কলকাতা: মাঘের শেষে বঙ্গে হিমেল পরশ। বেশ ভালই অনুভূত হচ্ছে শীত। কিন্তু তার আয়ু কতদিন? পশ্চিমী ঝঞ্ঝার রেশ কাটিয়ে ফের ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে শীত। তবে সেই শীতও আর স্থায়ী হবে না। অর্থাৎ, বঙ্গে কার্যত শীত বিদায় নেবে অকালবৃষ্টির সৌজন্যে, অন্তত এমনটাই বলছেন আবহবিদদের একাংশ। আবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলায় (Rain in West Bengal)। নেপথ্যে ফের এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Westerly Winds)। সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে উচ্চচাপ বলয়। আর এই দুইয়ের জোড়া ঠেলায় রাজ্যে ঢুকবে জলীয় বাষ্প। আর তার জেরে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। রবিবার ও সোমবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যে। রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্জা কাটিয়ে তাপমাত্রার পারদ ছিল নিম্নমুখী। বেশ কয়েকদিন ধরে শীতের আমেজ ছিল রাজ্যজুড়ে। বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি কম। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯২ শতাংশ। বুধবারও তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হয়নি। আপাতত শনিবার পর্যন্ত বিশেষ তাপমাত্রার পরিবর্তন হবে না। তবে, রবিবার থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে তাপমাত্রা।
শুধু তাপমাত্রার পরিবর্তনই নয়, সেই সঙ্গে বদলাবে আকাশও। এখন মাথার উপর যে নীল আকাশ দেখা যাচ্ছে, শনিবারের পর থেকে তা নাও দেখা যেতে পারে। কারণ, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাজ্যে মেঘ ঢুকতে পারে। ফলে রবিবার থেকে কার্যত রোদের দেখা মিলবে না। কলকাতাতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
মোটের উপর সব জেলাগুলিতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব জেলাগুলিতে একসঙ্গে হয়ত বৃষ্টি হবে না, তবে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছেন আবহাওয়াবিদরা। মূলত ভূমধ্যসাগর থেকে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকছে রাজ্যে এবং তার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় এলাকায় একটি উচ্চচাপ বলয় থাকবে। ফলে রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর পাশাপাশি যেহেতু পশ্চিম দিক থেকে এখনও ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকছে।
এই দুই বিপরীতধর্মী বাতাসের সংঘর্ষের ফলে রাজ্যের আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি এখন ফেব্রুয়ারি অর্ধেক অতিক্রম করে আমরা এখন মার্চের দিকে যাচ্ছি। ফলে কালবৈশাখীর মতো ঝড়ের উপদ্রব হতে পারে। তবে, ধীরে ধীরে মার্চের মাঝামাঝি থেকেই রাজ্যে গ্রীষ্ম অনুভূত হতে শুরু করবে। মরশুমি হিসেবে শীতের বিদায় নেওয়ার পালা এসে গিয়েছে। হালকা শীতের অনুভূতি রয়েছে বটে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কোপে কার্যত শীত বিদায় নিয়েছিল। এবারের মরশুমে শীতের লম্বা ব্যাটিং সেই অর্থে দেখা যায়নি। শেষ বেলায় কার্যত যে শীত অনুভূত হচ্ছে তারও বেশিদিনের আয়ু নয় বলেই মনে করছেন আবহবিদদের একাংশ।
আরও পড়ুন: Bengal BJP: বিধানসভার পর পুরনিগমের নির্বাচনেও কেন পরাজয়? তথ্য-তালাশে বিজেপি