Trinamool Councilor: ‘তুই এখনও আমাকে চিনিস না’, সিঙারার চাটনি না দেওয়ায় এক চড়ে দোকানের ছাপোষা কর্মীকে মাটিতে ফেলে দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর
Trinamool Councilor: এদিকে গোটা ঘটনায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। বীরভূমে তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলছেন, “আমরা এ ঘটনার নিন্দা করছি। এটা পুরোটাই মানসিকতার ব্যাপার। উনি কথায় কথায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন।”

দুবরাজপুর: শহর হোক বা পাড়া-গাঁ, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি-গুন্ডামির অভিযোগ বারবার ওঠে। তাই বলে সিঙাড়ার চাটনি নিয়েও তৃণমূল কাউন্সিলরের দাপাদাপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বীরভূমের দুবরাজপুরে দেখা গেল ব্যাপক উত্তেজনা। সিঙারার দোকানের দোকানের কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। কিন্তু ঠিক কী থেকে এত কাণ্ড?
দুবরাজপুর পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্মশানে কালী মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি সিঙারার দোকান। সূত্রের খবর, সেখানেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গিয়েছিলেন দুবরাজপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ নাজিরউদ্দিন। তিনটি সিঙারা কেনেন তিনি। তাঁকে সিঙারার সঙ্গে একটি চাটনির প্যাকেট দেন দোকানের কর্মী। নেতা আরও একটি চাটনির প্যাকেট চান। অভিযোগ, নেতা সেটা দিতে না পারায় দোকানের ওই কর্মীকে মারধর করেন তৃণমূল নেতা।
জিতেন্দ্রনাথ সাহা নামে ওই আক্রান্ত কর্মী বলছেন, “আমি বলি স্যার অতিরিক্ত চাটনি দিতে পারব না। তিনটি সিঙারার সঙ্গে একটাই চাটনি দেওয়া হয়। হবে না বলতেই আমাকে এক চড় মারেন। আমি উল্টে মাটিতে পড়ে যাই। আমি ওনাকে প্রশ্ন করি যে আমি কী অন্যায় করেছি যে আমাকে মারলেন? উনি তখন বলেন তুই এখনও আমাকে চিনিস না!”
ঘটনার জেরে এলাকার বাসিন্দারা পথ অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন। এদিকে এলাকায় খোঁজ নিলেই জানা যাচ্ছে, বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন এই তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁর বিরুদ্ধে নার্সকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের গায়েও হাত। দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সেই ঘটনায় গ্রেফতারও হন তিনি। বর্তমানে জামিনে ছাড়া পেয়ে বাইরে রয়েছেন তিনি। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এত কিছুর পরেও দাদাগিরির অভিযোগ ছাড়তে পারেননি শাসক নেতা। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটকও করে পুলিশ। যদিও পরবর্তীতে দুই পক্ষের মীমাংসার পর তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে গোটা ঘটনায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। বীরভূমে তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলছেন, “আমরা এ ঘটনার নিন্দা করছি। এটা পুরোটাই মানসিকতার ব্যাপার। উনি কথায় কথায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আমরা দল থেকে বোঝাব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় ওনার সঙ্গে কথা বলবেন।”





