Chandrakona: ৭ বছর পর সদ্যোজাত জন্ম নিয়েই ICU থেকে বার করল একটা গোটা হাসপাতালকে
Chandrakona Rural Hospital C-Section: চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ ডা. হিমাংশু মাইতি বলেন, "চিকিৎসকের অভাব মিটিয়ে অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত সিজার হবে। তবে পরিষেবা আরও উন্নত করতে কিছু পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। সেই দাবি আমরা স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়েছি।"

মেদিনীপুর: প্রায় ৭ বছর পর চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে শুরু সিজার! প্রথম অস্ত্রোপচারে জন্ম নিল পুত্র, খুশি মা-সন্তান-চিকিৎসক সকলে। তবে এই সিজার অপারেশন চন্দ্রকোণা হাসপাতালে করাতে, রোগীর পরিজনদের অনুমতি পেতে চিকিৎসকদের প্রথমে অনেকটাই বেগ পেতে হয়। চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হল চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালের সিজার ও লাইগেশন পরিষেবা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে সফলভাবে প্রথম সিজার অপারেশন সম্পন্ন হল।
অস্ত্রোপচার করা হয় চন্দ্রকোণার পিয়ারডাঙা গ্রামের বাসিন্দা আলিয়া ভাঙ্গির। আলিয়া প্রথম পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। অপারেশনের পর মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে অভিজ্ঞ প্রসূতি চিকিৎসক ও অ্যানাস্থেটিস্টের অভাবে বন্ধ ছিল অপারেশন থিয়েটার। ২০২২ সালে একবার পরিষেবা চালু হলেও চিকিৎসকরা বদলি হয়ে যাওয়ায় ফের বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ জন প্রসূতিকে চিকিৎসার জন্য ৪৫ কিলোমিটার দূরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ বা ২৫ কিলোমিটার দূরের ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে রেফার করতে হত।
মঙ্গলবার প্রথম অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রোগী ও পরিজনরা প্রথমে রাজি না হলেও চিকিৎসকরা বুঝিয়ে সম্মত করান। এরপর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুদীপা দত্ত, ডা. নিরূপণ কান্তি দে এবং অ্যানেস্থেসিস্ট চিকিৎসক দিবাকর শীলের উপস্থিতিতে সফল অস্ত্রোপচার হয়।
চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ ডা. হিমাংশু মাইতি বলেন, “চিকিৎসকের অভাব মিটিয়ে অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত সিজার হবে। তবে পরিষেবা আরও উন্নত করতে কিছু পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। সেই দাবি আমরা স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়েছি।”
উল্লেখ্য, চন্দ্রকোণা, গড়বেতা, কেশপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। নতুন পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশি চিকিৎসক থেকে রোগী, সকলেই।
