Partition Memorial: ১৯৪৭-এ জীবনযুদ্ধ দেখেছিল শিয়ালদহ, সেখানেই তৈরি হচ্ছে পার্টিশন মেমোরিয়াল
Sealdah Partition Memorial: দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ পশ্চিমবঙ্গে এসে আশ্রয় নেন। সেই সময় কলকাতা ও তার আশপাশের বিভিন্ন রেলস্টেশন উদ্বাস্তু মানুষের আসা ও পুনর্বাসনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে ওঠে, তাদের মধ্যে শিয়ালদহ স্টেশনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের আগে শিয়ালদহ স্টেশনের নতুন রূপ। দেশভাগের যন্ত্রণা, উদ্বাস্তু মানুষের সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের স্মৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে তৈরি হতে চলেছে পার্টিশন মেমোরিয়াল স্ট্যাচু (Partition Memorial Statue)। সেই স্মারক নির্মাণের আগে আগামী ১৪ অগস্ট, শুক্রবার শিয়ালদহে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ ভূমিপুজো অনুষ্ঠান।
আগামীকাল সকাল ১১:৩০ মিনিটে এই স্ট্যাচুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পুজো হতে চলেছে। থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। থাকবেন পূর্ব রেল এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলের কর্তারাও। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এমন মূর্তি স্থাপন হতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস (Indira Gandhi National Centre for the Arts)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল, তাঁদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা।
শিয়ালদহ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ পশ্চিমবঙ্গে এসে আশ্রয় নেন। সেই সময় কলকাতা ও তার আশপাশের বিভিন্ন রেলস্টেশন উদ্বাস্তু মানুষের আসা ও পুনর্বাসনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে ওঠে, তাদের মধ্যে শিয়ালদহ স্টেশনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে ট্রেনে করে কলকাতায় আসা বহু উদ্বাস্তু মানুষের কাছে শিয়ালদহ ছিল অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। স্টেশন চত্বর এবং তার আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে উদ্বাস্তুদের জীবন, অনিশ্চয়তা, পুনর্বাসনের লড়াই এবং নতুন করে জীবন শুরু করার ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই শিয়ালদহ স্টেশন এলাকায় পার্টিশন মেমোরিয়াল স্থাপনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোথায় হবে অনুষ্ঠান?
আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, শিয়ালদহ স্টেশনের মেন গেটের কাছে, ফোয়ারার পাশে এবং ফ্ল্যাগ পুলের বিপরীতে হবে ভূমিপুজো। অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
দেশভাগের সময় বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মীয়মাণ এই স্মারক শুধু একটি মূর্তি বা স্থাপনা নয়, বরং দেশভাগের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত মানুষের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি প্রয়াস হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইতিহাসের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ-
১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাতারাতি তাঁদের ঘরবাড়ি, জমি, সম্পত্তি ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। বহু পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং উদ্বাস্তু মানুষকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। শিয়ালদহ সেই ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষী। রেলপথ ধরে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা অসংখ্য মানুষের স্মৃতি এই স্টেশন ও কলকাতার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে রয়েছে। ফলে শিয়ালদহে পার্টিশন মেমোরিয়াল তৈরি হলে তা দেশভাগের ইতিহাসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরে তুলে ধরবে। ১৪ অগস্টের ভূমিপুজো সেই স্মারক নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
