FIFA World Cup: মাঠে দল বিশ্বকাপে, বাইরে বিক্ষোভে সমর্থকরা! উদ্বোধনী ম্যাচেই কপাল পুড়ল মেক্সিকোর!
Mexico : অনেকে বলছেন, এই বিক্ষোভের ফলে ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই এই হিংস্র আক্রমণের ফলে ম্যাচটি কোথাও একটা গিয়ে ঔজ্জ্বল্য হারিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার দেশের যাবতীয় অসুবিধাকে দূরে ঠেলে বিশ্বকাপকে আপন করে নিয়েছে।

মেক্সিকো : ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) প্রথম ম্যাচে নামছে নিজের দেশ। অথচ, সেই দেশের লোকেরাই রীতিমতো বিক্ষোভ করছেন। এই দৃশ্য ব্রাজিলের (Brazil) বিশ্বকাপের পর সেই ভাবে দেখা গিয়েছিল কোথাও? মনে পড়ছে না। অথচ, এই ঘটনাই তো ঘটছে। দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে মেক্সিকোর (Mexico) উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই, টিকিটহীন সমর্থক ও বিক্ষোভকারীরা মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে জোর করে স্টেডিয়ামে চেষ্টা করেন। এর ফলে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরী হয় স্টেডিয়ামের বাইরে।
আজ ম্যাচের আগেই স্টেডিয়ামের আট নম্বর গেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছুঁড়তে শুরু করে, এর ফলে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু লোককে গ্রেফতার করেছে মেক্সিকো শহরের পুলিশ। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই মেক্সিকো শহরে পুলিশ দেশের নিখোঁজ হওয়া মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের পরিবারের বিক্ষোভ সামলাতে ব্যস্ত ছিল। তবে স্টেডিয়ামের বাইরের এই বিশৃঙ্খলা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে বলে মনে করছে না পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মুখ ঢাকা একদল লোক গেট লক্ষ্য করে ইট, পেট্রল বোমা ইত্যাদি ছুঁড়ে জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। এই আক্রমণে বেশ কিছু পুলিশকর্মী আহত হন।
অনেকে বলছেন, এই বিক্ষোভের ফলে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই এই হিংস্র আক্রমণের ফলে ম্যাচটি কোথাও একটা গিয়ে ঔজ্জ্বল্য হারিয়েছে। প্রায় ২০০ জন সমর্থকের বেশি বিক্ষোভকারী পুলিশকে আক্রমণ করে ও স্টেডিয়ামের গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর, ফ্লেয়ার, মোলেটিভ ককটেল বোমা ছোঁড়ে। এই সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তারা আহত হন, গাড়ি ভাঙচুর করা হয় ও আশেপাশের এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেককেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে, এই সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউমের বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের কারণে পর্যটক বাড়ার কারণে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সরকার দেশের যাবতীয় অসুবিধাকে দূরে ঠেলে বিশ্বকাপকে আপন করে নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই যেভাবে বিক্ষোভ করলেন সমর্থকরা, তাতে আখেরে নাক কাটল মেক্সিকোর সরকারেরই।
