East Bengal FC vs Mohun Bagan Supergiant: ফাইনালের আগে সূচী নিয়ে ক্ষুব্ধ বাগান কোচ, প্রবাদ বদলাতে প্রত্যয়ী হাবাসও!
Durand Cup 2026 Final: সেমি ফাইনালে দলে ফিরেছেন মিগুয়েল, ছাংতে। এই প্রথম বাগান জার্সিতে নামলেন ইস্টবেঙ্গল থেকে আসা মিগুয়েল। এবার নিজের প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলবেন তিনি। অন্যদিকে, ডার্বির আগে ক্লান্তির কারণে অনুশীলনই করল না লাল-হলুদ ব্রিগেড।

কলকাতা : আগামীকাল রবিবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ডুরান্ড কাপ ফাইনাল। মুখোমুখি কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ডার্বি দিয়েই ২০২৬ ডুরান্ড কাপের শুরু হয়। ডার্বি দিয়েই শেষ হল ডুরান্ড কাপ। শুরুর ডার্বিতে ১-০ হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। একমাত্র গোল করেছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। সেই ম্যাচের আগেই আজ, শনিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে সব দিক থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ জানালেন বাগান কোচ প্যানজিওটিস দিলমপেরিস।
বাগান কোচের কথায়, “আমরা সূচী নিয়ে খুব হতাশ। এটা কোচ ও ফুটবলার – দুই পক্ষের জন্যই মানিয়ে নেওয়া কষ্টকর। তবে এটা একদম আনফেয়ার। আমরা গ্ৰুপে ভাল পারফর্ম করেছি। আমরা ৬ দিনের মধ্যে ৩টি ম্যাচ খেলেছি। এটা সম্ভব নয়। এর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি পাওয়া যাচ্ছে না। আমি বলতে চাই, এই ম্যাচ নিয়ে আসলে মানসিক যুদ্ধ প্রচুর থাকে। যদিও এই দুই ডার্বি আলাদা। প্রথম ডার্বির সঙ্গে এই ডার্বির তফাৎ আছে। এই ডার্বিটা জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। দলে বিদেশিরা যোগ দিয়েছেন, ফলে দল এখন আগের থেকে শক্তি সমৃদ্ধ।” এর পাশাপাশি অতীতকে নিয়েও ভাবতে চান না প্যানোস। তিনি বলেন,“দুটি ম্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা। এই ম্যাচে জিততেই হবে। এই জাতীয় ম্যাচে ১০০% মোমেন্টাম গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দল এখন তৈরি ১০০% পারফরম্যান্স দিতে।”
এর পাশাপাশি এই প্রথমবার ম্যাচের আগে কোনও রকম অনুশীলন করলেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে ক্লান্তিকে। আজকে কোনও অনুশীলন করেনি ইস্টবেঙ্গল। তবে হাবাস বললেন, “ধৈর্য ও মাথাকে কাজে লাগালেই আমরা জিততে পারব। তবে এই ম্যাচে যদি আবেগ ১০০% থাকে, সেটাকে ২৫%-এ নামাতে হবে। ৯০ মিনিটের মধ্যেই আমাদের খেলা উন্নত করতে হবে ও ম্যাচের যেকোনও একটি ফল নির্ধারণ করতে হবে।” এমনকি রেফারি নিয়েও কথা বললেন হাবাস। তাঁর কথায়, “রেফারিং নিয়ে কিছু আশা করাই বৃথা। গত ম্যাচে হয়ত রেফারির কোনও অসুবিধে হয়েছিল কিন্তু রেফারিকে কন্ট্রোল করা যায় না। আমি চাই না রেফারি আমাকে কিছু বলুক। রেফারিং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। তবে আগামীকাল ম্যাচের জন্য আমরা তৈরি।”
সেমিফাইনালে দুই দলই টাইব্রেকারে জিতে এসেছে। আবার ফাইনালেও চিন্তা থাকবে টাইব্রেকার নিয়েই। দুই দলের দুই গোলকিপার – প্রভসুখন গিল ও বিশাল কাইথ, দুজনেই সফল। তবে ইস্টবেঙ্গলের চিন্তা রইল কারণ এখনও ভিসা পেলেন না এফিয়ং। আবার মোহনবাগান গত ম্যাচে মাঠে নামিয়েছিল মিগুয়েল, ছাংতেকে ফলে আগামী ম্যাচে তাঁদের উপর বড় ভরসা করবেন সমর্থকরা। কিন্তু ময়দানের একটি প্রাচীন প্রবাদকে কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না – হাবাস মাঠে থাকলে মোহনবাগান হারে না। রবিবার কি এই প্রবাদের বদল ঘটবে? সেই দিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের।
