Malda Chaos: ‘দেখুন দিদি কী চলছে…’, ব্য়বসায়ীদের বিরাট ক্ষোভ, মমতার কাছে গেল চিঠি, শনিবার বনধ ডাকার হুঁশিয়ারি
West bengal: অমর শিকদার নামে আরও এক ব্যবসায়ী বলেন, "যারা দোষী তাদের গ্রেফতার করুন। কেন এই দোকানঘর ভাঙা হল তারা দেখুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি দেখুন কী চলছে...দোকানদারদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে দোকান ভর্তি মাল...কোথায় যাবে কী করবে, এক রাতের মধ্যে পথে বসিয়ে নিঃস্ব করে দিলেন। আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কিছু নেই। বাংলাদেশে যা চলছে এখানেও সেটা করতে চাইছে মনে হয়।"

মালদহ: ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ। চিঠি গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁদের অভিযোগ, এই রাজ্যকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে হচ্ছে। দু’দিনের মধ্যে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রোমোটারকে গ্রেফতার না করা হলে, আগামী শনিবার জেলাজুড়ে ব্যবসায়ীরা বনধ ডাকবেন। আর এই ঘটনার পরই তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মালদহে। জানা গিয়েছে, মালদহ শহরে জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থান বিক্ষোভে ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভে সামিল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্যরাও। ‘মালদহ চেম্বার অফ কমার্সের’ তরফে এই ঘটনার জন্যে সরাসরি দায় চাপানো হয়েছে ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান সহ ওল্ড মালদা পুরসভার দুই কাউন্সিললের বিরুদ্ধেও। যদিও তৃণমূল এই বিষয়ে একেবারে মুখে কুলুপ এঁটেছে।
কেন এত বিক্ষোভ?
সোমবার ভোররাতে বিশেষ করে রাত আড়াইটা নাগাদ বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পর পর ন’টি দোকান। এমনকী, দোতলার একটি গুদাম ঘর ও দু’টি অফিস ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। লুটপাট চলে দোকানের জিনিসপত্রেরও। অভিযোগ করা হয় রাজীব শর্মা নামে তৃণমূল নেতা ঘনিষ্ঠ এক প্রোমোটারের বিরুদ্ধে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন তারা এই ভাঙচুর চালাল তা এখনও জানা যায়নি। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে দুটি জেসিবি আটক করে এবং একজন জেসিবি চালককে গ্রেফতার করে। এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি মূল অভিযুক্ত। এই নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরা।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ রোজগারহীন হয়ে পড়েছে ১২ টি ব্যবসায়ী পরিবার। সেই সব পরিবারের সদস্যদের নিয়েই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল ব্যবসায়ীরা। ‘মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স’ এর তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। জানানো হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনকেও।
আরও এক ব্যক্তি বলেন, “হাইকোর্টের অর্ডারের পর কেন ভাঙা হল দোকান? এর জবাব কে দেবে? আমরা তো কোর্টে জিতেছিলাম। প্রশাসন আমাদের পাশেই আছে জানি। মাথা কে জানি এখন বলব না। আমরা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করতেই পারি। এই বলে দিলাম।” অমর শিকদার নামে আরও এক ব্যবসায়ী বলেন, “যারা দোষী তাদের গ্রেফতার করুন। কেন এই দোকানঘর ভাঙা হল তারা দেখুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি দেখুন কী চলছে…দোকানদারদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে দোকান ভর্তি মাল…কোথায় যাবে কী করবে, এক রাতের মধ্যে পথে বসিয়ে নিঃস্ব করে দিলেন। আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কিছু নেই। বাংলাদেশে যা চলছে এখানেও সেটা করতে চাইছে মনে হয়।”
