AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Recruitment Scam in Bengal: ‘সায়নীর পিছনে অনেক টাকা খরচ করত’, নিয়োগ দুর্নীতির বড় পর্দাফাঁস এই ‘মিডলম্যানের’

Recruitment Scam in Bengal: কুন্তল-অভিষেকের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে বলেন, “অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া এত বড় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। উনিই দুর্নীতির মাথা। আমার ধারণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবই জানতেন। উনি জানতেন না এটা হতে পারে নাকি!”

Recruitment Scam in Bengal: 'সায়নীর পিছনে অনেক টাকা খরচ করত', নিয়োগ দুর্নীতির বড় পর্দাফাঁস এই ‘মিডলম্যানের’
চাপানউতোর চলছে Image Credit: TV 9 Bangla GFX
| Edited By: | Updated on: Jul 01, 2026 | 7:28 PM
Share

কলকাতা: টলিউড থেকে তৃণমূল– বিগত কয়েক বছরে নামের তালিকাটা ক্রমেই দীর্ঘ হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ কাঁপানো স্টার থেকে শুরু করে স্বল্প পরিচিত, ঝাঁকে ঝাঁকে সেলিব্রেটি বিগত কয়েক বছরে ভিড়েছেন ঘাসফুল শিবিরে। কেউ হয়েছেন বিধায়ক তো কেউ সাংসদ। কিন্তু, অভিনয় জীবন থেকে কার্যত বিদায় নিয়ে পাকাপাকিভাবে সংগঠনের হাত শক্ত করেছেন, মাঠে-ময়দানে পড়ে থেকেছেন এমন নেতা-নেত্রীদের কথা উঠলে অবশ্যই যাঁদের নাম সামনে আসে তাঁদের মধ্যে একেবারে শীর্ষ তালিকায় সায়নী ঘোষ। কালীঘাটের অন্যতম আস্থাভাজন হিসাবে বরাবরই উঠে এসেছে তাঁর নাম। একসময় আলো করেছেন তৃণমূলের সব মঞ্চ। সামলেছেন যুব সংগঠনের গুরু দায়িত্ব। লোকসভায় তুলেছেন ঝড়। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পর ‘বদলেছেন’ সায়নীও। এখন যদিও তিনি দিল্লিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের দলে ভিড়ে একেবারে NCPI-র কোল আলো করে বসে রয়েছেন। আর এই আবহে সায়নীকে নিয়ে বড় কথা বলে বসলেন নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের অন্যতম ‘মিডলম্যান’ তাপস মণ্ডল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই একাধিকবার ইডি ও সিআইডি-র জেরার মুখে পড়েছিলেন এই তাপস। 

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? 

‘প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সব জানতেন মমতা। জেনেও চুপ করেছিলেন।’ এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করছেন তাপস। সোজা কথায় এককালের অন্যতম আস্থাভাজনই এখন অভিষেকের বিরুদ্ধে রীতিমতো খড়গহস্ত। তাঁর দাবি, কুন্তল ঘোষের হাত ধরে কালীঘাটের কাকুর মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যেত অভিষেকের কাছে। টাকা না পৌঁছালে নাকি ভেরিফেকেশন আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও আসতো। 

Tapas Mondal

কী বললেন সায়নীকে নিয়ে?

অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া এত বড় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত তাপসের। অভিষেকের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে বলেন, “উনিই দুর্নীতির মাথা। আমার ধারণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবই জানতেন। উনি জানতেন না এটা হতে পারে নাকি! অভিষেককে গ্রেফতার করা দরকার।” আর এরপরই বড় কথা বলে দিলেন সায়নী ঘোষকে নিয়ে। কুন্তলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “গোটা রাজ্য়ে এরকম হাজার কুন্তল পাওয়া যাবে যাঁরা অভিষেকের নামে টাকা তুলেছে। সায়নীর পিছনে অনেক খরচ করতো কুন্তল। কারণ ও তো যুব সম্পাদক, আর সায়নী যুব সভানেত্রী। ওকে তো ফ্ল্যাট, গাড়ি দিয়েছে।” 

বর্তমানে কালীঘাট তৃণমূলে অন্দরে কান পাতলেই বিদ্রোহীদের নিয়ে শোনা যাচ্ছে কত শত ফিসফাস। রোজই সুর চড়াচ্ছেন মমতা-পন্থী নেতারা। আর এই আবহে সায়নীকে নিয়ে এই মন্তব্য যে রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে শুধু সায়নী নয়, অভিষেককে নিয়েও সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্যে এত বড় অভিযোগ খুব একটা শোনা যায়নি। অন্যদিকে এর আগেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন সায়নী। ম্যারাথন জেরাও চলেছে। যদিও সাম্প্রতিককালে আর ডাক পাননি। 

কত টাকার লেনদেন?

তাপসের সাফ কথা, তাঁরই মাধ্যমে ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা তাঁর মাধ্যমে গিয়েছিল কুন্তল ঘোষের কাছে। কয়েক ধাপে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পুরোটাই দেওয়া হয়েছিল নগদে। তিনি বলছেন, “আমি একটা ডায়েরি মেনটেন করতাম। তাতেই সব লেখা থাকতো। কুন্তলের থেকে টাকা শেষ পর্যন্ত কাকুর কাছে পৌঁছাতো। কাকু যেহেতু অভিষেকের লোক, ওর নাম করেই যেহেতু টাকা নেওয়া হচ্ছিল ফলে আমি কনফার্ম ছিলাম অভিষেকের কাছে টাকাগুলো যাচ্ছে।”  

এতকিছুর মধ্যে সুর চড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষও। তিনি যদিও অভিষেকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলছেন, “অভিষেককে ধরার জন্য এসবের আর প্রয়োজন নেই। বাংলার মানুষ জানে ও একটা চাকরি চোর, গরু চোর, কয়লা চোর, বালি চোর। ওকে টেনে নিয়ে ঢুকিয়ে দিলেই হবে। কিন্তু মাছ ধরার আগে একটু খেলিয়ে ধরলে যে ধরে তার একটু মজা লাগে। সেই খেলাটাই চলছে এখন।”  

Follow Us