Jalpaiguri: ডায়না নদীর বাঁধে ভাঙন, ডুবছে গ্রাম, তার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হরিণ উদ্ধার
North Bengal Disaster: এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে বন দপ্তরের কর্মী থেকে শুরু করে বানারহাট ব্লকের আপার কলাবাড়ি ও রেড ব্যাঙ্ক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখন থেকে জঙ্গলের নজরদারিতে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বনকর্মীরা।

জলপাইগুড়ি: ভুটানের জলে ডায়না নদীর বাঁধে ভাঙন, আশঙ্কায় বনাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চল। ভুটানের পাহাড়ি জলে ফুলে ওঠা ডায়না নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ঘেঁষে থাকা বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের প্রায় ৯০ শতাংশই জলের স্রোতে ভেসে গেছে। নদীর বাঁধের উপর দিয়ে যে বনদফতরে নজরদারির জন্য রাস্তা ছিল, সেটিও সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে বন দপ্তরের কর্মী থেকে শুরু করে বানারহাট ব্লকের আপার কলাবাড়ি ও রেড ব্যাঙ্ক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখন থেকে জঙ্গলের নজরদারিতে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বনকর্মীরা।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় ভুটান পাহাড়ে যদি ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হয়, তবে ডায়না নদীর জল আরও বেড়ে গোটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে জরুরি মেরামতির কাজ শুরু করেছেন।
তারই মধ্যে মাগুরমারীর ডাকুয়াপাড়া এলাকায় ধরা পড়েছে হৃদয়স্পর্শী একটি ছবি। ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নামা প্রবল জলে জলঢাকা নদী ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল হরিণটি। প্রাণপণ চেষ্টা করে এলাকারই কয়েকজন যুবক সাঁতরে পৌঁছে হরিণটিকে টেনে আনেন নদীর ধারে শুকনো জমিতে।
খবর পেয়ে মরাঘাট রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তখন গ্রামবাসীরা আহত হরিণটিকে তুলে দেন বনকর্মীদের থাতে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার পর হরিণটিকে পুনরায় জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ভুটান পাহাড় ও সিকিম পাহাড়ের জলে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে একটি গণ্ডারও। এর মাঝেই হরিণের জীবন বাঁচিয়ে গ্রামবাসীরা যে উদাহরণ গড়লেন, তা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। নাগরাকাটা ব্লকের সুলকা পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গাঠিয়া নদীর উপরে নদীর জলে ক্ষতিগ্রস্ত। জলমগ্ন এলাকায় ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার, ২৫ জন নিখোঁজ। ঘটনাস্থলে এনডিআরএফ-এর টিম। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় দড়ির সাহায্যে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে মালবাজার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক।
