তুঙ্গে থাকা কেরিয়ারে বিরতি! বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে মুখ খুললেন বিক্রান্ত
সাধারণত সন্তান হওয়ার পর মায়েরা কাজ থেকে বিরতি নিলে তাকে ‘মম গিল্ট’ বলা হয়। কিন্তু বিক্রান্তের স্ত্রী শীতল জানালেন, বিক্রান্তের ক্ষেত্রে কাজ করেছিল ‘ড্যাড গিল্ট’। ছেলেকে ছেড়ে শ্যুটিংয়ে যাওয়ার সময় এক তীব্র শূন্যতা অনুভব করতেন অভিনেতা।

কেরিয়ার যখন মধ্যগগনে, সাফল্যের পারদ যখন চড়চড় করে উপরে উঠছে, ঠিক সেই সময়েই কি না সব ছেড়েছুড়ে দেওয়া সম্ভব? গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানি এড়িয়ে অভিনেতা বিক্রান্ত মাসি কিন্তু ঠিক এই অভাবনীয় কাজটিই করে দেখিয়েছেন। ২০২৪ সালে যখন ‘দ্য সবরমতী রিপোর্ট’-এর মতো ছবি দিয়ে তিনি চর্চার কেন্দ্রে, তখনই হঠাৎ ঘোষণা করেন অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার কথা। কেন এমন সিদ্ধান্ত? সম্প্রতি পরিণীতি চোপড়ার নতুন টক-শো ‘মম টকস’-এ এসে সেই গোপন কথা ফাঁস করলেন অভিনেতা।
বিক্রান্তের কাছে পর্দার হিরো হওয়ার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল তাঁর বাস্তব জীবনের ‘বাবা’ চরিত্রটি। বিক্রান্ত জানান, প্রথমবার বাবা হওয়ার পর এক অদ্ভুত মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শ্যুটিং ফ্লোরে থাকলেও মন পড়ে থাকত বাড়িতে। অভিনেতা বলেন, “আমরা কাজের জন্য নিজেদের কতটা উজাড় দিই তা সবাই জানেন। কিন্তু বাবা হওয়ার পর আমার সমস্ত মনোযোগ ছিল কেবল বাড়িতে। নিজেকে প্রশ্ন করার সুযোগও পাইনি, শুধু মনে হয়েছিল দায়িত্বগুলো মিটিয়ে দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বরদান আর শীতলের কাছে ফিরে যাই।”
ঠিক কোন মুহূর্তে তিনি কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন? সেই গল্পটি বেশ আবেগপ্রবণ। বিক্রান্ত যখন কাজে ব্যস্ত, তখন তাঁর ছেলে বরদান ছিল তার ঠাকুমার বাড়িতে। সেখানেই আধো আধো স্বরে প্রথমবার ‘পাপা’ বলে ডেকে ওঠে একরত্তি শিশুটি। বিক্রান্তের কথায়, “ওই ডাক শোনার পরেই আমার মনে হয়েছিল, এবার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে। এর ঠিক দু’মাস পরেই আমি বিরতির ঘোষণা করি। বিশ্বাস করুন, জীবনের সব সাফল্যের চেয়েও এটাই আমার কাছে সবথেকে বড় পাওনা।”
সাধারণত সন্তান হওয়ার পর মায়েরা কাজ থেকে বিরতি নিলে তাকে ‘মম গিল্ট’ বলা হয়। কিন্তু বিক্রান্তের স্ত্রী শীতল জানালেন, বিক্রান্তের ক্ষেত্রে কাজ করেছিল ‘ড্যাড গিল্ট’। ছেলেকে ছেড়ে শ্যুটিংয়ে যাওয়ার সময় এক তীব্র শূন্যতা অনুভব করতেন অভিনেতা।
সমাজ সব সময় শেখায় পুরুষদের কাজ হল বাইরে গিয়ে রোজগার করা। কিন্তু এই ধারণা ভেঙে বিক্রান্ত বলেন, “নতুন মায়েদের মতো বাবাদেরও সন্তানকে ছেড়ে বাইরে যেতে কষ্ট হয়। ঘরে যে মানুষটি বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, তাঁকে দেখে হিংসে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।” তিনি আরও জানান যে, কাজে গিয়েও প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর বাড়িতে ফোন করতেন শুধু ছেলের মুখটা দেখবেন বলে। নতুন বাবাদের প্রতি তাঁর পরামর্শ— “ভিতর থেকে দুর্বল লাগলে বা বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করলে লজ্জা পাবেন না, এটা খুবই স্বাভাবিক।”
‘টুয়েলভথ ফেল’ খ্যাত এই অভিনেতাকে শেষবার ‘আঁখো কি গুস্তাখিয়াঁ’ ছবিতে দেখা গিয়েছে। তবে আপাতত তিনি কোনও নতুন ছবিতে সই করছেন না। লাইমলাইটের চেয়ে ছেলের শৈশবের প্রতিটি মুহূর্তকে বেশি দামী মনে করছেন বিক্রান্ত।
