
নয়া দিল্লি: গর্ভে সন্তানকে নিয়েই অনেক মহিলা লোকো পাইলট হিসাবে ডিউটি করেন। অনেকে এই পরিস্থিতিতে ‘মিসক্যারেজ’-এর মুখোমুখি হন। গর্ভের সন্তানকে হারাতে হয় গর্ভেই। এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমনই একদল মহিলা ট্রেন চালক চিঠি দিলেন রেলওয়ে বোর্ডকে। তাঁদের আর্জি, রেল বোর্ড একটা নীতি নির্ধারণ করুক, যাতে কোনও লোকো পাইলট সন্তানসম্ভবা হলে তাঁর কাজের ধরনে বদল আনা হয়। হালকা কোনও কাজ অর্থাৎ ড্রাইভারের কাজের বদলে তাঁকে অফিসের কাজে বদলি করা হয়।
মেটেরনিটি বেনিফিট (সংশোধনী) অধিনিয়ম ২০১৭ তে এ সংক্রান্ত নিয়ম রয়েছে। এক মহিলা লোকো পাইলটের বক্তব্য, মেটারনিটি বেনেফিট অ্যাক্টের ৪ নম্বর ধারায় স্পষ্ট করা রয়েছে, এই সময় মহিলাদের ভারী বা কঠিন কোনও কাজ করানো যায় না।
তাঁদের বক্তব্য, স্টেশন থেকে ইঞ্জিন-ক্যাবে ওঠা সহজ। তবে স্টেশনের বাইরে কোনও জায়গা বা রেলওয়ে ইয়ার্ড থেকে গর্ভাবস্থায় ইঞ্জিন-ক্যাবে ওঠা যথেষ্ট কঠিন কাজ। উচ্চতা এ ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হয়। সিঁড়ি বেয়ে ওঠাটা সেই সময় ততটা সহজ নয়।
আরেক লোকো পাইলট নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, লোকো পাইলট বা অ্যাসিসট্যান্ট লোকো পাইলটকে আরও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। যেমন, অ্যালার্ম চেন টানার ক্ষেত্রে যিনি অ্যাসিসট্যান্ট লোকো পাইলট হিসাবে কাজ করেন, তাঁকে তা ঠিক করতে নির্দিষ্ট কোচে যেতে হয়। এমনও হয়, সেই কোচের দিকে ছুটে যেতে গিয়ে কোনও কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, মাটিতে পড়েও যান।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তো থাকেই। কখনও কখনও এমনও হয়, ইঞ্জিনের সামনে কোনও গবাদি পশু চলে এল। তা দেখে শরীর অস্থিরও করে ফেলে এই অবস্থায়। তাই এই অবস্থায় হালকা কাজের আর্জি তাঁদের। অফিসে বসে কাজ করতে চান তাঁরা।