Jadavpur: যাদবপুরে তুলকালাম! ‘শেষ দেখে ছাড়ব’, অভিষেকের কথা বলতেই প্রার্থীর মুখের উপর চিৎকার তিন কাউন্সিলরের
West Bengal Assembly Election: বেশ কিছুক্ষণ ধরেই নাকি দু'পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চরম আকার নেয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, এই বিষয়টি খোদ তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে ইতিমধ্যেই, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতৃত্ব। ওই তিনজন কাউন্সিলর ভোটের সময় কেমন কাজ করে, তার উপরে নজর রাখা হবে বলেও তৃণমূল সূত্রে খবর।

কলকাতা: যাদবপুরে নির্বাচনী বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী অভিষেকের বার্তা শোনাতেই চরম ঝামেলা। দলের তিন কাউন্সিলরের গলায় ‘শেষ দেখে ছাড়ার’ হুমকি। অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির। যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হয়েছে কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পারিষদ তথা ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর দেবব্রত মজুমদারের নাম। গতবারও তিনি যাদবপুরের বিধায়ক ছিলেন। এবারও তাঁকে প্রার্থী করেছে রাজ্যের শাসক দল। সেই প্রার্থীর সঙ্গেই এবার চরম বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূলের তিন কাউন্সিলর।
সূত্রের খবর, দুই মহিলা কাউন্সিলর সহ তিনজনের সঙ্গে রীতিমতো কথা কাটাকাটি হয় দেবব্রতর। কলকাতা পুরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুই পাড়ায় যাদবপুরের মূল পার্টি অফিসে বৈঠক চলাকালীন ওই তিন কাউন্সিলরের সঙ্গে চরম ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার। স্থানীয় নেতৃত্ব সূত্রে খবর, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বার্তা নির্বাচনী কোর কমিটির বৈঠকে প্রার্থী পেশ করতেই রীতিমতো রে রে করে ওঠেন দলের ওই তিন কাউন্সিলর।
জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার বৈঠক চলাকালীন তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার বলেন, অভিষেকের নির্দেশ অনুযায়ী, এ বারের নির্বাচনে কাউন্সিলরদের কাজের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে। আর সেই ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। কার্যত এদিন তিনি বুঝিয়ে দেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় যে পুর নির্বাচন হবে, তাতে কোনও কাউন্সিলরকে টিকিট দেওয়া হবে কি না, তা বিধানসভা নির্বাচনে সেই কাউন্সিলরের ওয়ার্ডের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে। এই কথা শুনেই নাকি রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন ওই তিন কাউন্সিলর।
‘আমাদের অবিশ্বাস করা হচ্ছে। এইভাবে অপমান করার কোনও মানে হয় না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব’। দেবব্রত মজুমদারের মুখের উপর এভাবেই নাকি চিৎকার করতে শোনা যায় ওই তিন কাউন্সিলরকে। তৃণমূল প্রার্থী তখন ওই তিন কাউন্সিলরকে পাল্টা বুঝিয়ে দেন, এটা তাঁর কথা নয়। এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন তারই বার্তা।
কিন্তু তারপরও নিজেদের চেয়ার ছেড়ে উঠে এই নির্বাচন থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন বলে চিৎকার করতে থাকেন ওই কাউন্সিলররা। রীতিমতো হুমকির সুরে বলেন, “যাদবপুরের ধমকের চমকের রাজনীতি চলবে না। এটা যেন প্রার্থী ভালো করে বুঝে নেন।” আচমকাই তখন দেবব্রত মজুমদার পাল্টা আবারও মন্তব্য করেন, সেই কারণেই তো কাউন্সিলর হয়ে বিধায়ক হওয়ার জন্য সিভি পাঠিয়েছিলেন ওই তিনজন। এই মন্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যাদবপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক তথা কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। তিনিও চিৎকার করে ওঠেন বলে জানা গিয়েছে। ওই তিন কাউন্সিলরের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছু়ড়ে দেন, “২০২৪ সালে যখন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম কলকাতার কাউন্সিলরদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই একই বার্তা দিয়েছিলেন, তখন কেন এই কাউন্সিলররা মুখ বন্ধ করেছিলেন?” অভিষেকের বার্তা প্রত্যেককে শুনতে হবে। এটা নির্দেশ দলের।
বেশ কিছুক্ষণ ধরেই নাকি দু’পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চরম আকার নেয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, এই বিষয়টি খোদ তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে ইতিমধ্যেই, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতৃত্ব। ওই তিনজন কাউন্সিলর ভোটের সময় কেমন কাজ করে, তার উপরে নজর রাখা হবে বলেও তৃণমূল সূত্রে খবর।
দলের একাংশ মনে করছে, যাদবপুরের মতো এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ কেন্দ্র থেকে অনেক কাউন্সিলরই নিজেদেরকে দলের প্রার্থী হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন, তাই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ভোটের আগে এই অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়ে হয়েছে ওই কেন্দ্রের তৃণমূল শিবিরে।
