Mamata Banerjee: বৃহস্পতিবার আমি নতুন করে জন্মালাম: মমতা
Kolkata: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি প্রতিদিনই কিছু না কিছু করি। তৃণমূলের জন্ম জনতা দিয়েছে। অনেক লড়াই করেছি। এই হাজরাতে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছি। কল্যাণ ছিল সেদিন। ও বলল, দিদি আমি সবটা দেখেছি। আমি বললাম কল্যাণ কী দেখেছ? দিদি আপনারা মিছিল নিয়ে আসছেন। আমি দেখলাম সিপিএম-এর গুণ্ডারা সিনেমার মতো লোহার চেইন ঘুরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করছে। কল্যাণদের তাড়া করল।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit: Facebook
কলকাতা: হাজরা মোড়ে সভা করছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলার তদন্তে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সংঘাত বাধে ইডি আধিকারিকদের। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ইডি তৃণমূলের যাবতীয় তথ্য চুরি করে নিয়ে চলে গিয়েছে। এরই প্রতিবাদে এ দিন সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক নজরে সবটা..
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: তোমাদের জন্য কাঁদবে বেলা। বিদায় আসন্ন। বিদায় ঘণ্টা বাজছে। পাড়ায়-পাড়ায় বিজেপির মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন। পাড়ায়-পাড়ায় মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন। আর যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের নামের লিস্ট এলাকায় টাঙান। শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। অভিষেক আজ গেছে, আমি শুনলাম ও নাকি মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে লাঞ্চ করছে। আসলে জীবীত। ভোটাল লিস্টে মৃত। বুঝুন সুপুরি নেই পান সাজছে। আর চোখ থেকে ভাববেন বাজ পাখির থেকে ভয়ঙ্কর। ক্ষমতা থাকলে গণতান্ত্রিকভাবে লড়ো। ওই মালপোয়াটা শয়তান, এখানে একজনের নামে ঘর বুক করে রাখে। আর কী কী কুকীর্তি করে সব জানা আছে আমার। তারা এই মিডিয়া হাউসের মালিকদের ইনস্ট্রাকশন দেয়। মালপোয়া বাংলাকে চেনে? আগে মালপোয়া বানানো শেখ।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: নীরব মোদী চোর নয়? There are some মালিয়া মালপোয়া, মেহুল চাউলছেছকি। ওদের নীরবে নিঃশব্দে পাঠিয়েছে। ছাব্বিশের আমাদের পতন হবে না।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: নতুন জেনারেশনের নাম কেটে দিচ্ছে। ভ্যানিশবাবু দেড় কোটি ভোট কাটার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আর মেয়ে জামাইকে ডিএম বানিয়েছেন। নির্লজ্জ। এত নাম কেটে তারপর তুমি কোথায় থাকবে বাবা? যেখানেই থাকি তোমায় ফুঁড়ে বের করব।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: দেখুন আগে ৫৪ লক্ষ বাদ দিয়েছে। সব মহিলাদের নাম বাদ! বলে দিল ERO করেছে। অথচ ইআরও জানেই না। কত বড় অন্যায়। এই যে দেব বসে আছে, ওঠো–ওঠো…কত বছর ধরে বাংলায় সিনেমা করছে। ইলেকশনের সময় আসলে আমি তিলের নাড়ু, ক্ষীরের নাড়ু, মুড়ির নাড়ু বানিয়ে রাখব। আর মা বোনেরা? নয়না…সায়নী উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার… ঝাড়ু রাখবে….
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: হামারা পরিবার কা কোয়ি পলিটিক্স নেহি করে গা। তোমার ছেলে এখন আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট। ব্লক প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নয়। এরা রেড কার্পেট পেতে অনেক যত্নে অনুষ্ঠান করে। একটা ছেলে জয় বাংলা বলে মারতে তেড়ে গেছিল। আমি ছবি দেখি। আর কয়েকটা দালাল জুটেছে ওদের। যাঁদের হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করেছি। সেই গদ্দারের দল, বেশি কথা বললে নেদারল্যান্ডের হেগে কী করছিলে, আমি বলব না কুণালকে দিয়ে বলিয়ে দেব।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পহেলগাঁও, হাথরাস, উন্নাও সব ভুলে গেছেন? কয়লা CISF-এর দায়িত্বে, পাসপোর্ট, কাস্টমস কার দায়িত্বে? প্লেন কার দায়িত্বে চলে? অমর্ত্য সেনকে প্রশ্ন করছে বাবা মায়ের বয়সের এত ফারাক কেন? আমি বলি ওরে গর্ধবের দল, ৯০ বছর আগে তোমার বাবা-মায়ের বয়স কত ছিল।