বিশ্বের ১০ সুন্দরী রাজনীতিক দেখলে চোখ ফেরাতে পারবেন না!
বিশ্বের রাজনীতিতে এই নেত্রীরা কেবল গ্ল্যামার নয়, শক্তিশালী দায়িত্ব, নেতৃত্ব ও সমাজের পরিবর্তনের প্রতীক। তাঁদের কাহিনী কেবল সমানাধিকার নয়, সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নেয়। তাঁরা বারবার প্রমান করেছেন, তাঁরা সমাজের নেতৃত্ব, নতুন উদ্ভাবন ও সমাজের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা নিতে পারেন।

কলকাতা : রাজনীতি মানেই ক্ষমতা, আগ্রাসন, কূটনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনীর মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রত্য়হ কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয় নেতা-নেত্রীদের। তবে এই মঞ্চেও এমন বেশ কিছু নেত্রী রয়েছেন, যাঁরা শুধু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়াই নয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে গোটা বিশ্বে চর্চায় থাকেন। ইউরোপ থেকে আমেরিকা, ফিনল্যান্ড থেকে ফ্রান্স – বিশ্বের নানা প্রান্তের এই রাজনৈতিকরা নিজেদের কাজ ও ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি নিজেদের স্টাইল স্টেটমেন্টের কারণেও আলোচিত হন। তেমনই ১০ জন শক্তিশালী নারীর ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।
1. জর্জিয়া মেলোনি – ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভারতে বেশ চর্চিত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা তো সর্বজনবিদিত। ডানপন্থী রাজনীতির সমর্থক ও ‘ব্রাদার্স অফ ইতালি’ দলের সদস্য বিশ্ব রাজনীতির ময়দানে বরাবর এক শক্তিশালী নাম। তাঁর ফ্যাশনের পাশাপাশি দৃঢ় ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি বিশ্বে চর্চিত এক নাম। ভারতীয়রা এই কাপলকে নাম দিয়েছেন ‘মেলোডি (মেলোনি+মোদী)’।

2. মার্লেন শিয়াপা – ফ্রান্সের রাজনীতিবিদ মার্লেন শিয়াপা একাধারে একজন রাজনৈতিক, লেখিকা, এবং লিঙ্গসাম্যের পক্ষে কথা বলেন। তিনি মানবাধিকার মন্ত্রালয়ের সদস্যা। তিনি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এমানুয়েল মাকঁরের দল রেনেসাঁর সদস্য। তিনি ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন শক্তিশালী চরিত্র। তাঁর জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ তাঁর জনসংযোগের ক্ষমতা।

3. তুলসী গাব্বার – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রাজনীতিবিদ তুলসী গাব্বার রিপাবলিকান পার্টি থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক। তিনি আগে ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ছিলেন ও ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। ২০২২ সালে দলত্যাগ করে ট্রাম্পের সমর্থক হন ও পরে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন।

4. মিশেল রেম্পেল গার্নার – কানাডার সংসদ সদস্য মিশেল রেম্পেল গার্নার বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে ক্যালগারি নোজ হিল এলাকা থেকে সংসদের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কানাডার রাজনীতিতে ইমিগ্রেশন, রিফিউজি ও নাগরিকত্ব বিষয়ে একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের শেষের দিকে তিনি কানাডায় ‘বার্থ ট্যুরিজম’ কমানোর পক্ষে ছিলেন।

5. মারিয়া ওহিসালো – ফিনল্যান্ডের মন্ত্রী মারিয়া ওহিসালো এক চর্চিত নাম। তিনি বর্তমানে ফিনল্যান্ডের ‘গ্রিন লিগ’ দলের সদস্য। ২০১৭ সালে পিএইচডি শেষ করে ২০১৯ থেকেই রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়েছেন মারিয়া। তিনি পরিবেশ ও সামাজিক নীতিতে বিশেষজ্ঞ। এছাড়াও তিনি সাইক্লিস্ট ও ভিডিও গেমসের একজন একনিষ্ট ভক্ত।

6. ইনেস আরিমাদাস – স্পেনের মন্ত্রী ইনেস আরিমাদাস রাজনৈতিক জগতে এক বিশাল ব্যক্তিত্ব। তিনি কাতালুনিয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর দখল আছে আইনেও। ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিরোধী নেত্রী ও ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিনি ছিলেন পার্টি প্রেসিডেন্ট। সিটিজেন পার্টির সদস্য ইনেস স্প্যানিশ রাজনীতির এক বড় মুখ।

7. বিটে মেইনল-রেইসিঞ্জার – অস্ট্রিয়ার বিটে মেইনল-রেইসিঞ্জার হলেন ইউরোপিয়ান ও জাতীয় সম্পর্ক বিষয়ক একজন মন্ত্রী। তিনি ‘নিউ অস্ট্রিয়া অ্য়ান্ড লিবারেল ফোরামের একজন সদস্য। তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে সক্রিয়। এছাড়াও তিনি নারী ক্ষমতায়ন ও উদ্ভাবনী নীতিতে গুরুত্ব দেন।

8. কজা কালাস – এস্তোনিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইউরোপিয়ান নীতি প্রণয়নে বিশ্বাসী। ২০২১ সালে তিনিই এস্তোনিয়ার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন। ৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হয়ে কাজ করছেন।

9. মারিয়া এলেনা বস্কি – ইতালির অর্থনীতি ও আইন বিষয়ক মন্ত্রালয় দেখেন। তিনি রাজনৈতিক কূটনীতি বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ইতালির সর্বকনিষ্ট ক্যাবিনেট মিনিস্টার হিসেবে প্রথমবার সুযোগ পাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে আলোচনা বেড়ে যায় । তিনি ইতালিয়ান ভিভা পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ট ভাবে যুক্ত।

10. সানা মারিন – ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন ফিনল্যান্ডের সবথেকে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ থেকে ২০২৩ – ৪ বছর ধরে তিনি ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ফিনল্যান্ডের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য। তিনি সমাজতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্রিয়।

বিশ্বের রাজনীতিতে এই নেত্রীরা কেবল গ্ল্যামার নয়, শক্তিশালী দায়িত্ব, নেতৃত্ব ও সমাজের পরিবর্তনের প্রতীক। তাঁদের কাহিনী কেবল সমানাধিকার নয়, সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নেয়। এমন শক্তিশালী ও সুন্দরী নেত্রীরা বারবার প্রমান করেছেন, নেতৃত্ব কখনোই লিঙ্গ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা বারবার প্রমান করেছেন, তাঁরা সমাজের নেতৃত্ব, নতুন উদ্ভাবন ও সমাজের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা নিতে পারেন।
