‘পরিবারের সঙ্গে কি লড়াই করা যায়?’, ভাই ফয়জালকে নিয়ে বিস্ফোরক আমির খান
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ এবং ফয়জালের পক্ষ থেকে আনা গুরুতর সব অভিযোগের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভাই ফয়জালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন আমির খান।

একসময় ভাইয়ের কেরিয়ার গড়তে পরিচালক ধর্মেশ দর্শনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘মেলা’। কিন্তু আজ সেই ভাই ফয়জাল খানের সঙ্গেই আমিরের দূরত্ব আকাশছোঁয়া। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ এবং ফয়জালের পক্ষ থেকে আনা গুরুতর সব অভিযোগের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভাই ফয়জালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন আমির খান।
ভাই ফয়সাল ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে আমির খান বলেন, “কী আর করব? এটাই হয়তো আমার নিয়তি। আপনি সারা বিশ্বের সঙ্গে লড়াই করতে পারেন, কিন্তু নিজের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে লড়বেন?” আমিরের এই মন্তব্যে গভীর যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, গত বছর একটি পডকাস্টে ফয়জাল খান আমিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ এনেছিলেন। ফয়সাল দাবি করেন, আমির তাঁকে মুম্বইয়ের বাড়িতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘বন্দি’ করে রেখেছিলেন। ফয়সালের কথায়, “আমাকে বাড়িতে কয়েদ করে রাখা হয়েছিল। ওরা প্রচার করছিল যে আমার সিজোফ্রেনিয়া হয়েছে, আমি পাগল এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। জেজে হাসপাতালে ২০ দিন সাধারণ ওয়ার্ডে মানসিক রোগীদের সঙ্গে রেখে আমার পরীক্ষা করানো হয়েছিল।”
ফয়জালের এই মন্তব্যের পর আমির খানের পরিবার একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ফয়সালের প্রতি নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিবারের সকলে মিলে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল। তাঁর মা জিনাত তাহির হুসেন, বোন নিখাত এবং আমিরকে নিয়ে ফয়সালের দেওয়া বক্তব্যকে ‘ভ্রান্ত ও বেদনাদায়ক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, “ফয়জালের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই ভালবেসে এই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল। আমরা চাইনি পরিবারের এই যন্ত্রণাদায়ক বিষয়টি জনসমক্ষে আসুক।” গণমাধ্যমকে এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে মুখরোচক খবর না করারও অনুরোধ জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই বিবৃতিতে আমিরের প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত, কিরণ রাও, সন্তান জুনায়েদ ও ইরা খান সহ পরিবারের প্রায় ১৫ জন সদস্য সই করেছিলেন। ভাগ্নে ইমরান খান এবং মনসুর খানও পরিবারের এই সংহতিতে শামিল ছিলেন।
আমির ও ফয়জালের এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভাইয়ে-ভাইয়ে এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
