‘বাচ্চাদের দোষ নেই, দোষ আপনাদেরই!’ কেন হঠাৎ চটলেন অক্ষয়?
অক্ষয় জানান, ইন্টারনেট এতটাই ভয়ংকর যে, একটা মাত্র ‘রিল’ দেখার চক্করে কখন যে জীবনের ৬ ঘণ্টা সময় শেষ হয়ে যায়, তা টেরও পাওয়া যায় না। এরপরই অক্ষয় তাঁর এক বন্ধুর জীবনের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনান। তিনি বলেন, সেই বন্ধু দিনে গড়ে সাড়ে ৬ ঘণ্টা করে মোবাইলে রিল দেখতেন।

আজকালকার দিনে ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়াটা অনেকটা যেন ‘ফ্যাশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্ত করতে হোক বা খাওয়াতে স্মার্টফোনই এখন অনেক মা-বাবাদের শেষ অস্ত্র। কিন্তু এই অভ্যাস যে আসলে বিষের মতো কাজ করছে, তা নিয়েই এবার বিস্ফোরক বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি একটি রিয়্যালিটি শো-তে এসে অক্ষয় মুখ খুলেছেন এই বিষয়। তাঁর সাফ কথা, “বাচ্চাদের আসক্তির জন্য তারা দায়ী নয়, দায়ী তাদের অভিভাবকরাই।”
জনপ্রিয় কুইজ শো ‘হুইল অফ ফরচুন’-এর মঞ্চে এই বিষয় নিয়ে মুখ খোলেন অক্ষয়। সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে একজন মা আক্ষেপ করে বলেন, এখনকার বাচ্চারা ফোন না দেখলে মুখে খাবারই তোলে না। এই কথা শুনেই অক্ষয় বর্তমান প্রজন্মের মা-বাবাদের প্রশ্ন করেন, “এখানে কতজন মা-বাবা আছেন যাঁরা মনে করেন তাদের সন্তান মোবাইলে আসক্ত?” যখন অনেকেই হাত তোলেন, তখন অক্ষয় সরাসরি বলেন, “এই মোবাইল ফোনটা তো প্রথমবার আপনারাই ওদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন!”
অক্ষয় জানান, ইন্টারনেট এতটাই ভয়ংকর যে, একটা মাত্র ‘রিল’ দেখার চক্করে কখন যে জীবনের ৬ ঘণ্টা সময় শেষ হয়ে যায়, তা টেরও পাওয়া যায় না। এরপরই অক্ষয় তাঁর এক বন্ধুর জীবনের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনান। তিনি বলেন, সেই বন্ধু দিনে গড়ে সাড়ে ৬ ঘণ্টা করে মোবাইলে রিল দেখতেন। ফল কী হয়েছিল? টানা এক বছর এই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর ডায়াবেটিস মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। শুধু তাই নয়, অক্ষয় মনে করিয়ে দেন যে বর্তমানে ফোনের নেশা ছাড়াতে বহু মানুষকে ‘ডিজিটাল রিহ্যাব’-এ পর্যন্ত ভর্তি হতে হচ্ছে।
আলোচনার এক পর্যায়ে অক্ষয় একটি অসাধারণ উদাহরণ দেন। তিনি উত্তর আমেরিকার আদিবাসী বা ‘রেড ইন্ডিয়ান’দের একটি ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে জানান, আদিবাসীরা আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে যখন গান-গল্প করেন, তখন কোনও শিশু আগুনের দিকে এগিয়ে গেলেও তারা তাকে আটকান না। যতক্ষণ না সেই শিশুটির হাত আগুনের ছোঁয়ায় সামান্য পুড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে বাধা দেওয়া হয় না। একবার ছ্যাঁকা খাওয়ার পর সেই শিশুটি সারাজীবনের মতো শিক্ষা পায় যে আগুন বিপদজনক। অক্ষয়ের মতে, বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তিও তেমনই। প্রথম থেকেই যদি অভিভাবকরা সতর্ক না হন, তবে বড় বিপদ আসবেই।
সবশেষে অক্ষয় নম্রভাবেই বলেন যাঁদের এই কথাগুলো ঠিক মনে হবে, তারা যেন সময় থাকতে সাবধান হন। কারণ মা-বাবার থেকে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী সন্তানদের জন্য আর কেউ হতে পারে না।