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি তৃণমূলের চেয়ারম্যান হয়ে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। তুমি চোরের মতো কেন এসেছ? তুমি সব ডেটা আমার চুরি করছিল। তোমরা তো ছটা থেকে করছ। আমি সারে এগারোটায় গেছি। পাঁচ ঘণ্টা সব চুরি করেছ। আমি খবর শুনেছিলাম। ভেবেছি কথা বলতে এসেছে। আমি প্রতীককে ফোন করি। তোলেনি। তখনই সন্দেহ হয়। ভাবলাম পার্টিরল সব নিয়ে পালাচ্ছে না তো। মানুষকে ভালবাসি যেমন, জোড়া ফুলে তো দাঁড়াই। পার্টি রক্ষা না হলে মানুষের জন্য লড়ব কীভাবে? অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে আমায় জানায়। মোদী যখন ১৪তে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সেই সময় আইপ্যাক কাজ করেছে ওদের হয়ে। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিল। এখন প্রশান্ত নেই। প্রতীক দেখে। আমাদের একটাই আইটি সেল দেখে ওরা। আমাদের একটাই সবে ধন নীল মণি। রণডঙ্গা বাজিয়ে আসছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ওরা অনেক রাজ্য জোর করে দখল করেছে। বাংলা শুনলে আর সহ্য করতে পারছে না। বাংলা ভাষাতে কথা বললেই মারছে। এখানে হিন্দিভাষীদের উপর কখনও অত্যাচার হয়েছে? এই বিজেপিকে ভদ্রতা করি, নয়ত…মুখে বলব না কী করতে হয় আপনারা জানেন। আমরাও যদি করতে পারতাম না, অনেক কিছু করতে পায়। বলছে কয়লার টাকা! কে খায়? অমিত শাহ খায়। গদ্দারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। সাথে আছে জগন্নাথ। পুরীর জগন্নাথ নয়। জগন্নাথের থ্র্ু তে টাকা যায় শুভেন্দুর কাছে। তারপর সেই টাকা অমিত সাহের কাছে টাকা যায়। শুনুন ভাগঅয ভাল, আমি চেয়ারে আছি তাই পেনড্রাইভ বের করে দিই না। বেশি লাগালে বলে দিচ্ছি। আমার কাছে সব পেনড্রাইভ আছে। ভান্ডা ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সহ্য করি। মনে রাখবেন লক্ষ্মণের সীমা আছে। আমি দেশের স্বার্থে বলি না। আমি মুখ খুললে সারা পৃথিবীতে হইচই হবে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভ্যানিশ কুমার যদি ভোট ভ্যানিশ করে তাহলে বলব না কেন? উনি কি ম্যাজিশিয়ান। নাগরিকদের অধিকার কাড়লে, আপনাদের অধিকার কাড়ব। মনে রাখবেন আঘাত করলে প্রত্যাঘাত কীভাবে করতে হয়, আমাদের সাংসদরা করেছেন। আজ আমাদের সাংসদদের চ্যাংদোলা করে কী ব্যবহার করেছেন। আর ওঁরা বাংলায় এলে রেড কার্পেট বিছানো হয়।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যাঁরা তৃণমূলকে বাজে বাজে কথা বলেন তাঁরা জানেন না, ওরা এত ডেডিকেটেড হয় ফাঁসির মঞ্চে চলে যেতে পারে। এসআইআর-এ বৃদ্ধদের নিয়ে আসছ। লজ্জা করে না? এমন পার্টি আমি দেখিনি। লজ্জা করে না? বাংলায় কথা বললেই বলছে বাংলাদেশি। বলছে বাংলায় রোহিঙ্গা ভর্তি। একটাও খুঁজে পায়নি। ওরা ভোট চুরি করেছে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে। আমার কী করবে? ঘেচু করবে। আগের বার আমায় ক্যাম্পেন করতে দেয়নি। একদিন আটকাবে, একশো দিনের ফসল তুলে নেব।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি কিছুই জানতাম না। সকালে খবর পাই কিছু একটা হচ্ছে। আমি আর জানবার চেষ্টা করিনি। মাথায় মারার পর থেকে ভোর চারটের আগে ঘুমোতে পারি না। অভিষেক মেসেজ করেছিল। মিসড করে গিয়েছি।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমায় আঘাত না করলে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমানো মানে ওই ঘুম নয়… ডিসকভারি দেখি, আঁকি, কবিতা লিখি। আমায় আঘাত করলে পুর্নজীবন হয়। গতকাল আমি ভাবছিলাম আবার নতুন করে জন্মালাম।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি প্রতিদিনই কিছু না কিছু করি। তৃণমূলের জন্ম জনতা দিয়েছে। অনেক লড়াই করেছি। এই হাজরাতে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছি। কল্যাণ ছিল সেদিন। ও বলল, দিদি আমি সবটা দেখেছি। আমি বললাম কল্যাণ কী দেখেছ? দিদি আপনারা মিছিল নিয়ে আসছেন। আমি দেখলাম সিপিএম-এর গুণ্ডারা সিনেমার মতো লোহার চেইন ঘুরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করছে। কল্যাণদের তাড়া করল। কীভাবে মোটা ডান্ডা…আমার লাগেনি। আমার মাথায় ডান্ডা মেরেছে। গলগল করে রক্ত বেড়েছে। ব্রেন ফেটে রক্ত বেরচ্ছে। আবার ডান্ডা তুলছে, তখন ডান হাত একা একা মাথায় উঠে গেছে। তাই আমার হাতের অর্ধেক নেই। আলনা থেঁতলে গেছে। ব্রেনে অপারেশন হয়। হাতে অপারেশন হয়। তারপরও মার খেয়েছি। আমায় অনেক যোগাসন করতে হয়। আমি কাজের মধ্যে বেঁচে থাকি।
