AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bengal BJP: ‘দিঘার হোটেলে কতক্ষণ দীক্ষা নিচ্ছেন দেখুন’, বাড়ি ফিরে বউদের গাইনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের পরামর্শ বিজেপি নেতার

TMC: আর এই বিষয়টিকেই ইস্যু করেছে তৃণমূল। তৃণমূল পোস্টে লিখেছে, "নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের দাবি, যে সকল মহিলার স্বামী অন্য রাজ্যে কাজ করেন, সেই মহিলাদের সতীত্ব প্রমাণ করার জন্য গাইনোকোলজিক্যাল টেস্ট অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে হবে। আসলে বিজেপির ভারতে, যে সকল মহিলা 'উন্নয়নের পাঁচালি' পাঠে অংশ নেন বা দিঘার জগন্নাথ ধামে যান, তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ, বিজেপির দুনিয়ায় একজন মহিলার চরিত্র সর্বদা প্রশ্নের মুখে থাকে এবং তাঁর শরীর সর্বদা পরীক্ষা, বিচার এবং প্রকাশ্যে অপমানের জন্য উন্মুক্ত!"

Bengal BJP: 'দিঘার হোটেলে কতক্ষণ দীক্ষা নিচ্ছেন দেখুন', বাড়ি ফিরে বউদের গাইনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের পরামর্শ বিজেপি নেতার
বিজেপি নেতা প্রলয় পালImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Mar 11, 2026 | 6:13 PM
Share

কনিষ্ক মাইতি: একটা ভিডিয়ো, যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি বলছেন, “যাহ যাহ যাহ, তোরা গুজরাট চলে যা, চেন্নাই যা, সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা রোজগার করে বাড়িতে পাঠা, আর এদিকে দেখ বাড়ির বউটা দিঘা চলে যাচ্ছে, উন্নয়নের পাঁচালি পড়তে, দীক্ষা নিতে, কোন হোটেলে দীক্ষা নিচ্ছে, কতক্ষণ দীক্ষা নিচ্ছে, বাড়িতে এসে বউকে হয়তো গাইনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে!” আর এই ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল। আর সেই ভিডিয়োর ক্যাপশন, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে অশ্লীল আক্রমণ। কার উবাচ? নন্দীগ্রামের একজন জনপ্রিয় বিজেপি নেতার। নাম প্রলয় পাল! মনে রয়েছে? সেই প্রলয় পাল, যিনি ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন, কিন্তু আদালত সেই মামলা খারিজ করে দেয়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা কাজের জন্য বাইরে গিয়েছেন, তাঁদের স্ত্রীদের সম্ভ্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্ততপক্ষে এই ভিডিয়োতে যা দেখা যাচ্ছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি TV9 বাংলা।

তৃণমূলের বক্তব্য

আর এই বিষয়টিকেই ইস্যু করেছে তৃণমূল। তৃণমূল পোস্টে লিখেছে, “নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের দাবি, যে সকল মহিলার স্বামী অন্য রাজ্যে কাজ করেন, সেই মহিলাদের সতীত্ব প্রমাণ করার জন্য গাইনোকোলজিক্যাল টেস্ট অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে হবে। আসলে বিজেপির ভারতে, যে সকল মহিলা ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পাঠে অংশ নেন বা দিঘার জগন্নাথ ধামে যান, তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ, বিজেপির দুনিয়ায় একজন মহিলার চরিত্র সর্বদা প্রশ্নের মুখে থাকে এবং তাঁর শরীর সর্বদা পরীক্ষা, বিচার এবং প্রকাশ্যে অপমানের জন্য উন্মুক্ত!”

বিজেপি বরাবরই  নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে বলেও প্রাক নির্বাচনী আশ্বাস দিচ্ছে বিজেপি। তার মধ্যেই তাঁদের দলের নেতার এহেন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা বিজেপি নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে মিছিল করেন। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে আসা মহিলারাও প্রতিবাদ জানান।

ভোট যত এগিয়ে আসে, ততই তীক্ষ্ণ আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে যুযুধান পক্ষ। তবে এহেন মন্তব্য! রাজনীতির ইতিহাসেও ‘বিরল’, বলছেন বিশ্লেষকরা। আর স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টা নিয়ে ইস্যু করছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্বে বক্তব্য, “বিজেপি আসলে চায়, মহিলারা তাঁদের সতীত্ব প্রমাণ করতে “অগ্নিপরীক্ষা” দিক।”

কী বলছেন প্রলয় পাল?

বিজেপি নেতা প্রলয় পালের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল যদি গায়ের জোরে টেনে নেয়, আলাদা ব্যাপার। আমি ভিডিয়োতে বলেছি, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাইরে পড়ে রয়েছেন, নিজের ও পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য ফিরে আসতে হবে। মহিলা চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়েছি। আমরা কুরুচীকর মন্তব্য করি না, কারণ আমরা বিজেপি করি, নারীশক্তিকে সম্মান দিই।”

বিজেপির বক্তব্য

এহেন ভিডিয়ো সামনে আসতে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের বক্তব্য, “এখন এআই-এর যুগে সব সম্ভব। তৃণমূল AI দিয়ে এই ধরনের ভিডিয়ো বানিয়েছে নাকি দেখতে হবে। তবে এই ধরনের মন্তব্য কখনই সমর্থনযোগ্য নয়।”

Follow Us