India Pakistan Conflict: নোবেল চান শি-জিনপিং? ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে ট্রাম্পের সুরেই সুর মেলাল বেজিং
China Claims to Mediator in Ind-Pak Conflict: ভারত-পাক সংঘর্ষে বিরতি পড়ার পর থেকেই 'যুদ্ধ থামিয়েছেন' বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কৃতত্বেই এই দুই প্রতিবেশীদের মধ্যে সংঘর্ষ মিটেছে বলেই দাবি তাঁর। কিন্তু নয়াদিল্লি কখনওই সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। প্রথমে একটু ঢোক গিললেও, পরে সরাসরি নাকচ করেছে। চিন নিয়ে এখনও নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট নয়।

নয়াদিল্লি: ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পর সাত-আট মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু তারপরও এই সংঘাত নিয়ে থামেনি কাড়াকাড়ি। কেউ কেউ বলছেন, ভারতের অপারেশন সিঁদুর ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ পর্ব আন্তর্জাতিক মহলে ‘শীতের নলেন গুড়ের’ মতো পরিণত হয়েছে। যে পারছে, নিজের হাতে টানছে। আগে টেনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার টানছে বেজিং। এক কথায় বলতে গেলে, চিনের দাবি, ‘কে বলল, আমরা নিজেদের ছাড়া আর কিছু নিয়ে ভাবি না! আমরাও যুদ্ধ থামিয়েছি। আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছি।’
কিন্তু কোন যুদ্ধ থামাল বেজিং? যাদের নামে যুদ্ধে মদত দেওয়ার অভিযোগ, বর্ষবরণের রাতেও যাদের মুখে তাইওয়ান দখলের ইঙ্গিত, তাঁরা কোনও যুদ্ধ থামাতে উদ্যত্ত হয়েছিল? চিনা বিদেশমন্ত্রী ইয়াংই-র দাবি, ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ। মঙ্গলবার বেজিংয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা উত্তর মায়ানমার, ইরান, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘাত, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাত, এমনকি কম্বোডিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ডের চলা সংঘাত মেটানোর চেষ্টা করেছি। সর্বদা সংঘাতের উর্ধ্বে শান্তিকেই সুনিশ্চিত করেছি।’
ভারত-পাক সংঘর্ষে বিরতি পড়ার পর থেকেই ‘যুদ্ধ থামিয়েছেন’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কৃতত্বেই এই দুই প্রতিবেশীদের মধ্যে সংঘর্ষ মিটেছে বলেই দাবি তাঁর। কিন্তু নয়াদিল্লি কখনওই সেই দাবিকে গুরুত্ব দেয়নি। প্রথমে একটু ঢোক গিললেও, পরে সরাসরি নাকচ করেছে। চিন নিয়ে এখনও নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট নয়। এই আবহেই আবার বেজিংয়ের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে দিল পাকিস্তান।
সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি বলেন, ‘চিনের নেতৃত্ব সংঘর্ষকালে পাকিস্তান ও ভারতের আধিকারিকদের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রেখেছিল। আমি জানি না, সংঘর্ষ শেষের পরেও হয়তো সেই যোগাযোগ বজায় ছিল।’
কিন্তু আচমকাই এই সব কেন দাবি করছেন চিন? ওয়াং ই-এর নেতা শি জিনপিং, তিনি তো আর নোবেলের পিছনে ছুটছেন না। তা হলে? এই দাবি কী প্রয়োজন? চিন ভারতের প্রতিবেশি। বড় দেশ। শক্তিশালী দেশ। সবচেয়ে বড় কথা, পাকিস্তান তাঁদের ‘চোখের মণি’। তাই ভারত-পাক সংঘাত চলার সময় চিন নিজের মতো করে কূটনৈতিক স্তরে উদ্যোগী হয়নি, এটা মনে করার কারণ নেই। এদিক থেকে ওয়াং ই হয়তো মিথ্যে বলেননি বলেই মনে করছেন একাংশ। তবে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হল, অপারেশন সিদুঁরে ভারতের হাতে শুধু পাকিস্তানই নাস্তানাবুদ হয়নি। পাকিস্তানের ভাঁড়ারের চিনা অস্ত্রগুলিও মুখ থুবড়ে পড়ে। চিন সম্ভবত বুঝেছিল, এতে আন্তর্জাতিক বাজারে এর বড়সড় মূল্য দিতে হবে। এরপর থেকে চিনা অস্ত্র বিক্রি আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরবর্তীতে অবশ্যই ওরা ন্যারেটিভের লড়াইয়ে এগিয়ে গিয়েছে। চিনা মিসাইলে রাফাল ধ্বংস-সহ একাধিক জল্পনা বাতাসে ভাসিয়ে দিতে পেরেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, অপারেশন সিদুঁরের সময় চিন অবশ্যই সক্রিয় ছিল। তবে সেটা পাকিস্তাানকে নিয়ে। ওরা পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রেখেছিল। কারণ পাকিস্তানকে এগিয়ে দিয়েই ওরা নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করছিল।
