Tamil Nadu Assembly Election Results 2021: শেষ হাসি ফুটল স্ট্যালিনের মুখেই, কী কী ফ্যাক্টরে শাসকদলের হাট্রিক আটকাল ডিএমকে?

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন বলেন, "ডিএমকের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।"

Tamil Nadu Assembly Election Results 2021: শেষ হাসি ফুটল স্ট্যালিনের মুখেই, কী কী ফ্যাক্টরে শাসকদলের হাট্রিক আটকাল ডিএমকে?
ফাইল চিত্র।

চেন্নাই: তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের চিরাচরতি রীতি ভেঙেছিল ২০১৬ সালে। দ্বিতীয় বারের জন্য শাসকদল হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল এআইএডিএমকে। তৃতীয় বারও মসনদ দখলকেই পাখির চোখ বানিয়ে এগোলেও স্ট্যালিন ঝড়ের কাছে টিকতে পারল না পালানিস্বামীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। আপাতত ১৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিরোধী দল ডিএমকে। শাসক দল এগিয়ে রয়েছে ৮০টি আসনে।

তামিলনাড়ুর ভোটচিত্র-

২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় স্বাধীনতা পরবর্তী অধ্যায়ে কংগ্রেসের একছত্র রাজত্ব থাকলেও ১৫ তম বিধানসভা নির্বাচন থেকে রাজনাতির চিত্রটা বদলাতে থাকে। করুণানিধি, এমজি রামচন্দ্রনের মতো তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদদের উত্থানে কংগ্রেস মিলিয়ে যায় তামিলনাড়ুর মানচিত্র থেকে। ১৯৭১ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয় দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজগাম, মুখ্যমন্ত্রী হন এম করুণানিধি। কিন্তু পাঁচবছর বাদেই সরকার বদলে আসে, এ বার জয়ী হয় অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজ়গাম, যা সংক্ষেপে এআইএডিএমকে নামে পরচিত। ১৯৭৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী হন এমজি রামাচন্দ্রন। ১৯৮৪ সাল অবধি এআইএডিএমকে-র দখলেই তামিলনাড়ু থাকলেও ১৯৮৯ সালে ফের ক্ষমতায় আসে ডিএমকে। এরপরই রীতি তৈরি হয়ে যায় তামিল রাজনীতিতে। পাঁচবছর অন্তরই অদলবদল করা হত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে।

২০১৬ সালেই আম্মা (জয়ললিতা)-র হাত ধরে সেই চিরাচরিত রেকর্ড ভেঙে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করে এআইএডিএমকে। কিন্তু সেই বছরই মৃত্যু হয় দলনেত্রীর। ২০১৮ সালে মৃত্যু হয় করুণানিধিরও। দুই দলের প্রধানের মৃত্যুর পর এই প্রথম দলের ভাগ্য নির্ধারণের বড় পরীক্ষার সামনে পড়েছিল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল।

ফলাফল ঘোষণার আগেই ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন বলেন, “ডিএমকের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।” অন্যদিকে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান জোটসঙ্গী কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীও। তবে ডিএমকে-র এই জয়ের পিছনে রয়েছে বিশেষ কয়েকটি কারণ-

পরিবর্তনের ডাক:

তামিলবাসীরা পরিবর্তনে বিশ্বাসী। সেই কারণেই পাঁচ বছর অন্তরই সরকারে রদবদল আনত রাজ্যের ভোটাররা। ১০ টানা ১০ বছর এআইএডিএমকে ক্ষমতায় থাকার পরও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণেই ব্যর্থ হওয়ায় ফের একবার ডিএমকের উপরই রাজ্যবাসী আস্থা রেখেছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত।

আম্মার অভাব:

এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পরই দলে একটি বড় শূন্যতা পূরণ হয়। তার যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইকে পালানিস্বামীকে বেছে নেওয়া হলেও, তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না অনেকেই। অন্যদিকে, জয়ললিতার ছায়াসঙ্গী শশীকলার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ এবং তাঁর জেলে যাওয়ার পরই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকেও সাদরে গ্রহণ করা হয়নি। দলের ফেরার জন্য অনুনয় করলেও প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় শশীকলার ভাইপো দিনাকরণ নিজেই আম্মা মাক্কাল মুনেত্রা কাজ়াগাম নামক একটি দল গঠন করেন। ২০২১-র বিধানসভা ভোটে দিনাকরণ ও শশীকলার সমর্থক, যারা এতদিন এআইএডিএমকে-কেই ভোট দিয়ে এসেছেন, তারাও নিজেদের মত পরিবর্তন করেন।

মোদী বিরোধী ঝড়: 

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন তামিলনাড়ুতে মোদী বিরোধী ঝড় ওঠে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শাসক দল এআইএডিএমকে-র সঙ্গেই হাত মিলিয়ে তামিলনাড়ুর ভোট ময়দানে নামে বিজেপি। অন্যদিকে, ডিএমকের জোটসঙ্গী ছিল কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই মোদী বিদ্বেষের একটা পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলাফলে।

যোগ্য উত্তরসূরীর লড়াই:

জয়ললিতার প্রয়াণে এআইএডিএমকের একাধিক নেতার নাম উঠে আসলেও কাউকেউই যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে মানা হয়নি। সেখানেই করুণানিধির প্রয়াণের পর এমকে স্ট্যালিন, তাঁর বোন কানিমোঝি রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কিছুদিনের মধ্যেই জয়প্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন স্ট্যালিন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্ট্যালিন পুত্র উদয়নিধিরও, যিনি যুব নেতা হিসাবে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:

ক্ষমতায় এলে শিল্পক্ষেত্রে তামিলবাসীদের জন্য ৭৫ শতাংশ সংরক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডিএমকে। এছাড়াও পেট্রপণ্যের মূল্য হ্রাস, এলপিজি সিলিন্ডারে ১০০ টাকা করে ভর্তুকিও দেওয়ার  ঘোষণাও করা হয়। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সংরক্ষণ বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ, রাজ্যের মন্দির সংস্কারে ১০০০ কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব দিয়েছেন স্ট্যালিন। একইসঙ্গে মসজিদ ও চার্চ সংরক্ষণেও ২০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে জানিয়েছিলেন তিনি। মন্দিরের পুরোহিতদের মাসিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

একদিকে চেন্নাইয়ে পাইপ লাইনে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে সালেন থেকে কোয়েম্বাটোর অবধি মেট্রো পরিষেবা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল । বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য স্মার্ট কার্ড তৈরির ঘোষণাও করা হয়। তবে সবথেকে বড় চমক ছিল, গৃহবধূদের বেতন। আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করার সময় স্ট্যালিন জানিয়েছিলেন, রাজ্যের গৃহবধূদেরও এবার থেকে বেতন দেওয়া হবে। প্রতি মাসে তাঁদের ১০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ইস্তেহারে বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকার ভর্তুকিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল ডিএমকে। প্রয়াত নেতা করুণানিধির নামেও রাজ্যে গরীব মানুষদের জন্য ৫০০ কালাইঙ্গার ক্যান্টিন তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন ডিএমকে শীর্ষ নেতা এম কে স্ট্যালিন।

২০১৬ সালের রাজনীতির চিত্র:

২০১৬ সালে এআইএডিএমকে মোট ১৩৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল এবং ডিএমকের ঝুলিতে পড়েছিল মাত্র ৮৯টি আসন। ডিএমকের জোটসঙ্গী কংগ্রেস জিতেছিল ৮টি আসন।

 

 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla