AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

সঙ্গীকে সব কথা বলেন? অজান্তে সম্পর্কে ভাঙন ধরাচ্ছেন না তো?

ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির মতে, এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সম্পর্কে বিরক্তি, দূরত্ব এবং মানসিক চাপ বাড়ে। তবে এর মানে এই নয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লুকিয়ে রাখা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু সত্য আছে যেগুলো কখনওই চেপে রাখা উচিৎ নয়। যেমন বিশ্বাসভঙ্গ, বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, গুরুতর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বা ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত বিষয়। এই ধরনের কথা না বললে সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সঙ্গীকে সব কথা বলেন? অজান্তে সম্পর্কে ভাঙন ধরাচ্ছেন না তো?
Image Credit: AI
| Updated on: Feb 03, 2026 | 4:35 PM
Share

আজকের দিনে সম্পর্ক মানেই অনেকেকের কাছেই খোলামেলা কথা বলা। “আমাদের মধ্যে কোনো গোপন কথা নেই” এই কথাটাই অনেকের কাছে সুস্থ সম্পর্কের প্রমাণ। ছোট মনখারাপ থেকে গভীর ভয়, অতীতের ভুল থেকে বর্তমানের সন্দেহ সব কিছুই শেয়ার করেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন হল, সব কথা শেয়ার করলেই কি সম্পর্ক আরও মজবুত হয়? নাকি কিছু কথা না বলাই কখনও কখনও সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখে? মনোবিদরা বলছেন, এই জায়গাতেই আজকের প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ভুল করছেন।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষেরই কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভাবনা থাকে, যেগুলো নিজের কাছে রাখাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় বিশ্বাস আর সম্মানে, কিন্তু তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সীমারেখা রাখাও সমানভাবে জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব কথা শেয়ার করার প্রবণতা অনেক সময় সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করে। ধরুন, প্রতিদিনের রাগ, হতাশা, কাজের চাপ বা অতীতের কষ্ট যদি বারবার সঙ্গীকে বলতে থাকেন তাহলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এতে একজন কথা বলছে আর অন্যজন শুধু শুনেই যাচ্ছে এটা দীর্ঘদিন চললে সম্পর্কে সমস্যা বাড়তে পারে। ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটির মতে, এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সম্পর্কে বিরক্তি, দূরত্ব এবং মানসিক চাপ বাড়ে। তবে এর মানে এই নয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লুকিয়ে রাখা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু সত্য আছে যেগুলো কখনওই চেপে রাখা উচিৎ নয়। যেমন বিশ্বাসভঙ্গ, বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, গুরুতর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বা ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত বিষয়। এই ধরনের কথা না বললে সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিন্তু নিজের সমস্ত ভাবনা, প্রতিটি সন্দেহ বা প্রতিটি অতীতের ঘটনা শেয়ার করতেই হবে এই ধারণা ভুল বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক সুস্থতা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ জরুরি, কিন্তু তা যেন অন্যের উপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। সুস্থ সম্পর্ক মানে সব কথা বলা নয়, প্রতিটা মানুষের বোঝা জরুরি কোন কথা বলা দরকার, কখন বলা দরকার, আর কোন কথা নিজের মধ্যেই রাখা ভালো। সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক ভরসা, সম্মান আর মানসিক নিরাপত্তায়।