Kunal Ghosh: আপনি তো জেল খেটেছেন? প্রশ্ন শুনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ‘পুলিশ’ কুণাল
West Bengal assembly election: যদি সত্যিই পুলিশ হতেন, তাহলে প্রথম কাকে গ্রেফতার করতেন? প্রশ্ন শুনেই কুণাল বললেন, "ওইভাবে বলা মুশকিল। কারণ, পুলিশের কাজ তো শুধু গ্রেফতার করা নয়। কোন থানায় ক্রাইম রেকর্ড কম, সেটাই সাফল্য।"

কলকাতা: তিনি সাংবাদিক। আবার তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বেলেঘাটার প্রার্থীও হয়েছেন। সেই কুণাল ঘোষকে এখন পুলিশের পোশাকেও দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ কেন পুলিশের পোশাকে? সেকথার উত্তর দিতে গিয়েই এক ঢিলে তিন পাখি মারলেন কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটায় তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধীদের খোঁচার জবাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিলেন। টিভি৯ বাংলাকে কী বললেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী?
চূড়ান্ত ব্যস্ত তিনি। তারই মাঝে পুলিশের পোশাকে ধরা গেল কুণাল ঘোষকে। কেন পুলিশের পোশাকে। টিভি৯ বাংলার প্রশ্ন শুনেই হেসে কুণাল জানালেন, অভিনয়ের জন্য এই পোশাক। বললেন, “ছবির নাম ফাঁদ। পরিচালক দুলাল দে। পরিচালক আমাকে ফাঁদে ফেলে দিয়েছেন। পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করছি। আগের দুটি ছবি রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছি। এবার পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতে হচ্ছে।”
আর এই পুলিশের পোশাক নিয়েই নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যদিও আমি চারপাশ দেখে সাবধানে রাস্তা-ঘাটে হাঁটছি। কারণ, শুটিংয়ের মধ্য থেকে যখন মেকআপ ভ্যানে ফিরছি, নির্বাচন কমিশন যদি পুলিশের পোশাকে দেখতে পায়, তাহলে এসপি করে টুক করে কোনও জেলায় পাঠিয়ে দেবে। ওরা লোক খুঁজছে। তখন বললে শুনবে না যে, আমি অভিনয় করতে এসেছি। ফলে আমি খুব সাবধানে চলাফেরা করছি।”
পুলিশ অফিসারদের যেভাবে বদলি করা হচ্ছে, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি তো প্রবল ভয় পাচ্ছি। ধরে নিয়ে তুলে বসিয়ে দেবে। ওরা এমনভাবে এই চাই, ওই চাই করছে। কিন্তু, হবে কী? যতই করো হামলা, আবার জিতবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা। কিন্তু, ওদের সমস্যা হচ্ছে, কিছু করতে হবে। একে সরিয়ে ওকে আনো। সেজন্য আমি পুলিশের পোশাকে যেতে ভয় পাচ্ছি। টুক করে ধরে আমায় কোনও জেলার এসপি করে পাঠিয়ে দেবে।”
যদি সত্যিই পুলিশ হতেন, তাহলে প্রথম কাকে গ্রেফতার করতেন? প্রশ্ন শুনেই কুণাল বললেন, “ওইভাবে বলা মুশকিল। কারণ, পুলিশের কাজ তো শুধু গ্রেফতার করা নয়। কোন থানায় ক্রাইম রেকর্ড কম, সেটাই সাফল্য।”
তৃণমূল তাঁকে বেলেঘাটার প্রার্থী করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই কটাক্ষ করেছেন। নানা মিম ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর জেলখাটা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন অনেকে। এই নিয়ে টিভি৯ বাংলাকে কুণাল বলেন, “আমার জীবনে উত্থান, পতন, স্বর্গ, নরক সব দেখে নিয়েছি। তারপরও ভগবানের আশীর্বাদে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের শুভেচ্ছায় আমি প্রার্থী হয়েছি। যারা ট্রোল করে, তারা বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের একাংশ। আমি বলি, ঘরে বসে ট্রোল করছ কেন? বেলেঘাটা আমার বাড়ির এলাকা। আমি তো এখানেই দাঁড়িয়েছি। আমার বিরুদ্ধে এসে দাঁড়াও না। লুকিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কী হবে? মানুষ জানেন, জ্ঞানত কুণাল ঘোষ কোনওদিন অন্যায় করেননি। সেজন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।”
বেলেঘাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের খবর প্রায় সামনে আসে। ভোটে তার প্রভাব পড়বে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেন, “তৃণমূল ভালো জায়গায় রয়েছে। আমার বিধানসভা এলাকার আট জন কাউন্সিলরই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিদায়ী বিধায়ক পরেশদা(পরেশ পাল) ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”
কুণালের বক্তব্য শুনে অনেকে বলছেন, এক ঢিলে তিন পাখি মারলেন তিনি। প্রথমত, পুলিশের পোশাকে নিজের নতুন ছবির প্রচার সেরে ফেললেন। আবার নিজের নির্বাচনী প্রচার ও বিরোধীদের নিশানাও করলেন। তৃতীয়ত, কমিশনকে খোঁচা দিতেও ছাড়লেন না।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টও করেছেন কুণাল। সেখানে অন্য একজনের পোস্ট করা ভিডিয়ো রয়েছে। ওই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারকে। সেখানে তিনি বলছেন, বেলেঘাটার বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার পার্থ চৌধুরী একজন দুশ্চরিত্র, চোর-চিটিংবাজ। সেজন্য তাঁরা একজনকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন।
