ইমরান হাশমি মাদক পাচারকারী! বিমানবন্দরে আটক হতেই কোন ভয়ে কেঁপে ওঠেন নায়ক?
বুধবার, ৮ জানুয়ারি মুম্বইয়ে এই সিরিজের ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে এসে নিজের বাস্তব জীবনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন অভিনেতা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং ‘ইমিগ্রেশন প্রোফাইলিং’ নিয়ে তাঁর অকপট বয়ান এখন টিনসেল টাউনের চর্চার কেন্দ্রে।

পর্দায় তিনি এবার ‘শিকারী’ নয়, বরং চোরাচালান দমনের কারিগর। পরিচালক নীরজ পাণ্ডের আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘তস্করী: দ্য স্মাগলার্স ওয়েব’-এ একজন কাস্টমস অফিসার হিসেবে দেখা যাবে ইমরান হাশমিকে। বুধবার, ৮ জানুয়ারি মুম্বইয়ে এই সিরিজের ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে এসে নিজের বাস্তব জীবনের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন অভিনেতা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং ‘ইমিগ্রেশন প্রোফাইলিং’ নিয়ে তাঁর অকপট বয়ান এখন টিনসেল টাউনের চর্চার কেন্দ্রে।
অনুষ্ঠানে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে পার হওয়ার সময় কখনও আটক হয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান জানান, শুল্ক আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে বরাবরই সৌজন্যমূলক ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর ভেতরে এক অদ্ভুত ভয় কাজ করে। ইমরান বলেন, “ভয়টা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। ঠিক যেমন গাড়ি চালাতে জানলেও রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ দেখলে বুক ঢিপঢিপ করে, এয়ারপোর্টেও আমার ঠিক তেমনটাই হয়। একা ভ্রমণের সময় ব্যাগে হয়তো শুধু জামাকাপড় আছে, কিন্তু গ্রিন চ্যানেল দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় ব্যাগে যেন ১০০ কেজি বেআইনি মাদক রয়েছে!”
ইমরান জানান, কেরিয়ারের শুরুর দিকে ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে বারবার ইমিগ্রেশন চেক-পোস্টে থামান হতো। তাঁর কথায়, “সেই সময় কানে দুল বা আমার সাজগোজ দেখে হয়তো অফিসারদের সন্দেহ হতো। আমাকে প্রায়ই সাইডে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। এটাকে বলে ‘প্রোফাইলিং’। হয়তো কোনও এক অপরাধীর হুবহু চেহারার সঙ্গে আমার মিল ছিল, যদিও সেই ব্যক্তি কে তা আমি আজও জানি না।”
তবে অভিনেতা হাসিমুখে যোগ করেন, এখন পরিবারের সঙ্গে থাকলে তাঁকে আর কেউ সন্দেহ করে না। পরিবারের উপস্থিতি যেন মুহূর্তেই তাঁর ভাবমূর্তি বদলে দেয় নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে।
নীরজ পাণ্ডের এই সিরিজে চোরাচালান চক্রের জটিল জাল এবং শুল্ক দপ্তরের আধিকারিকদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে। সিরিজে ইমরানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন শরদ কেলকর, জয়া আফরোজ এবং নন্দীশ সিং সান্ধু। আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে এই সিরিজ।
এর আগে ইমরানকে সুপর্ণ বর্মার কোর্টরুম ড্রামা ‘হক’-এ দেখা গিয়েছিল, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেত্রী ছিলেন ইয়ামি গৌতম। ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক শাহ বানো মামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি সেই ছবিতে ইমরানের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবার কাস্টমস অফিসারের চরিত্রে তিনি কতটা চমক দেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
