NIA: ‘NIA কি কেস ডায়েরি নিয়ে পালিয়ে যাবে?’,পুলিশকে ভর্ৎসনা আদালতের
Kolkata: NIA আইনজীবী: আমরা সাত অভিযুক্তর NIA হেফাজতের আবেদন করছি। বাকি ২৪ জনকে জেল হেফাযতে পাঠানো হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে NIA তদন্ত করছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেনি যে অভিযুক্তদের NIA-র হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। আদালত বাধ্য হয়ে তদন্তকারী অফিসারকে উপস্থিত হতে বলেছে আদালতে। কারণ NIA-কে সহযোগিতা করেনি।

বেলডাঙা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা নিয়ে মামলা চলছিল এনআইএ (NIA) বিশেষ আদালতে। সেই সময় তদন্তের কেস ডায়রি এনআইএ (NIA)-র হাতে তুলে না দেওয়া নিয়ে বিচারকের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল পুলিশ। আজ ফের ছিল সেই মামলার শুনানি। কোর্টের অন্দরের কথোপকথন সব একনজরে…
NIA আইনজীবী: আমরা সাত অভিযুক্তর NIA হেফাজতের আবেদন করছি। বাকি ২৪ জনকে জেল হেফাযতে পাঠানো হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে NIA তদন্ত করছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেনি যে অভিযুক্তদের NIA-র হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। আদালত বাধ্য হয়ে তদন্তকারী অফিসারকে উপস্থিত হতে বলেছে আদালতে। কারণ NIA-কে সহযোগিতা করেনি। এই শুনানিতে রাজ্যের কিছু বলার নেই। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। আপনারা বাধা দিচ্ছেন কেন?
বিচারক শ্রুতিরুপা ঘোষ মাজি: আদালতের নির্দেশ রয়েছে তারপরেও আপনারা (রাজ্য) কেন নির্দেশ পালন করছেন না। উচ্চ আদালত কি মৌখিকভাবেও বলেছে যে কেস ডায়েরি তুলে যাওয়া যাবে না? NIA তো কেস ডায়েরি নিয়ে পালিয়ে যাবে না।
রাজ্যের আইনজীবী: আমরা NIA আদৌ তদন্ত করতে পারে কি না সেটাকে চ্যালেঞ্জ করেছি। হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার নির্দেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি। এই বিষয়টির শুনানি আজ হবে। সুতরাং এটা বিচারাধীন বিষয়। তাই এক বা দুদিন সময় দেওয়া হোক। যাতে হাইকোর্টের শুনানির পর আদেশ সামনে এসে। ততক্ষণ এই আদালতে শুনানি স্থগিত রাখা হোক।
এরপরই বেলডাঙ্গা মামলায় কেস ডায়েরি হস্তান্তর নিয়ে কড়া মন্তব্য NIA-আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক শ্রুতিরুপা ঘোষ মাজি। তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আপনারা পালন করছেন না কেন? NIA কি কেস ডায়েরি নিয়ে পালিয়ে যাবে?”
অভিযুক্তদের আইনজীবী: আমরা জামিনের আবেদন করতে চাই। কিন্তু এখনও ঠিক হয়নি কেস ডায়েরি NIA পাবে কি না। আমরা কার কাছে আবেদন করব?
NIA আইনজীবী: অভিযুক্তদের হেফাজতে না পাওয়ায় তদন্ত আটকে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট দিতে পারছি না। তাও আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট দিচ্ছি।
এ দিকে, আজ আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে ধৃতদের কলকাতায় NIA আদালতে নিয়ে আসতে পুলিশ এসকর্ট দিল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। ভোরেই বহরমপুর জেল থেকে কলকাতায় উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল তারা। পর্যাপ্ত পুলিশ নেই বলে আগে তিনবার আদালতের নির্দেশ না মানার অভিযোগ উঠেছিল জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে।
