Nabanna: এই নিয়ম না মানলে আটকে যাবে ইনক্রিমেন্ট, সরকারি কর্মীদের পদোন্নতি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নবান্নর
West Bengal Government Employee Increment: রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ক্লার্ক স্তরে কীসের মাপকাঠিতে পদোন্নতি হবে তাই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষা ছাড়া যাঁরা LDC বা LDA, UDC বা UDA বা সমতুল্য কেরানি পদে ইনক্রিমেন্ট বা পদোন্নতি পেয়েছেন, তাঁদের পদোন্নতি বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধ করা হবে। তবে, মানতে হবে বিশেষ শর্ত।

কলকাতা: সরকারি কর্মীদের পদোন্নতি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের। পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। নির্দেশিকায় মূলত, ক্লার্ক বা কেরানি (Clerk) পদের কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট ও প্রমোশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় পাশ না করলে আটকে যাবে পদোন্নতি। তবে কারও চাকরি বাতিল হবে না বা পদচ্যুতি হবে না। রাজ্যের গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীদের পদোন্নতিতে বেনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই এবার কড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন (Nabanna)।
কী নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে?
রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ক্লার্ক স্তরে কীসের মাপকাঠিতে পদোন্নতি হবে তাই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষা ছাড়া যাঁরা LDC বা LDA, UDC বা UDA বা সমতুল্য কেরানি পদে ইনক্রিমেন্ট বা পদোন্নতি পেয়েছেন, তাঁদের পদোন্নতি বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধ করা হবে। এই কর্মীদের পদচ্যুতি করা হবে না এবং বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছেন, তাতেও কোনও কাটছাঁট হবে না।
মানতে হবে বিশেষ শর্ত
তবে, একটি শর্তের উপরই ইনক্রিমেন্ট বা পদোন্নতি নির্ভর করবে। সকলকেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন (NSATI)-এর নির্ধারিত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে পাশ করতে হবে। পরীক্ষায় পাশ না করা পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (Increment) স্থগিত থাকবে বা আটকে যাবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই আটকে যাওয়া বা বকেয়া ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরীক্ষায় সফল হওয়ার পরের দিন থেকে আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে। পরীক্ষা পাশ করার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর সিনিয়রিটি নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
আর কী কী নিয়ম রয়েছে?
বর্তমানে এই কর্মীরা যে এলডিসি/এলডিএ বা ইউডিসি/ইউডিএ পদে রয়েছেন, সেই পদগুলি আপাতত এক্স-ক্যাডার পোস্ট হিসেবে ধরা হবে। যাতে অন্যান্য যোগ্য কর্মীদের স্বাভাবিক পদোন্নতির সুযোগ ব্যাহত না হয়। তবে এই নির্দেশিকা জারির পর ভবিষ্যতে নিয়ম ভেঙে কোনও ছাড় বা পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনে তা বাতিলও করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির আগে পর্যন্ত ৫০ বছর বয়সী কর্মীদের কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু, ওই বছরেই জারি হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস ২০১৯। সেই বিধি অনুযায়ী, পুরনো নিয়ম বাতিল হয়ে যায়। ৫০ বছর বয়সে পৌঁছলে কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় ছাড় দেওয়ার যে ব্যবস্থা আগে ছিল, তা ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ থেকেই বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু, তারপরেও অভিযোগ ওঠে ওই নির্দিষ্ট তারিখের পরও বহু কর্মীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিতে বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এবার তা রুখতে বড় পদক্ষেপ করল শুভেন্দু-সরকার।
