
পুরুষদের ক্রিকেটে এখনও ট্রফি জিততে ব্যর্থ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগেও উদ্বোধনী সংস্করণে হতাশার পারফরম্যান্স আরসিবির। স্মৃতি মান্ধানা সহ একঝাঁক তারকা নিয়ে গড়া দল গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছিল। নতুন মরসুম, বাড়তি তাগিদ। গত বার উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ সীমাবদ্ধ ছিল মুম্বইতেই। এ বার প্রথম ১১টি ম্যাচ হবে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। বাকি ১১টি ম্যাচ দিল্লিতে। প্রকৃত অর্থেই ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছে স্মৃতি মান্ধানার নেতৃত্বাধীন আরসিবি। গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে এ আর অপ্রত্যাশিত নয়। ভরপুর বিনোদন এবং দোলাচলের ম্যাচে জয়ের হাসি নিয়েই ফিরলেন আরসিবি সমর্থকরা। রিচার বিধ্বংসী ইনিংস এবং দুর্দান্ত কিপিং, আশা শোভানার ৫ উইকেট, গ্রেস হ্যারিসের পাল্টা লড়াই। শেষ দু-ওভারে জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম ও সোফি মলিনিউয়ের স্নায়ুর চাপ ধরে রাখা। মাত্র ২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিল আরসিবি। বিস্তারিত জেনে নিন TV9Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
বেঙ্গালুরুর মাঠে রান তাড়া করা সহজ। উদ্বোধনী ম্যাচে এই মাঠেই মুম্বই শেষ বলে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। টস জিতে তাই আরসিবিকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান ইউপি ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। আরসিবি ক্যাপ্টেন স্মৃতি মান্ধানা শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ। আরসিবিকে ভরসা দেন সাব্বিনেনি মেঘনা। ৪৪ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাটিংয়ে নায়ক অবশ্যই রিচা ঘোষ। জাতীয় দলের এই পাওয়ার হিটার আরসিবির জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই তুফানি ইনিংস খেললেন। ৩৭ বলে একডজন বাউন্ডারি সহ ৬২ রান করেন রিচা ঘোষ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৭ রান করে আরসিবি।
মুম্বই ম্যাচ দেখলে এই লক্ষ্য খুব একটা বড় ছিল না। তবে অনবদ্য বোলিং লড়াইয়ে রাখে আরসিবিকে। বিশেষ করে বলতে হয় নবম ওভারে শোভানা আশার বোলিং। অ্যালিসা হিলিকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন আরসিবির নতুন সদস্য সোফি মলিনিউ। নবম ওভারে বৃন্দা দীনেশ ও তাহিলা ম্যাকগ্রার উইকেট আশা শোভানার। গ্রেস হ্যারিস ক্রিজে থাকায় চাপ ছিল আরসিবি শিবিরে। শ্বেতা শেরাওয়াতের সঙ্গে বিধ্বংসী জুটি গড়েন গ্রেস হ্যারিস। শেষ ৪ ওভারে ৩২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ইউপির।
১৭তম ওভারে আক্রমণে লেগস্পিনার আশা শোভানা। প্রথম বলেই ফরোয়ার্ড ডাইভে দুর্দান্ত ক্যাচ স্মৃতি মান্ধানার। ২৫ বলে ৩১ রানে ফেরেন শ্বেতা। এক বলের ব্যবধানে গ্রেস হ্যারিসকে বোল্ড করেন আশা। শেষ বলে কিরন নবগীরের উইকেট! ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট লেগ স্পিনার আশার। তাঁর বোলিং কোটা শেষ হতেই ফের অস্বস্তি আরসিবি শিবিরে।
শেষ ২ ওভারে মাত্র ১৬ রান প্রয়োজন ছিল ইউপি ওয়ারিয়র্সের। অভিজ্ঞ অজি স্পিন জুটি জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম এবং সোফি মলিনিউ মরিয়া চেষ্টা করেন। শেষ বলে ৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ওয়ারিয়র্সের। ঠিক আগের রাতের পরিস্থিতি। স্ট্রাইকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা। সোফি মলিনিউ হতাশ করেননি। মাত্র ২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় স্মৃতি মান্ধানার আরসিবির।