TMC: মেট্রোপলিটনের কার্যালয়ের জন্য কত টাকা ভাড়া দিত তৃণমূল জানেন? চমকে উঠবেন
TMC Metropolitan Office: ২০২৫ সালের জুন মাসে সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে এবার চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত ছিল—মালিক চাইলে মেয়াদ শেষের আগেই বাড়ি খালি করিয়ে নিতে পারবেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জয়ের আবহে তৃণমূল নেতৃত্ব এই শর্তে তেমন আমল দেয়নি।

কলকাতা: মেট্রোপলিটন! তৃণমূল কার্যালয় কার? তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর কলকাতার তপসিয়ার মূল কার্যালয়টি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি অস্থায়ী ভবনের খোঁজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তৎকালীন পুরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসসহ চার নেতার ওপর উপযুক্ত জায়গার সন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
খোঁজখবর চালিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাইপাস সংলগ্ন ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি ছয় তলা ভবনের সন্ধান মেলে, যার মালিক ‘মডার্ন ডেকোরেটার্স’-এর মন্টু সাহা। অনুষ্ঠান বাড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি ওই ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ ওপরের দুটি তলা ভাড়া নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের এপ্রিল-মে নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খোদ ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরিত সেই চুক্তিতে মাসিক ১ লক্ষ টাকা ভাড়ার (১০ হাজার টাকা টিডিএস কেটে চেকে দেওয়া হতো) বিনিময়ে ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য জায়গাটি নেয় তৃণমূল।
২০২৫ সালের জুন মাসে সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে এবার চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত ছিল—মালিক চাইলে মেয়াদ শেষের আগেই বাড়ি খালি করিয়ে নিতে পারবেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জয়ের আবহে তৃণমূল নেতৃত্ব এই শর্তে তেমন আমল দেয়নি।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চুক্তির সেই শর্তকেই হাতিয়ার করে মালিক মন্টু সাহা খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে বাড়ি খালি করার অনুরোধ জানান। কালীঘাট পন্থী নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যেই ভবনটি ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মাঝে সম্প্রতি ঋতব্রত পন্থী অংশ তৃণমূল ভবনের ওই তিনটি তলা নতুন করে দখল করায় পরিস্থিতি চরম জটিল আকার ধারণ করেছে বলে দাবি করছে ডেকোরেটার্স কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া নিয়ে এখন তীব্র অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।
