
মার্কিন মুলুকে কিছুদিন আগেই বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। রীতি বজায় রেখে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। যার জেরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই বিদায় হয়ে যায় পাকিস্তানের। অবসর নেওয়া ক্রিকেটারদের খেলার ফাইনালেও এমনই হল। লিগ পর্বে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। ফাইনালে বদলা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন যুবরাজ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। বার্মিংহ্যামে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের ফাইনালে ৫ বল বাকি থাকতেই পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত। বাউন্ডারি মেরে জয়সূচক রান ইরফান পাঠানের ব্যাটে।
অনেকের কাছে বুড়োদের খেলা। অবসর প্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ফিটনেসও অবশ্য চমকে দেওয়ার মতো। আর ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট, এই কথাটা যেন দুর্দান্ত ভাবে প্রমাণ করলেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান। শোয়েব মালিকের ৩৬ বলে ৪১ রান পাকিস্তানকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছতে সাহায্য করে। তবে পাকিস্তান ইনিংসে সেরা মুহূর্ত ক্যাপ্টেন ইউনিস খানের আউট।
সাল ২০০৬। পাকিস্তান সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দল। করাচিতে টেস্টে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভার। বল হাতে ভারতের তরুণ তুর্কি ইরফান পাঠান। যাঁর সুইং তখন বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম আলোচনার বিষয়। প্রথম তিনটি ডেলিভারি কোনওরকমে কাটিয়ে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার। এরপরই বিপর্যয়। শেষ তিন বলে সলমন বাট, ক্যাপ্টেন ইউনিস খান ও মহম্মদ ইউসুফকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেন ইরফান পাঠান।
বার্মিংহ্যামেও সেই স্কিল জারি রইল। অফস্টাম্পে বল পিচ করে সামান্য ইনসুইং। ইউনিস খানের উইকেট ভেঙে দেন ইরফান পাঠান। এই মুহূর্ত মনে করায় ২০০৬ সালের সেই ওভারকেই। মাত্র ১ উইকেট নিলেও ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়েছেন ইরফান পাঠান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করে পাকিস্তান।
রান তাড়ায় তৃতীয় ওভারে রবিন উত্থাপ্পা ও সুরেশ রায়নার উইকেট হারিয়ে সাময়িক চাপে পড়ে ভারত। যদিও অম্বতি রায়ডু ও ইমপ্যাক্ট হিসেবে নামা গুরকিরত সিং মানের অনবদ্য জুটি ভারতকে মজবুত জায়গায় পৌঁছে দেয়। রায়ডু হাফসেঞ্চুরি করেন। ইউসুফ পাঠান মাত্র ১৬ বলে ৩০ রান করেন। ক্যাপ্টেন যুবরাজ সিং ও ইরফান পাঠান জুটি ৫ বল বাকি থাকতেই দলকে চ্যাম্পিয়ন করে।