রক্ত মাংসের সিধু জ্যাঠা কি ইনিই?

সিদ্ধেশ্বর বোস। সত্যজিৎ রায়ের 'ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি' রহস্য উপন্যাসের এক উজ্জ্বল চরিত্র। সত্যজিৎ তাঁর কোনও খসড়ায় দিয়ে যাননি এমন কোনও ক্লু যার থেকে ধারণা করা যেতে পারে কে ছিলেন এই সিদ্ধেশ্বর।

  • Publish Date - 11:20 pm, Fri, 14 May 21


সিদ্ধেশ্বর বোস। সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’ রহস্য উপন্যাসের এক উজ্জ্বল চরিত্র। সত্যজিৎ তাঁর কোনও খসড়ায় দিয়ে যাননি এমন কোনও ক্লু যার থেকে ধারণা করা যেতে পারে কে ছিলেন এই সিদ্ধেশ্বর। খবরের কাগজের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কেটে নিয়ে খাতায় সেঁটে রাখা ছিল যার নেশা। যার বাড়িতে ছিল হাজার-হাজার বইয়ের লাইব্রেরি। কে তিনি? ছিলেন কী সত্যজিতের ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোনও মানুষ? অধ্যাপক অলক কুমারের দাবি, তাঁর বাবার চরিত্রের ছায়াতেই সত্যজিৎ তৈরি করেন সিধু জ্যাঠার চরিত্র। এই দাবির স্বপক্ষে অলক কুমার লিখছেন- নির্মল চন্দ্র কুমারের মধ্য কলকাতার তালতলা অঞ্চলে ছিল একটি বিশাল লাইব্রেরি। প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ বই ছিল সেই লাইব্রেরিতে। শিল্পকলা, সাহিত্য, ইতিহাস, উদ্ভিদবিদ্যা, ভ্রমণ,ধর্ম, অরনিথোলজি, মাউণ্টেনিয়ারিং সমস্ত বিষয়ের বই ছিল কুমারের লাইব্রেরিতে। ১৯৪৫ থেকে নির্মলচন্দ্র কুমারের মৃত্যু ১৯৭৮ পর্যন্ত প্রায় তিন দশক ধরে কলকাতার উজ্জ্বল মানুষদের আনাগোনা ছিল সেখানে। সত্যজিৎ রায়ও আসতেন কুমারের লাইব্রেরিতে। নির্মল চন্দ্র যদিও বলতেন কুমার বুক স্টল আসলে এটি ছিল লাইব্রেরি। কলকাতার প্রথম অ্যাণ্টিকুইরিয়ন ছিলেন নির্মলচন্দ্র কুমার। পুরনো জিনিস বিভিন্ন অকশন হাউস থেকে কেনা ছিল তাঁর অন্যতম নেশা। সত্যজিৎ যখন ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ তৈরি করছেন, তখন রিসার্চের কাজের অনেকটাই করেছেন নির্মলচন্দ্র কুমার। এমনকী ইংল্যাণ্ডের একটি অকশন হাউস থেকে সিপাহী বিদ্রোহের স্ক্র্যাপ বুকও কিনে আনেন নির্মলচন্দ্র কুমার। অধ্যাপক অলক কুমার তাঁর ব্লগে লিখছেন আর পি গুপ্ত, যিনি সাঁটুল গুপ্ত নামে জনপ্রিয় ছিলেন, সেই আর পি-র মতে সত্যজিৎ ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ তৈরিতে কুমারের সেই সাহায্য ভোলেননি। তিনি তাঁর সৃষ্টি ‘ফেলুদা’তে নির্মল কুমারকে অমর করে দিয়েছেন সিদ্ধেশ্বর বোসের চরিত্রে। সিধু জ্যাঠা এবং নির্মল চন্দ্র কুমারের, দুজনেরই তুলনা করা হয় আর একজন প্রবাদপ্রতিম গ্রন্থানুরাগীর সঙ্গে-তিনি জর্জ লুইস বোর্জেস।