Nifty-Sensex: রেকর্ড ছোঁয়ার পরেই কেন পতন? কী করবেন বিনিয়োগকারীরা?
Indian Stock Market: মঙ্গলবার সকাল হতেই সেই ছবিটা বদলে গেল এক ধাক্কায়। দালাল স্ট্রিটে হঠাৎ যেন হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া। সকালে বাজার খোলার পরই সেনসেক্স আর নিফটি, দুই সূচকই এক ধাক্কায় নেমেছে ০.২ শতাংশের নীচে। কিন্তু এমন রক্তক্ষরণ কেন?

রেকর্ড তৈরি করা যতটা কঠিন, তা ধরে রাখা তার থেকেও বেশি চ্যালেঞ্জিং। সোমবারই নিফটি ৫০ ছুঁয়েছিল নতুন রেকর্ড। আর মঙ্গলবার সকাল হতেই সেই ছবিটা বদলে গেল এক ধাক্কায়। দালাল স্ট্রিটে হঠাৎ যেন হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া। সকালে বাজার খোলার পরই সেনসেক্স আর নিফটি, দুই সূচকই এক ধাক্কায় নেমেছে ০.২ শতাংশের নীচে। কিন্তু এমন রক্তক্ষরণ কেন?
পতনের নেপথ্যে দুই ‘হেভিওয়েট’
ভারতের শেয়ার বাজারের অন্যতম দুই স্তম্ভ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক। আজ এই দুই শেয়ারই বাজারকে টেনে নামাচ্ছে। রিলায়েন্স পড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ আর অন্যদিকে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক পড়েছে প্রায় ১.৬ শতাংশ। রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি মাসে তারা কোনও রাশিয়ান তেল আমদানি করছে না। আর এই পতনের সেটাই কারণ কি না, প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সেটা নিয়েই।
ট্রাম্প ফ্যাক্টর ও ভেনেজুয়েলা আতঙ্ক
বিশ্ব রাজনীতির আঁচ এবার এসে পড়েছে আপনার-আমার মতো সাধারণ মানুষের পোর্টফোলিওতে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর গ্রেফতারি বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। তার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো নিয়ে ভারতের উপর চাপ। এই সবেরই একটা মিশ্র পরোক্ষ আঘাত এসে পড়েছে ভারতের বাজারে। রেলিগেয়ার ব্রোকিং-এর এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, “ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি রিস্ক অ্যাপেটাইটে আঘাত হানছে।”
ট্রেন্ট ও টাটা মোটরসের পতন
আপনি কি ট্রেন্টের শেয়ার হোল্ডার? তাহলে আজকের দিনটি আপনার জন্য বেশ চাপের। উৎসবের মরসুমেও ব্যবসা আশানুরূপ না হওয়ায় ট্রেন্টের শেয়ার পড়েছে প্রায় ৮.৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে সাইবার হানার কবলে পড়ে টাটা মোটরসের জাগুয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড রোভারের উৎপাদনেও তৈরি হয়েছে সমস্যা। আর সেই কারণেই ৩ শতাংশের কাছাকাছি পড়েছে টাটা মোটরসের প্যাসেঞ্জার ভেহিকলের শেয়ারের দাম।
আশার আলো কোথায়?
সবই কি নেতিবাচক? না। কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক কিন্তু ইতিবাচক পথে হাঁটছে। সৌরশক্তির শেয়ার এমিভি লাফিয়েছে ৫ শতাংশ-এর বেশি। জ্যাফরিজের মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থার মতে, আগামী এক বছরে এই শেয়ার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিতে পারে।
আপনার করণীয় কী?
বাজারের অস্থিরতা এখন চরমে। হুজুগে পড়ে এখনই সব শেয়ার বিক্রি করা একেবারেই ঠিক নয়। এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ২৬,২০০ পয়েন্ট এখন নিফটির জন্য বড় সাপোর্ট। এই স্তর ধরে রাখতে পারলে ভয়ের কিছু নেই। তবে বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখুন। বিনিয়োগ বাড়াতে চাইলে সাবধানে করুন সেই কাজ।
কোথাও বিনিয়োগ করতে চাইলে সেই বিষয়ে যথাযথ তথ্যানুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করুন। এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে। TV9 বাংলা বিনিয়োগের কোনও উপদেশ দেয় না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোনও বিনিয়োগে বাজারগত ঝুঁকি রয়েছে। ফলে, আগে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি সাবধানে পড়ে নেবেন। তারপর বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
