AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Raisi’s death: রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ইরান জুড়ে আনন্দ-উৎসব! পতনের মুখে ইসলামি শাসন?

Raisi's death: রাইসি শুধু ইরানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তা তো নয়। ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী হওয়ার প্রধান দাবিদারও ছিলেন তিনি। এহেন এক জাতীয় নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই আনন্দ-উল্লাস কেন?

Raisi's death: রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ইরান জুড়ে আনন্দ-উৎসব! পতনের মুখে ইসলামি শাসন?
প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে উৎসব ইরানেImage Credit: Twitter
| Updated on: May 20, 2024 | 9:35 PM
Share

তেহরান: হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ইরানর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ যখন, ইরানি প্রেসিডেন্টের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে, রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে, তখন ইরান জুড়ে দেখা যাচ্ছে খুশির মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ও ছবি। প্রতিটিতেই ইরানিদের তাদের রাষ্ট্রপতির মৃত্যু সংবাদ উদযাপন করতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের বহু নাগরিক এবং প্রবাসী ইরানিদের এই দুর্ঘটনা নিয়ে ঠাট্টা-মস্করা করতে দেখা গিয়েছে। মিম তৈরি হয়েছে এই দুর্ঘটনকে কেন্দ্র করে। ইরানে রাতের আকাশে ফাটছে আতশবাজি। অথচ, রাইসি শুধু ইরানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তা তো নয়। ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী হওয়ার প্রধান দাবিদারও ছিলেন তিনি। এহেন এক জাতীয় নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই আনন্দ-উল্লাস কেন?

ইরানি-মার্কিন সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমার মতে, ইতিহাসের এটাই একমাত্র কপ্টার দুর্ঘটনা, যেখানে সবাই উদ্বিগ্ন, কেউ বেঁচে নেই তো? শুভ বিশ্ব হেলিকপ্টার দিবস!” ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে একটি রংমশাল জ্বালিয়ে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আসুন ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সুসংবাদ উদযাপন করি।” হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার খবরে লন্ডনের ইরানি দূতাবাসের বাইরে বেশ কয়েকজনকে আনন্দে নাচগান করতে দেখা গিয়েছে। ২০২২-এ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৬২ বছর বয়সী মহিলা, মিনু মাজিদির। শাসক-বিরোধী এই আন্দোলনকারীর দুই মেয়েকে দেখা গিয়েছে আনন্দে মদ্যপান করতে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই উদযাপন থামাতে জায়গায় জায়গায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডকে মোতায়েন করেছে।

আসলে ইব্রাহিম রাইসি অনেকের কাছেই পরিচিত ‘তেহরানের কসাই’ নামে। ২০২১ সালের অগস্ট থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন। তবে, তার অনেক আগে থেকেই তিনি পরিচিত আলি খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইরানে ভিন্নমত ও বাকস্বাধীনতাকে চূর্ণ করেছিলেন তিনি। মহিলাদের পোশাকের বিষয়ে কঠোর ‘হিজাব ও সতীত্ব আইন’ প্রয়োগ করেছিলেন তিনি। যে আইন ইরানের নীতি পুলিশকে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। এই কঠোর ইসলামী আইনের বলেই ২০২২-এ মাহসা আমিনিকে গ্রেফতার করেছিল নীতি পুলিশ। হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আগুন জ্বলে উঠেছিল ইরানে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল প্রতিবাদ-আন্দোলন। যা, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সবথেকে বড় আন্দোলন হিসেবে ধরা হয়।

একেবারে ছোট ছাত্র বয়স থেকেই কট্টরপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন রাইসি। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ইরানের উদারপন্থী শাহ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। ইসলামি বিপ্লবের জেরে শাহ শাসন উৎখাত হওয়ার পর, মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিচার বিভাগে যোগদান করেছিলেন রাইসি। দ্রুতই তেহরানের ডেপুটি প্রসিকিউটর হয়েছিলেন। আর সেই সময় থেকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল তাঁর। ১৯৮৮ সালে ইরানে রাজনৈতিক বন্দীদের গণ-ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তেহরানের ডেপুটি প্রসিকিউটর পদে ছিলেন রাইসি। বিচারের জন্য যে চার কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার অন্যতম ছিলেন রাইসি। বিচারের নামে হয়েছিল প্রহসন। এর বাইরেও অন্তত ৫০০০ মানুষকে গোপনে অপহরণ করে বিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ইরান, এমনটাই দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের। এরপরই ‘তেহরানের কসাই’ তকমা জুটেছিল রাইসির।

তবে শুধু ধর্মীয় কট্টরপন্থা নয়। রাইসির সরকার পরিচালনার ধরনও তাঁকে দেশের মানুষের কাছে অজনপ্রিয় করে তুলেছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার মুখে, বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ পেট্রোলিয়াম উত্পাদনকারী দেশ হয়েও, ইরানের অর্থনীতির এখন বেহাল দশা। আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাপক বেকারত্বের সঙ্গে জুড়েছে ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিও। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ। কট্টরপন্থা এবং অর্থনৈতিক চাপের জেরে, ইরানে এখন বুদবুদের মতো ফুটছে অসন্তোষ। ইরানের সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে এবং এটি কট্টর ইসলামপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমে বাড়ছে। গ্রুপ ফর অ্যানালাইজিং অ্যান্ড মেজারিং অ্যাটিটিউড ইন ইরানের ২০২১ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ইরানের ৪৭ শতাংশ নাগরিকই অধার্মীক হয়ে উঠেছেন। ইরানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের মৃত্যুতে, এখন ইরানের বহু মানুষ আশা করছেন, এইবার দেশের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে।

Follow Us