Baruipur Encounter: ‘আদালতের গাইডলাইন অনুযায়ী এবার…’, বাংলায় সাড়া জাগিয়ে এনকাউন্টারে খতম করেছেন বারুইপুরে SI অর্ঘ্য মণ্ডল, কে তিনি? এবার তাঁর পরিণতি কী? কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা?
Baruipur Encounter SI Arghya Mondal: বারুইপুর কাণ্ডে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’-এর অন্যতম এক সদস্য রনি সরকারের সার্ভিস রিভলবারটি আচমকাই কেড়ে নেয় অভিযুক্ত। অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের ঘেরাটোপ থেকে অন্ধকারের মধ্যে ঝোপঝাড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে অভিযুক্ত। এমনই দাবি পুলিশের।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এনকাউন্টার! খতম বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন। সেই নাবালিকাকে টাকার বিনিময়ে মূল অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে গিয়ে খতম! বাংলায় এযাবৎ কালের এমন একটি কাউন্টার, যা খুব সহজেই আমজনতার দাবির সঙ্গে রিলেটেবল্। কোনওভাবে নারী নির্যাতনে অভিযুক্তরা যেন ছাড় না পায়, কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দরকার… এ দাবি দীর্ঘদিনের। যেখানে দাঁড়িয়ে হায়দরবাদের ধর্ষণকাণ্ডে এনকাউন্টার অত্যন্ত শিহরণ জাগিয়েছিল জাতীয় স্তরে, বাংলার বুকে এই কাউন্টার এখন ‘ন্যাশনাল নিউজ’ । আর এই গোটা পর্বে ‘নায়ক’ কে? বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর অর্ঘ্য মণ্ডল।
কে অর্ঘ্য মণ্ডল?
২০১৪ সালের ব্যাচের একজন পুলিশ অফিসার। তিনি এর আগে জয়নগর, কুলতলি ও সোনারপুর থানায় কর্মরত ছিলেন এবং বারুইপুরের এসওজি (SOG) ইনচার্জ হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের অভিযুক্তকে নিয়ে গভীর রাতে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, বারুইপুর কাণ্ডে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’-এর অন্যতম এক সদস্য রনি সরকারের সার্ভিস রিভলবারটি আচমকাই কেড়ে নেয় অভিযুক্ত। অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের ঘেরাটোপ থেকে অন্ধকারের মধ্যে ঝোপঝাড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে অভিযুক্ত। এমনই দাবি পুলিশের। তখনই পুলিশ কর্তা সহকর্মীদের প্রাণ বাঁচাতে ও আত্মরক্ষার্থে অর্ঘ্য মণ্ডল নিজের সার্ভিস রিভলবার দিয়ে গুলি চালান বলে সূত্রের খবর।
SI অর্ঘ মণ্ডলের কাজের রেকর্ড
অর্ঘ্য মণ্ডল জয়নগর থানা থেকে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর তাঁর পোস্টিং হয় সোনারপুরে। সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় কুখ্যাত তোলাবাজদের কপালে ঘাম জমিয়েছিলেন। এরপরই কুলতলি। পুলিশের খাতায়, যে এলাকা কিনা দুষ্কৃতীদের সাম্রাজ্য। বরাবরই নিজের দায়িত্বে-কর্তব্যে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে তিনি বারুইপুর থানায় কর্মরত। অভিযুক্তকে নিয়ে মোট ২০০ জন পুলিশকর্মী মঙ্গলবার মধ্যরাতে অভিযুক্তকে ঘটনার পুনর্নির্মাণে করতে যান।
এই পদক্ষেপ কতটা আইনসিদ্ধ?
বাংলায় এই এনকাউন্টার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুরু তরজাও। ইতিমধ্যেই বাম-তৃণমূলের তরফে একাংশ এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কিন্তু এই নিয়ে আইনজীবীরা কী বলছেন? বিশিষ্ট আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা বললেন, “এর দু’ধরনের যুক্তি রয়েছে, আইনজীবী যুক্তি, সামাজিক যুক্তি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মনে হয় ইমিডিয়েট অ্যাকশন দরকার। বিচারপ্রক্রিয়া তরন্বীত না হলে হতাশা তৈরি হয়।”
তিনি বলেন, “আদালতের গাইডলাইন অনুযায়ী এনকাউন্টার তখনই হবে, যিনি এনকাউন্টার করছেন, তিনি কোনওভাবে মৃত্যু ভয় পেয়েছেন। অভিযুক্ত হয়তো ওনাকেই মারার চেষ্টা করছেন, তখন মারতে বাধ্য হলেন। সেকশন 96 IPC তে রাইট সেল্ফ ডিফেন্স কখনই ওফেন্স নয়। যদি সেই পরিস্থিতিতেই এই এনকাউন্টার হয়ে থাকে, তাহলে এটি আইনি সিদ্ধতা পায়। আইনে কোনও বাধা নেই।” তবে এরপরও আইনপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েও যেতে হবে বলে জানা গিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের এনকোয়ারি হবে, সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তাকে একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তাতে যদি প্রমাণ হয়, আইনি ভাবেই বাধ্য হয়েছিলেন, তাহলে অবশ্যই এটা ‘লিগ্যাল এনকাউন্টার’ হিসাবেই পরিগণিত হবে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।
