Mamata on ED: এবার মমতার নজিরবিহীন পদক্ষেপ, ED-র বিরুদ্ধে দুই থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর
Mamata Banerjee: বৃহস্পতিবার দিনভর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে রাজ্যবাসী। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে যখন ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন সেখানে হাজির হয়ে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘক্ষণ সেখানেই ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও উপস্থিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: দেশের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক ইতিহাসে গোটা দেশে এমন নজির রয়েছে কি না, তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই। বৃহস্পতিবার দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতির পর এবার থানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেক্সপীয়র সরণি থানা ও বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দিনভর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে রাজ্যবাসী। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে যখন ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন সেখানে হাজির হয়ে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘক্ষণ সেখানেই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুজিত বসু, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীও। শুধু তাই নয়, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও উপস্থিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর দল অর্থাৎ তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে ইডি। ল্যাপটপ, মোবাইলে থাকা তথ্যও চুরি হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। আর এবার সরাসরি থানায় অভিযোগ দায়ের।
প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি তল্লাশিতে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়ার সরণি থানায়। একটি মামলায় অভিযোগকারী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। অপর মামলাটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে করেছে পুলিশ। চুরি, জোরপূর্বক অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ ও ইলেক্ট্রনিক এভিডেন্স চুরির ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। লাউডন স্ট্রিট এলাকা শেক্সপীয়র সরণি থানার অধীন হওয়ায় সেখানে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, আইপ্যাকের অফিস সেক্টর ৫-এ হওয়ায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিধাননগর কমিশনারেটের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায়।
কোনও ক্ষেত্রেই কোনও অফিসার বা সিআরপিএফের নাম উল্লেখ করা হয়নি অর্থাৎ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মমতার এই পদক্ষেপে কড়া প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের। বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “একজন ব্যবসায়ীকে বাঁচানোর জন্য নিজে এফআইআর করছেন মুখ্যমন্ত্রী! নিজের পদের সম্মানটুকু অন্তত রাখুন।” হেরে যাবেন এই ভয়ে এসব করছেন বলে দাবি সুকান্তর। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক। আর কাউকে মুখ্যমন্ত্রী রাজি করাতে পারলেন না বলে নিজে এফআইআর করেছেন।”
