Viral Video: রোগীর চিকিৎসার বেডে মুখোমুখি শুয়ে দুই সারমেয়, এটা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছবি!
প্রশ্ন উঠছেই পরিত্যক্ত বেড হলেও কীভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে পড়ল কুকুর? আর কীভাবেই বা শীতের রাতে বেডে নিশ্চিন্তে ঘুমতে পারল তারা? সেইসময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাই বা কোথায় ছিলেন? এই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পূর্ব বর্ধমান: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল নিয়ে এ রাজ্যে প্রশ্ন ওঠে বারবার। কয়েকদিন আগে হুগলির একটি হাসপাতালের বেডে এক সারমেয়কে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। আর এবার একসঙ্গে দুই সারমেয়কে মুখোমুখি শুয়ে থাকতে দেখা গেল সরকারি স্বাস্থ্যভবনের বেডে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ঘটনা। শীতের রাতে বেডে শুয়েই ঘুমোচ্ছে দুই সারমেয়।
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বননবগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ঘটনা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভিতরে একটি বেডে দু’টি কুকুর শুয়ে থাকার ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবি ঘিরেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি TV9 বাংলা।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সিঁড়ির নীচে রাখা একটি বেডে শীতের রাতে দিব্যি আরামে ঘুমোচ্ছে দুই সারমেয়। আশপাশে নেই কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা নিরাপত্তারক্ষী। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শাসকদলকে কটাক্ষব করতে শুরু করেছে বিরোধীরা। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বেহাল অবস্থার এটাই জলজ্যান্ত প্রমাণ। তাঁর অভিযোগ, গোটা বাংলার বহু হাসপাতালেই এ ধরনের ছবি কম-বেশি সামনে আসছে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম জানান, ওই বেডটি পরিত্যক্ত ছিল। সেখানেই কুকুর শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কেউ ইচ্ছাকৃত এই ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের হাসপাতালগুলির আমুল পরিবর্তন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন।”
তবে প্রশ্ন উঠছেই পরিত্যক্ত বেড হলেও কীভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে পড়ল কুকুর? আর কীভাবেই বা শীতের রাতে বেডে নিশ্চিন্তে ঘুমতে পারল তারা? সেইসময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাই বা কোথায় ছিলেন? এই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়দত্ত বিশ্বাস এই প্রসঙ্গে বলেন, “এরকম হওয়ার কথা নয়। ওই দিন যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানব কী হয়েছিল।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককের কাছ থেকে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। কী ঘটনা ঘটেছে, তা পরে বলতে পারবেন।
