত্মা গান্ধীর কথা মাথায় রেখেছি?
তবে পুরো অন্ধকার নয় আজকের ছবি। যখন নাগরিকরা প্রশ্ন তোলে, আদালত সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ আওয়াজ তোলেন তখন বোঝা যায় সাধারণতন্ত্র এখনও জীবিত। লড়াই থেমে নেই। আজকের সাধারণতন্ত্র দিবস তাই শুধু উৎসবের নয়, উপলব্ধির দিন হোক। রবীন্দ্রনাথের ভয়শূন্য ভারত, বিবেকানন্দের জাগ্রত ভারত, আম্বেদকরের সাংবিধানিক ভারত এই তিনটি ভাবনাই একসঙ্গে চললে তবেই সাধারণতন্ত্র বছরের একদিন নয় থাকবে প্রতিদিন।
