কেএল রাহুল-অথিয়ার নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার জালিয়াতি! গ্রেফতার ৩
অভিযুক্তরা ওই নামী তারকাদের সই নকল করা থেকে শুরু করে তাঁদের নামে ভুয়ো ইমেল অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত তৈরি করেছিলেন। যাতে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে, প্রোজেক্টগুলি আসল এবং সেই অনুযায়ী টাকা পেমেন্ট করে দেওয়া হয়। আন্ধেরির ওই সংস্থার কর্মী জেনি অ্যান্থনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, সংস্থার প্রধান অফিস হরিয়ানায় হলেও আন্ধেরি শাখাতেই এই কারচুপি চলেছে।

সেলিব্রিটিদের নাম ও জাল প্রোজেক্ট দেখিয়ে খোদ নিজেদের সংস্থাকেই কোটি কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ উঠল তিন কর্মীর বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকার একটি নামী বিজ্ঞাপন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সিতে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে। প্রতারণার জালে জড়ানো হয়েছে ক্রিকেটার কেএল রাহুল, অভিনেত্রী আথিয়া শেট্টি এবং অভিনেতা আরশাদ ওয়ারসির মতো তারকাদের নাম।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ওই তিন কর্মী জাল ইনভয়েস এবং ভুয়ো ইমেল আইডি তৈরি করে সংস্থা থেকে প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযুক্তদের নাম ঋষভ সুরেখা, যশ নাগরকোটি এবং আশয় শাস্ত্রী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪) ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ওই নামী তারকাদের সই নকল করা থেকে শুরু করে তাঁদের নামে ভুয়ো ইমেল অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত তৈরি করেছিলেন। যাতে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে, প্রোজেক্টগুলি আসল এবং সেই অনুযায়ী টাকা পেমেন্ট করে দেওয়া হয়। আন্ধেরির ওই সংস্থার কর্মী জেনি অ্যান্থনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, সংস্থার প্রধান অফিস হরিয়ানায় হলেও আন্ধেরি শাখাতেই এই কারচুপি চলেছে।
প্রধান অভিযুক্ত ঋষভ সুরেখা ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে সংস্থায় যোগ দেন। ব্র্যান্ডিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। অভিযোগ, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের মায়ের চিকিৎসার নাম করে সংস্থা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা সুদহীন ঋণও নিয়েছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন ভুয়ো প্রোজেক্টের নাম করে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা সরাসরি ঋষভের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ঋষভ দাবি করেন যে, অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে নিয়ে ‘হাইভেলস’-এর একটি বিজ্ঞাপন প্রোজেক্ট পেয়েছেন তিনি। প্রোডাকশন হাউসকে ৩১ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে জানা যায়, ডিলটি হয়েছিল ৬২ লক্ষ টাকার। এখান থেকেই খটকা শুরু হয় কর্তৃপক্ষের। এরপরই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। দেখা যায়, আরশাদ ওয়ারসি এবং আথিয়া শেট্টির নাম ব্যবহার করে এমন সব প্রোজেক্ট দেখানো হয়েছে, বাস্তবে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই।
বর্তমানে আন্ধেরি থানার পুলিশ এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ের কাজ চললেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
