Manoj Kothari Demise: বছরের শুরুতেই নক্ষত্রপতন! চলে গেলেন বাঙালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মনোজ কোঠারি
তাড়াতাড়ি খেলা ছেড়েছিলেন কোচিং করবেন বলে। জাতীয় দলেরও কোচিং করিয়েছেন বেশ কয়েকবার। মূলত তাঁর হাত ধরেই বাংলায় জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছিল বিলিয়ার্ডস। ইচ্ছে ছিল বাংলায় বিলিয়ার্ডস অ্যাকাডেমি করার। রাজ্য সরকারের কাছে এ নিয়ে তদ্বিরও করেছিলেন। কিন্তু সে ইচ্ছে আর পূরণ হল না।

কলকাতা: বছরের শুরুতেই বাংলার ক্রীড়া জগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত বিলিয়ার্ডসের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মনোজ কোঠারি। বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন কিংবদন্দি ক্রীড়াবিদ। লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন। ১০ দিন আগে চেন্নাইয়ের এক হাসপাতালে হয় লিভার প্রতিস্থাপন। সোমবার আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলার খেলাধুলোয় ফুটবল, ক্রিকেট, হকির দাপটই বেশি। কিন্তু অন্য খেলার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় মনোজের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা দুইই সব মহলে ছিল। মনোজের প্রয়াণে শোকের কালোছায়া ময়দানে।
১৯৯০ সালে বিশ্ব বিলিয়ার্ডসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন মনোজ। তাঁর ছেলে সৌরভ কোঠারিও বিলিয়ার্ডসে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।টালিগঞ্জের কোঠারি পরিবার ভারতের খেলাধুলোয় এক বিরল পরিবার। একই খেলায় বাবা-ছেলের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির এ দেশে বিরল। পরিবারের এক সদস্য বলেছেন, ‘অস্ত্রোপচার সফল হয়েছিল। তৃতীয় দিনের মাথায় উঠে বসেন, কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু দিন কয়েক আগে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। আজ সকালে মারাত্মক হ্যাট অ্যাটাক হয়।’ আর তাতেই শেষ মনোজের যাবতীয় লড়াই।

মনোজকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তাঁর ছেলে সৌরভ কোঠারি। দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। চলতি মরশুমেই পঙ্কজ আডবানীকে হারিয়ে আইবিএসএফ ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে সৌরভের। মনোজ কোঠারি ছিলেন ছেলে সৌরভের কোচ। ভারতীয় কিউ স্পোর্টস টিমের কোচিংও করেছেন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে। ধ্যানচাঁদ পুরস্কারও পেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে দিয়েছে ক্রীড়াগুরু সম্মান। এতেই শেষ নয়, কোঠারি পরিবারকে বিলিয়ার্ডস পরিবার বললেও ভুল হবে না। মনোজ কোঠারির স্ত্রী নীতা বিলিয়ার্ডসে রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলার হয়ে একাধিকবার জাতীয় মিটে অংশ নিয়েছেন। স্ত্রীকে বিলিয়ার্ডসে এনেছিলেন বাঙালি মেয়েদের মধ্যেএই খেলারহ জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য।
তাড়াতাড়ি খেলা ছেড়েছিলেন কোচিং করবেন বলে। জাতীয় দলেরও কোচিং করিয়েছেন বেশ কয়েকবার। মূলত তাঁর হাত ধরেই বাংলায় জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছিল বিলিয়ার্ডস। ইচ্ছে ছিল বাংলায় বিলিয়ার্ডস অ্যাকাডেমি করার। রাজ্য সরকারের কাছে এ নিয়ে তদ্বিরও করেছিলেন। কিন্তু সে ইচ্ছে আর পূরণ হল না। না-ফেরার দেশে চলে গেলেন বাঙালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মনোজ কোঠারি।
