I-PAC: কয়লাকাণ্ডের সঙ্গে I-PAC-এর কী লিঙ্ক? স্পষ্ট করে জানাল ED
I-PAC- ED Raid: কাল থেকে যে বেনজির সংঘাত দেখা যায়, তা গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে। ভোটের আগে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি শুরু করল ইডি। আই প্যাক একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তা দাবি করেছেন।

কলকাতা: আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের ৭ নম্বর লাউড্রন স্ট্রিটের বাড়ি ও গোদরেজ ওয়াটার সাইডের অফিসে ইডির তল্লাশি। আর তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া। ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসা। শুধু তাই নয়, গোদরেজ ওয়াটার সাইডে আইপ্যাকের অফিস থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ ফাইল গাড়িতে তোলা। বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বাংলা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তাঁর দলের আইটি অফিস থেকে হার্ড লিস্ট, প্রার্থীর তালিকা, কাগজ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডির বক্তব্য, ক্ষমতার বলে নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক ব্যক্তি ক্ষমতার বলে বেআইনিভাবে ঢুকে নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন। ইডির বক্তব্য, কয়লা দুর্নীতি মামলায় তদন্ত হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। তবে কেন ভোটকুশলী আই প্যাকের অফিসে তল্লাশি? দুর্নীতি মামলায় কীসের যোগ? মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আজ সকাল থেকে যে বেনজির সংঘাত দেখা যায়, তা গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে। ভোটের আগে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি শুরু করল ইডি। আই প্যাক একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তা দাবি করেছেন। তৃণমূলের সাংগঠনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে ভোটকুশলী এই সংস্থার।
২০২১ সালে প্রশান্ত কিশোর আইপ্যাক ছেড়ে দেওয়ার পরে প্রতীক জৈনই হাল ধরেন। বাংলায় আইপ্যাকের সামগ্রিক কার্যকলাপ, তৃণমূলের সঙ্গে ভোটকুশলী সংস্থার চুক্তি, তার সমস্ত কাজ প্রতীক জৈনই সামলান। কিন্তু প্রতীক জৈনের নাম কীভাবে কয়লা কেলেঙ্কারিতে আসছে?
ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, কয়লা কেলেঙ্কারিতে বৃহস্পতিবার দেশের ১০ টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারি অনুপ মাজির যে র্যাকেটের কথা সামনে আসে, তাতে চুরির কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান, পুরুলিয়ায় একাধিক কোম্পানিকে বিক্রি করা হয়েছে। ইডি জানতে পেরেছে, চুরির অধিকাংশ পরিমাণ কয়লা বিক্রি হয়েছে ‘শাকম্ভরী গ্রুপ অফ্ কোম্পানিজে’। এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। প্রতীক জৈনের মারফত বা তার মধ্যস্থতায় বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি প্রার্থী তালিকা নিতে এসেছিল ইডি। কিন্তু এ বিষয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, আইপ্যাক একটা কর্পোরেট সংস্থা। সেখানে কীভাবে প্রার্থী তালিকা থাকতে পারে? একটা কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে তল্লাশি চালাতেই পারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একটা কর্পোরেট সংস্থার নানান সমস্যা থাকতেই পারে, সেই সংস্থার আইটি রিটার্ন ফাইলস ঠিক রয়েছে কিনা, এরকম একাধিক বিষয় থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্ত করতেই পারে। কিন্তু কর্পোরেট সংস্থায় কীভাবে প্রার্থী তালিকা থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগে ইডির বক্তব্য, ক্ষমতার বলে নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক ব্যক্তি ক্ষমতার বলে বেআইনিভাবে ঢুকে নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন। পাল্টা অভিযোগ করেছে ইডি। ইডির বক্তব্য, কয়লা দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। ভোটের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। ইডি- তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছে, দুটি হল প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিস। সেখানেই বেনজিরভাবে ঢুকে পড়েন মমতা। সেখানে সাংবিধানিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অসাংবিধানিকভাবে ফাইল কেড়ে নিয়ে এসেছেন। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি।
