Mahua Moitra on Suvendu Adhikari: ‘শুভেন্দুদাকে সম্মান করি, ওঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক’, বলার পরই বড় বোম ফাটালেন মহুয়া মৈত্র
Mahua Moitra-Suvendu Adhikari news: মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে মহুয়া বলেন, "আমি ওঁকে (মহুয়া মৈত্র) সম্মান করি। শুভেন্দুদার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। অন্য দলে যাওয়ার পর কথা হয় না, কিন্তু ভালো সম্পর্ক আছে। আগে যখন একসঙ্গে পার্টি করতাম, খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।"

নয়া দিল্লি: তৃণমূলের বিশ্বাসঘাতকদের থেকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভালো। এ কথা বলছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। দলের বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের এক হাত নিলেন তিনি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন, তাও খোলসা করলেন।
অভিষেকের নেতৃত্ব মানবেন না, এই কথা বলেই ভোটের পরাজয়ের পর একের পর এক সাংসদ ও বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। বিধানসভায় যেমন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে, তেমনই লোকসভায় কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে আলাদা ফ্রন্ট তৈরি হচ্ছে, যারা এনডিএ-কে সমর্থন করতে রাজি। এই সাংসদ-বিধায়কদের আজ চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বলেছেন, “তৃণমূলে এখন সিরিয়াল চলছে। সিরিয়ালের নাম, কিউকি সাংসদ ভি কভি গদ্দার থে…।”
মহুয়ার সাফ বক্তব্য, “অভিষেক তো কাল জেনারেল সেক্রেটারি হননি। আপনারা জেনে বুঝে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছেন। বিজেপি বা কংগ্রেসে কেন যাননি? সিপিআইএমে কেন যাননি? আমি তো জানি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাধারণ সম্পাদক। তাও আছি।”
বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের তুলনায় শুভেন্দু অধিকারী অনেক ভালো ছিলেন বলেই উল্লেখ করেন মহুয়া। তিনি শুভেন্দুর দল ছাড়ার ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী অভিষেককে গ্রহণ করতে, মানতে চাননি। ওঁর মত ছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর পার্টির নম্বর টু ওঁর হওয়া উচিত। ওঁ এটাও জানতেন যে অভিষেক বেঁচে থাকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদ ওঁকে দেবেন না। শুভেন্দু সাফ বলেছিলেন যে আমি মানছি না। বিজেপিতে যাচ্ছি। ২০২০ সালে গিয়েছেন, ভোটের আগে গিয়েছেন। ২০২১ সালে নির্বাচনে লড়ে দিদিকে হারিয়েছেন। পাঁচ বছর বিরোধী রাজনীতি করে এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে মহুয়া বলেন, “আমি ওঁকে (মহুয়া মৈত্র) সম্মান করি। শুভেন্দুদার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। অন্য দলে যাওয়ার পর কথা হয় না, কিন্তু ভালো সম্পর্ক আছে। আগে যখন একসঙ্গে পার্টি করতাম, খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। উনি স্বচ্ছভাবে কাজ করেছিলেন। এরা কী করছে। এদের বলুন ইস্তফা দিতে।”
ফলে এটা স্পষ্ট শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে নায্যভাবে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গিয়ে পাঁচ বছর বিরোধী রাজনীতি করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁর সঙ্গে অধুনা ‘সুবিধাবাদী’ বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের সদস্যদের মিলিয়ে দিতে চাইছেন না মহুয়া মৈত্র।
