Samik Bhattacharya: কামারহাটি পৌরসভার নতুন চেয়ারম্যান লকেটের দাদা, গঙ্গাজল দিয়ে চেয়ার পরিষ্কারের বার্তা শমীকের
Samik Bhattacharya Reacts to Kamarhati Municipality Chairman: তাঁর দাদার চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে বিতর্ক বাধতেই লকেট বলেন, "সম্পর্কে দাদা হতেই পারেন। কিন্তু, তিনি একজন নির্দল কাউন্সিলর। তাঁদের ওখানে কী করে বোর্ড হয়েছে, তা তাঁরা জানেন। আমার কিছু বলার নেই। তবে যেমন নিয়ম রয়েছে, তেমন হওয়া উচিত।"

কামারহাটি: দিনকয়েক আগে কামারহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়েছেন গোপাল সাহা। তারপরই তৎপরতা শুরু হয়। কামারহাটি পৌরসভার ৩৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ৩২টি। ৩ জন নির্দল জয়ী হন। গোপাল সাহার পদত্যাগের পর নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। যিনি সম্পর্কে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা। এবার কামারহাটিতে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই নির্বাচনের কথা তিনি জানতেন না জানিয়ে শমীক বলে দিলেন, এসব বরদাস্ত করা হবে না। তবে পাল্টা যুক্তি দিলেন লকেটের দাদা।
কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?
এদিন শমীক বলেন, “আমি শুনলাম কামারহাটি পৌরসভায় নাকি পরিবর্তন হয়েছে। আমার কাছে খবর আসেনি। কেউ না কেউ ওখানে চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। সংযত হয়ে যান। এখনও পর্যন্ত পার্টি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংযত হয়ে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। যদি কেউ ভাবেন, ভারতীয় জনতা পার্টি একটা সেবাশ্রম হয়েছে, একটা হরিনাম সভা, যে কেউ নিজেকে কলকাতা, বিধাননগর, কামারহাটির কাউন্সিলর বানিয়ে ফেলবেন, পার্টি চুপ করে মেনে নেবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। কোনও নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক হোক, এখানে কারও কথা চলবে না। রাতারাতি কেউ যদি মনে করেন, জামাটা বদলে নিজেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান হবেন, তাহলে পার্টির লোক যাবে, জেলা সভাপতি যাবে, ওই জায়গাটাকে গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করে আসবে। কাউকে চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না।”
পাল্টা যুক্তি দিলেন লকেটের দাদা-
শমীকের মন্তব্য নিয়ে কামারহাটি পৌরসভার নতুন চেয়ারম্যান সুশান্ত বলেন, “আমার ধারণা শমীকবাবুকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। ভুল বোঝানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এটা বিজেপি পরিচালিত বোর্ড। কিন্তু এটা বিজেপি পরিচালিত বোর্ড নয়।” তারপরই তিনি বলেন, “বিজেপির যেকোনও লেভেল থেকে যোগাযোগ করা হয়, তাদের জানাব। আমাকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হলে, তাও করব।”
২ দিন আগে তাঁর চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পৌর আইন মেনেই চেয়ারম্যান হয়েছি। মোট ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২ জন মারা গিয়েছেন। ৩ জন ইস্তফা দিয়েছেন। বাকি ৩০ জনের মধ্যে ২৯ জনের সমর্থনে মহকুমাশাসকের অনুমতি নিয়েই নিয়ম মেনেই চেয়ারম্যান হয়েছি। তাই সরিয়ে দেওয়া যায় না।” তবে লকেট চট্টোপাধ্যায় এই ব্যাপারে যুক্ত নন বলে জানান সুশান্তবাবু।
কী বললেন লকেট?
তাঁর দাদার চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে বিতর্ক বাধতেই লকেট বলেন, “সম্পর্কে দাদা হতেই পারেন। কিন্তু, তিনি একজন নির্দল কাউন্সিলর। তাঁদের ওখানে কী করে বোর্ড হয়েছে, তা তাঁরা জানেন। আমার কিছু বলার নেই। তবে যেমন নিয়ম রয়েছে, তেমন হওয়া উচিত।”

কামারহাটি পৌরসভার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়
এই নিয়ে বিজেপির উত্তর কলকাতা শহরতলির সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় জানান, “কামারহাটি পৌরসভায় আমাদের কেউ নেই। সব চোরেদের বোর্ড হয়েছে। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেব আমরা।”
