Kolkata Municipal Corporation: কলকাতার পরিচ্ছন্নতা তাঁদের হাতেই, বেতন ‘আটকে’ যাওয়ায় কাজে অনীহা, কী হবে এবার?
Kolkata Municipal Corporation sanitation workers: পৌরনিগমের শাসকদলকে খোঁচা দিতে ছাড়ল না বিরোধীরা। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, "স্থায়ী কর্মী ছাড়া পৌরনিগমে বাকি সব নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে হয়। বায়োমেট্রিক দিলে আসা-যাওয়া ধরা পড়ছে। আগে এমনিতেই আসতেন না। ৩ দিন পর এসে সই করে মাইনে নিতেন।" আবার ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআই কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব বলেন, "কোনও নিয়ম চালু করার আগে যাঁদের জন্য নিয়ম, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তাঁদের আগে জানানো দরকার ছিল, কী কারণে বায়োমেট্রিক করা হচ্ছে। তাহলে সমস্যা হত না।"

কলকাতা: তিলোত্তমাকে পরিষ্কার তাঁরাই রাখেন। তবে সাফাইকর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক চালুর পর নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। যার জেরে অর্ধেকের বেশি সাফাইকর্মী পেলেন না বেতন। শহরজুড়ে সাফাইয়ের কাজে তার প্রভাব পড়েছে। কীভাবে বায়োমেট্রিক ইস্যুর সমাধান হবে, তা নিয়ে চিন্তায় কলকাতা পৌরনিগম। বিরোধীরা এই নিয়ে খোঁচা দিচ্ছে শাসকদলকে।
নির্বাচন দোরগোড়ায়। তার আগে শহরজুড়ে সাফাইকর্মীদের নিয়ে চরম সমস্যায় কলকাতা পৌরনিগম। সাফাইকর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু হয়েছে। অথচ তাঁদের এই নয়া হাজিরার বিষয়ে তেমন কোনও পাঠও দেওয়া হয়নি পৌরনিগমের তরফে। যেকারণে সকালে কাজে যোগ দেওয়ার সময় একবারমাত্র বায়োমেট্রিকের ছাপ দিয়ে তাঁরা কাজ শুরু করছেন। কিন্তু যে নির্দিষ্ট সময় ধরা রয়েছে তাঁদের শিফট শেষের, তার আগেই তাঁরা চলে যাচ্ছেন।
ফলে গত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসে বায়োমেট্রিক মেশিনে প্রত্যেকের সিঙ্গল পাঞ্চ বা উপস্থিত দেখিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের বিপত্তি হওয়ায় প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ সাফাইকর্মীর বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, কলকাতা পৌরনিগম এলাকায় মোট দুই দফায় এই সাফাই করার কাজকর্ম হয়ে থাকে। সারাদিনে সাফাইকর্মীরা একবারই বায়োমেট্রিক মেশিনের ছাপ দিয়ে বের হতে অথবা ঢুকতে পারবেন। সেই কারণেই দুপুরে যে কাজ করছেন তাঁরা, এই সময় বায়োমেট্রিক ছাপ দিতে পারছেন না। ফলে তাঁদের হাজিরার বিষয়টি অস্বচ্ছ এবং অসম্পূর্ণ হিসাবেই থেকে যাচ্ছে।
সবমিলিয়ে শহরের বিভিন্ন অংশে সাফাইকর্মীরা কাজের ক্ষেত্রে অবহেলা দেখাতে শুরু করেছেন। হয় কাজ করছেন না, নয়তো প্রতিটি অলিগলিতে পৌঁছাচ্ছেন না। শহরের কোথাও কোথাও আবর্জনা দিনভর পড়ে থাকছে। কোথাও দু’দিন পর এসে সেই আবর্জনা সংগ্রহ করছেন সাফাইকর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে কলকাতা পৌরনিগমের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
কলকাতা পৌরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে খবর, কলকাতার সবকটি ওয়ার্ড মিলিয়ে মত ১৭৫টি পুর অফিসে এই বায়োমেট্রিক মেশিন লাগানো রয়েছে। তবে কলকাতা পৌরনিগমের ১৫ নম্বর বরোতে জায়গার অভাবে চারটি ওয়ার্ডে এই বায়োমেট্রিক মেশিন বসানো যায়নি। বর্তমানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে স্থায়ী সাফাইকর্মী রয়েছেন ৫ হাজার ৫৫০ জন। চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন ৭ হাজার ৯০ জন।
কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে খবর, এমনিতেই কর্মীর অভাবে শহরের সাফাই কাজকর্ম ব্যাহত হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে এক একটি ব্লকে যে পরিমাণ সুপারভাইজার থাকা প্রয়োজন, তা-ও নেই। তথ্য বলছে, প্রায় ৪০-৫৫ শতাংশ এই পদ খালি হয়ে গিয়েছে। যে কারণে কোথায় কাজ হচ্ছে, তা নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষে। একদিকে কর্মী সংকট, অন্যদিকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া, স্বাভাবিক কারণেই চরম সংকটে দিন গুনছে কলকাতা পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ।
এই নিয়ে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেয়র পারিষদ সদস্য দেবব্রত মজুমদার বলেন, “প্রথম দু-একদিন সমস্যা হয়েছিল। যেকোনও জিনিসই প্রথমে একটু সমস্যা হয়। আমরা সমস্তটাই দেখতে বলেছি। শ্রমিকদের কোনও সমস্যা হবে না। প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকলে আমাদের বিভাগকে দেখতে বলেছি। সময়মতো যাতে কাজ হয়, সেজন্য সমস্ত দফতরে বায়োমেট্রিক চালু হবে।”
পৌরনিগমের শাসকদলকে খোঁচা দিতে ছাড়ল না বিরোধীরা। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, “স্থায়ী কর্মী ছাড়া পৌরনিগমে বাকি সব নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে হয়। বায়োমেট্রিক দিলে আসা-যাওয়া ধরা পড়ছে। আগে এমনিতেই আসতেন না। ৩ দিন পর এসে সই করে মাইনে নিতেন।” আবার ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআই কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব বলেন, “কোনও নিয়ম চালু করার আগে যাঁদের জন্য নিয়ম, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তাঁদের আগে জানানো দরকার ছিল, কী কারণে বায়োমেট্রিক করা হচ্ছে। তাহলে সমস্যা হত না।”
